Jhargram

অভিমুখ না বুঝে তাড়ানোয় বাড়ছে দলছুট হাতির সংখ্যা ঝাড়গ্রামে! দাবি প্রাক্তন বনকর্তার

সঠিকভাবে হাতির দলকে তাড়ানো হচ্ছে না, বলছেন প্রাক্তন বনকর্তা

সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: ফেব্রুয়ারি ৮, ২০২৫, ১৬:১৭

options
link
অভিমুখ না বুঝে তাড়ানোয় বাড়ছে দলছুট হাতির সংখ্যা ঝাড়গ্রামে! দাবি প্রাক্তন বনকর্তার
ফাইল ছবি

সুনীপা চক্রবর্তী, ঝাড়গ্রাম: দাঁতাল কোনদিকে যেতে চায় তা না বুঝেই তাড়াতে গিয়ে দলছুট হচ্ছে হাতি। আর এতেই ক্রমাগত বিভ্রান্ত হয়ে শহরের দিকে চলে আসছে তারা। বৃহস্পতিবারের পর শুক্রবারও দলছুট হাতিটিকে বাগে আনতে বা তাকে শহর থেকে দূরে সরাতে পারা যায়নি। বৃহস্পতিবার হাতিটিকে শহরের কাছ থেকে সরাতে এবং হাতি-মানুষের মধ্যে যাতে কোনও সংঘাত না হয়, তার জন্য নজিরবিহীনভাবে পুলিশ ১৬৩ ধারা জারি করেছিল। দিনভর চেষ্টার পর রাতের দিকে শহরের কাছ থেকে তথা নহরখালের দিক থেকে লালগড়ের রাস্তা ধরানো হয়েছিল দাঁতালটিকে। কিন্তু হাতিটি সেদিকে না গিয়ে আবারও ফিরে আসে নহরখাল এলাকায়।

Advertisement

বনদপ্তর সূত্রে খবর, তবে এদিন ঝাড়গ্রাম শহর থেকে তিন-চার কিমির মধ্যে শিকড়াখালি, রামচন্দ্রপুর এলাকায় রয়েছে দাঁতালটি। তবে হাতিটির অভিমুখ ঝাড়গ্রাম শহরের দিকেই। জোড়াখালি, ছোট রামচন্দ্রপুর, ভরতপুর, কন্যাডোবা, নতুনডিহি, জারালাটা এলাকার মানুষদের সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে বনদপ্তরের পক্ষ থেকে। সন্ধ্যার পর বাড়ির বাইরে পা রাখতে নিষেধ করা হয়েছে। বনদপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, দলছুট এই হাতিটি খুবই আক্রমণাত্মক। মানুষ দেখলেই তাড়া করছে।

Advertisement

উল্লেখ্য, ২০২২ সালের ২৪ আগস্ট ঝাড়গ্রাম শহরে কন্যাডোবা এলাকায় রাতে হাতির আক্রমণে তিনজনের মৃত্যু হয়েছিল। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও একজনের মৃত্যু হয়। সেই ঘটনার পরও টনক নড়েনি বনদপ্তরের। বারবার শহরের কাছাকাছি চলে আসছে হাতি। ঝাড়খণ্ড রাজ্যের সীমানা দিয়ে হাতি ঢুকলে বরাবর জামবনি ঝাড়গ্রাম হয়ে মানিকপড়ার কাছে হয় মেদিনীপুরের চাঁদড়া বা খড়গপুরের কলাইকুণ্ডার দিকে তাড়িয়ে দেওয়া হয়। কলাইকুণ্ড থেকে নয়াগ্রাম হয়ে ওড়িশার দিকে চলে যায় হাতি। কিন্তু অভিযোগ, বর্তমানে হাতির দলকে সব সময় ওই রুটে না পাঠিয়ে ফের জামবনি ব্লকের পড়িহাটি রেঞ্জ দিয়ে লালগড় নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। হাতির অভিমুখ বুঝে তাড়ানো হচ্ছে না বলে অভিযোগ। এর ফলে দল থেকে বেশকিছু হাতি ছড়িয়ে ছিটিয়ে যাচ্ছে। বনদপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, দল হাতিকে তাড়ানো করানো অনেকটাই সহজ। কিন্তু হাতি বিক্ষিপ্ত হয়ে গেলে সঠিক ডিরেকশন বা অভিমুখে নিয়ে যেতে সমস্যা হয়।

Advertisement

ঝাড়গ্রাম বনবিভাগের প্রাক্তন বনকর্তা সমীর মজুমদার বলেন, “সঠিকভাবে হাতির দলকে তাড়ানো হচ্ছে না। ফলে দিকভ্রান্ত হয়ে পড়ছে হাতি। আর হাতির অভিমুখ না বুঝে তাড়ানোর ফলে দলছুট হাতির সংখ্যা বাড়ছে। আর এই দলছুট হাতিকে যদি চারদিক দিয়ে ঘিরে তাড়ানো হয়, তাহলে সেটি আরও বিভ্রান্ত হয়ে পড়ে।” অন্যদিকে, ঝাড়গ্রামের ডিএফও উমর ইমামকে ফোন করা হলে তিনি ফোন ধরেননি। এদিকে, এদিন শহরের কাছে হাতিটি থাকায় শহরবাসী আতঙ্কিত হয়ে পড়েন।

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Share this article on

The article link is copied.