West Bengal Assembly Election

বঙ্গ নির্বাচনে প্রার্থী ঝাড়খণ্ডের প্রাক্তন উপমুখ্যমন্ত্রী! ‘জেতাতেই হবে’, বিজেপি নেতাদের নির্দেশ নয়াদিল্লির

বাঘমুন্ডি বিধানসভা কেন্দ্রের তুলিন ও বাঘমুন্ডিতে জোড়া কর্মী সভা করে যান আজসু প্রধান তথা ঝাড়খণ্ডের প্রাক্তন উপমুখ্যমন্ত্রী সুদেশ মাহাতো। দুটি কর্মী সম্মেলন থেকেই পরিযায়ী শ্রমিক নিয়ে তৃণমূল সরকারকে বিঁধে এই বিস্তীর্ণ এলাকার জনজাতি তথা প্রান্তিক মানুষজনের মন জয় চেষ্টা করতে চাইছেন আজসু সুপ্রিমো।

সুমিত বিশ্বাস
সুমিত বিশ্বাস

শেষ আপডেট: ফেব্রুয়ারি ২৪, ২০২৬, ২০:৪৭

options
link
বঙ্গ নির্বাচনে প্রার্থী ঝাড়খণ্ডের প্রাক্তন উপমুখ্যমন্ত্রী! ‘জেতাতেই হবে’, বিজেপি নেতাদের নির্দেশ নয়াদিল্লির
বাঘমুন্ডিতে কর্মী সম্মেলনে আজসু সুপ্রিমো সুদেশ মাহাতো।

একুশের পুনরাবৃত্তি আর নয়! দ্বন্দ্ব ভুলে জেতাতে হবে শরিককেই। এখন থেকেই নীল নকশা সাজাতে হবে। দিল্লির কড়া বার্তায় বাঘমুন্ডি নিয়ে মন ভেঙে গিয়েছে পুরুলিয়া জেলা বিজেপি থেকে বাঘমুন্ডি বিজেপি নেতৃত্ব-র। নিচু তলার কর্মীদের কি জবাব দেবেন বুঝে উঠতে পারছে না বিজেপি নেতৃত্ব। তাৎপর্যপূর্ণভাবে এই বিধানসভা কেন্দ্রেরই ভোটার রাজ্য বিজেপির সাধারণ সম্পাদক তথা পুরুলিয়ার সাংসদ জ্যোতির্ময় সিং মাহাতো। এমনকী এই বিধানসভা কেন্দ্রে বাড়ি তথা ভোটার জেলা বিজেপি সভাপতি শঙ্কর মাহাতোরও। তেইশের পঞ্চায়েত নির্বাচনের পর থেকে জেলা পরিষদের যে তরুণ সদস্য রাকেশ মাহাতো বাঘমুন্ডি আসনে পদ্মপ্রার্থী হিসাবে প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছিলেন। সেই আশায় এখন শুধুই হতাশা। প্রশ্ন উঠছে, সাংসদ থেকে জেলা সভাপতি যে বিধানসভা কেন্দ্রের ভোটার সেখানেই লড়বে না বিজেপি? দলের নিচুতলার কাছে তাঁরা এই প্রশ্নের মোকাবিলা কীভাবে করবেন? সেটাই বুঝতে পারছেন না জেলা নেতৃত্ব।

Advertisement

গত রবিবার বাঘমুন্ডি বিধানসভা কেন্দ্রের তুলিন ও বাঘমুন্ডিতে জোড়া কর্মী সভা করে যান আজসু প্রধান তথা ঝাড়খণ্ডের প্রাক্তন উপমুখ্যমন্ত্রী সুদেশ মাহাতো। দুটি কর্মী সম্মেলন থেকেই পরিযায়ী শ্রমিক নিয়ে তৃণমূল সরকারকে বিঁধে এই বিস্তীর্ণ এলাকার জনজাতি তথা প্রান্তিক মানুষজনের মন জয় চেষ্টা করতে চাইছেন আজসু সুপ্রিমো। এবার ‘পাকা কলা’ প্রতীকে বাঘমুন্ডি আসন থেকে নিজেই লড়বেন ঝাড়খণ্ড-র ‘সিল্লি বয়’ সুদেশ মাহাতো, এমনটাই খবর। তবে তাঁর কথায়, “জোটের হয়ে পার্টি লড়বে। সাংগঠনিক প্রস্তুতি চলছে।”

Advertisement

গত রবিবার বাঘমুন্ডি বিধানসভা কেন্দ্রের তুলিন ও বাঘমুন্ডিতে জোড়া কর্মী সভা করে যান আজসু প্রধান তথা ঝাড়খণ্ডের প্রাক্তন উপমুখ্যমন্ত্রী সুদেশ মাহাতো। দুটি কর্মী সম্মেলন থেকেই পরিযায়ী শ্রমিক নিয়ে তৃণমূল সরকারকে বিঁধে এই বিস্তীর্ণ এলাকার জনজাতি তথা প্রান্তিক মানুষজনের মন জয় চেষ্টা করতে চাইছেন আজসু সুপ্রিমো।

তিনি যে এবার বাঘমুন্ডি বিধানসভা থেকে প্রার্থী হবেন তা পুরুলিয়ার রাজনৈতিক মহলে জুলাই-আগস্ট মাসেই পরিষ্কার হয়ে গিয়েছে। চূড়ান্ত ভোটার তালিকায় বাঘমুন্ডি বিধানসভা কেন্দ্রের ঝালদা ১ নম্বর ব্লকের ৫২ নম্বর বুথ তুলিন বালিকা প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নাম থাকবে ঝাড়খণ্ডের বাসিন্দা আজসু সুপ্রিমোর। এমনটাই জানা গিয়েছে আজসু (অল ঝাড়খণ্ড স্টুডেন্টস ইউনিয়ন) সূত্রে। ফলে শরিক সুপ্রিমো যেখানে প্রার্থী, সেখানে বিজেপির তরফে একুশের বিধানসভার মতো কোনও রকম অসহযোগিতা যাতে না করা হয় সেই বার্তা দিল্লি থেকে বঙ্গ বিজেপি মারফৎ পুরুলিয়া নেতৃত্বকে দেওয়া হয়েছে। এমনকী কোনও বিরোধীতাও যে সহ্য নয় তাও জানানো হয়েছে। যদিও বিজেপির জেলা সভাপতি শঙ্কর মাহাতো বলেন, ” কে কোথায় প্রার্থী হবেন সেটা দলের বিষয়। দল যা নির্দেশ দেবে আমরা তা মানতে বাধ্য। “

Advertisement

বঙ্গ বিজেপি সূত্রেই খবর, সম্প্রতি আজসু এ রাজ্যের বিধানসভা ভোটে লড়ার জন্য দুটি আসন দাবি করেছিল। একটি বাঘমুন্ডি আর একটি বান্দোয়ান। কারণ জঙ্গলমহল বান্দোয়ানে বিজেপির কোন সংগঠন নেই। ফলে আজসু আশা করেছিল ঝাড়গ্রাম লোকসভার অধীনে থাকা পুরুলিয়ার বান্দোয়ান আসনটি বিজেপি শরিক আজসুকে ছেড়ে দিতে পারে। কিন্তু তাতে রাজি হয়নি দিল্লি। বাংলার যে কোনো একটি আসন থেকেই আজসুকে লড়তে হবে। ফলে সুদেশ মাহাতোর প্রথম পছন্দ বাঘমুন্ডি। ঝাড়খণ্ডের রাজনৈতিক মহলের মতে, যেহেতু সুদেশ বাঘমুন্ডি বিধানসভাতে লড়বেন তা আগে থেকেই নিশ্চিত। তাই আরেকটি আসন বিজেপির কাছে দাবি করে বসেন। কিন্তু শরিক আজসুকে একেবারে মুখের ওপর না বলে দেওয়া হয়েছে।

বঙ্গ বিজেপি সূত্রেই খবর, সম্প্রতি আজসু এ রাজ্যের বিধানসভা ভোটে লড়ার জন্য দুটি আসন দাবি করেছিল। একটি বাঘমুন্ডি আর একটি বান্দোয়ান। কারণ জঙ্গলমহল বান্দোয়ানে বিজেপির কোন সংগঠন নেই। ফলে আজসু আশা করেছিল ঝাড়গ্রাম লোকসভার অধীনে থাকা পুরুলিয়ার বান্দোয়ান আসনটি বিজেপি শরিক আজসুকে ছেড়ে দিতে পারে। কিন্তু তাতে রাজি হয়নি দিল্লি।

পুরুলিয়ার ঝালদা পেরিয়ে সুবর্ণরেখা নদীর ওপারে রাঁচি জেলার সিল্লি থানার লাগাম গ্রামে আস্তানা সুদেশের। সুবর্ণরেখা নদীর ওপারে ঝাড়খণ্ডের বাসিন্দা হলেও এই কুড়মি নেতার সঙ্গে পুরুলিয়ার ঝালদা, বাঘমুন্ডি, কোটশিলার বহুদিনের আত্মীয়তা। যখন থেকে তিনি ঝাড়খণ্ড আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত তখন থেকে তিনি ঝাড়খন্ড ছুঁয়ে থাকা বাংলার ছোটনাগপুর মালভূমির পুরুলিয়ার এই অংশের সঙ্গে ধারাবাহিক যোগাযোগ। তাই শুধু রাজনৈতিক নয়, সামাজিক কর্মসূচিতেও সুদেশ বারেবারে ঝালদা-বাগমুন্ডিতে আসেন। তবে ২০২৫-র মাঝামাঝি থেকে সেই আসা-যাওয়া আরও বেড়েছে। সেই কারণেই একুশের ভোটে বিজেপির তুমুল বিরোধিতা, বিক্ষোভের পরেও দ্বিতীয় স্থানে ছিল ‘কলা ছাপে’র প্রতীকে দাঁড়ানো আজসু। তৃতীয় স্থানে ছিল কংগ্রেসের নেপাল মাহাতো। যিনি এক সময়ে এই কেন্দ্রের বিধায়ক ছিলেন। এর থেকেই বোঝা যায় পুরুলিয়ার এই অংশে আজসু -র দাপট। ১৩, ৯৬৯ ভোটে তৃণমূলের চেয়ে পিছিয়ে ছিল ‘পাকা কলা’ প্রতীকের প্রার্থী।

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Share this article on

The article link is copied.