সিনেমার গল্পকে হার মানানো বাস্তব ঘটনা। ২০১১ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত লেডিস ভার্সেস রিকি বহেল ছবিতে একাধিক মহিলার সঙ্গে প্রতারণার ফাঁদ পেতেছিলেন হিরো। এবার বাস্তবের রিকি বহেলকে গ্রেপ্তার করল দিল্লি সাইবার পুলিশ। অভিযোগ, তিনি ৫০০-রও বেশি মহিলার সঙ্গে প্রতারণা করে তাঁদের কাছ থেকে প্রায় ২ কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। অভিযুক্ত ব্য়ক্তির নাম আনন্দ কুমার। তিনি পশ্চিমবঙ্গের উত্তর ২৪ পরগনার বাসিন্দা
আরও পড়ুন:
তদন্তে নেমে পুলিশ জানতে পারে, বিভিন্ন ডেটিং ও ম্যাট্রিমনিয়াল অ্যাপের মাধ্যমো ভুয়ো পরিচয়ে মহিলাদের সঙ্গে যোগাযোগ করতেন আনন্দ। কখনও নিজেকে চিকিৎসক, কখনও ব্যবসায়ী, কখনও চলচ্চিত্র প্রযোজক বা আইনজীবী বলে পরিচয় দিতেন। ধীরে ধীরে সম্পর্ক গড়ে তুলে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিতেন। কয়েকটি ঘটনায় মডেলিংয়ের সুযোগ বা নামী কলেজে ভর্তির প্রলোভনও দেখাতেন। এরপর
সম্পর্ক গাঢ় হওয়া শুরু করলে অসুস্থতা, ব্যবসায় লোকসান বা পারিবারিক সমস্যার অজুহাতে টাকা দাবি করতেন অভিযুক্ত। টাকা হাতে পেলেই হঠাৎ মহিলাদের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে দিতেন।
এক মহিলার অভিযোগের ভিত্তিতে এই প্রতারণার ঘটনা সামনে আসে। অভিযোগকারী জানান, ‘বৈভব অরোরা’ নামে একটি ইনস্টাগ্রাম প্রোফাইল থেকে তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন আনন্দ। এরপর তাঁর কাছ থেকে প্রায় ৭ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেন তিনি। ডেটিং অ্যাপেই তাঁদের পরিচয় হয়েছিল। এরপর ইনস্টাগ্রাম ও হোয়াটসঅ্যাপে কথোপকথন শুরু হয়। বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে বিভিন্ন অজুহাতে টাকা নিতে থাকেন অভিযুক্ত। পরে টাকা ফেরত চাইলে যোগাযোগ বন্ধ করে দেন। এই অভিযোগের ভিত্তিতে একটি বিশেষ তদন্তকারী দল গঠন করে দিল্লি সাইবার পুলিশ। মোবাইল নম্বর, সোশাল মিডিয়া অ্যাকাউন্ট ও আর্থিক লেনদেন খতিয়ে দেখে জানা যায়, বৈভব অরোরার আসল নাম আনন্দ কুমার। তাঁকে গ্রেপ্তার করতে একাধিকবার রাজ্যে অভিযান চালানো হয়। অবশেষে তাঁকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
জানা গিয়েছে, একাধিক নামে ভুয়ো প্রোফাইল তৈরি করতেন আনন্দ। ডা. রোহিত বহেল, তরুণ, আনন্দ শর্মা, এমনকি শিখা নামেও প্রোফাইল ছিল তাঁর। পুলিশের নজর এড়াতে একাধিক মোবাইল ফোন ও সিম কার্ড ব্যবহার করতেন তিনি। অভিযুক্তের কাছ থেকে চারটি মোবাইল ফোন, আটটি সিম কার্ড, তিনটি ডেবিট কার্ড এবং প্রতারণার টাকায় কেনা সোনার গয়না উদ্ধার হয়েছে। তদন্তে নেমে আধিকারিকরা জানতে পারেন, প্রতারণার টাকার একটি বড় অংশ তিনি অনলাইন গেমিং ও বিলাসবহুল জীবনযাপনে খরচ করতেন।
পুলিশ জানিয়েছে, এর আগেও দিল্লি ও গাজিয়াবাদে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে একই ধরনের একাধিক মামলা দায়ের হয়েছিল। এই প্রতারণা চক্রে আর কেউ জড়িত রয়েছেন কি না তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
-
দৈনিক প্রায় লাখ টাকার তোলাবাজি! নাগালে পেয়েই তৃণমূল নেতাকে ‘ডিম থেরাপি’, জুটল গণধোলাই
-
খুনের চেষ্টা-সহ একাধিক ধারা, মোথাবাড়ি মামলায় ২৩ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট এনআইএ-র
-
মোদির আমেরিকা সফরের পরেই ভারতে আসবেন ট্রাম্প! জানালেন মার্কিন রাষ্ট্রদূত গোর
-
হার্ট অ্যাটাকের পর ২৭ কেজি ওজন কমালেন অনুরাগ কাশ্যপ, কেন ক্র্যাশ ডায়েট নিয়ে সতর্ক করছেন চিকিৎসকেরা?
-
ব্যবসায়িক স্বার্থেই বিশ্বকাপে হাইড্রেশন ব্রেক! বিরক্ত স্কালোনি-টুখেলরা, বিতর্কে মুখ খুলল ফিফা