সব্যাসাচী ভট্টাচার্য, শিলিগুড়ি: ‘রাজ্যপাল সাংবিধানিক প্রধান। যদি দেখি সংবিধান বিপন্ন হচ্ছে, তাহলে আমরা নিশ্চিত করে রাজ্যপালের কাছেই যাব।’ মনোনয়নকে কেন্দ্র করে ওঠা বিতর্কের পরিপ্রেক্ষিতে বিজেপির তরফে একথাই বললেন মুকুল রায়। বৃহস্পতিবার দলের সাংগঠনিক বৈঠকে যোগ দিতে শিলিগুড়িতে এসেছেন মুকুলবাবু। বাগডোগরা বিমানবন্দর থেকে বেরনোর সময় সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে বিতর্কে জল ঢেলে দেন এই পূর্বতন তৃণমূলনেতা।
[মনোনয়নের চতুর্থদিনে ধুন্ধুমার নলহাটিতে, বিডিও অফিসের সামনে বোমাবাজি]
এদিন মুকুল রায় বলেন, ‘মনোনয়নকে কেন্দ্র করে ভারতবর্ষের মধ্যে একমাত্র এই রাজ্য গণতন্ত্রের বলাৎকার হচ্ছে। সারা বাংলায় গণতন্ত্র আজ ধর্ষিতা। এককথায় বাংলা রক্তাক্ত হচ্ছে। সমস্ত জায়গা মিলিয়ে আজকে বাংলার বুকে দাঁড়িয়ে যেটা চলছে, কোচবিহারে, পুরুলিয়ায় আক্রমণ হচ্ছে। বাঁকুড়ায় একটা তফসিলি উপজাতি সম্প্রদায় ভুক্ত ছেলেকে গুলি করা হয়েছে। ছেলেটি প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন জমা দিতে যাচ্ছিল। সেই সময় ঘটনাটি ঘটেছে। সারা বাংলায় গণতন্ত্রের উপরে বলাৎকার চলছে। সাংবাদিকরা নিগৃহীত হচ্ছে। দেশের একমাত্র রাজ্য যেখানে গণতন্ত্র ধর্ষিতা হচ্ছে।’
তৃণমূলের মনোনয়ন জমা দেওয়ার পরিসংখ্যান তথ্য নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন মুকুল। শাসকদলের তরফে দাবি করা হয়েছিল, ‘এখনও পর্যন্ত সব থেকে বেশি মনোননয়ন জমা দিয়েছে বিজেপি। মুকুল রায় সাফ জানিয়েছেন, এই পরিসংখ্যানের বিরুদ্ধেও মামলা হওয়া উচিত। সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী এখনও পর্যন্ত ভারতীয় জনতা পার্টির চাইতে সর্বোভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেস মনোনয়নের অনেক বেশি মনোনয়ন জমা দিয়েছে। বিজেপিকে মনোনয়ন জমা দিতে দেওয়া হয়নি। যিনি বলছেন, তিনি সর্বৈব মিথ্যে বলছেন। তিনি কোনও পদে থাকলে এখনই পদত্যাগ করা উচিত।’
রাজভবনকে কেন্দ্র করে রাজ্য রাজনীতিতে যে জলঘোলা হয়েছে, তা নিয়েও বক্তব্য স্পষ্ট করে দিয়েছেন মুকুল রায়। সংবিধান বিপন্ন হলে বিজেপি যে রাজ্যপালের কাছেই যাবে, তা আরও একবার নিশ্চিত করে দেওয়া হল। এদিকে বুধবারই শাসক তৃণমূলকে সমর্থন করার কথা জানিয়েছে কামতাপুরি প্রগ্রেসিভ পার্টি (কেপিপি)। বিগত নির্বাচনেও কেপিপি যে শাসকদলের সঙ্গে ছিল, তা মনে করিয়ে দিয়েছেন মুকুল। তাই বিজেপির কাছে এটি নতুন নয়। এরফলে স্পষ্ট সমীকরণ হতে চলেছে, গোর্খা জনমুক্তি মোর্চা বিজেপিক সমর্থন করবে। তরাই ডুয়ার্স অঞ্চলে আগে বিজেপির আঁতাঁত হয়েছে। তবে এবারও তারা বিজেপির সঙ্গে আসবে কিনা তা গোর্খাকেই ঠিক করতে হবে। বৃহস্পতিবার দলের সাংগঠনিক বৈঠকে যোগ দিতে শিলিগুড়িতে এসেছেন তিনি। আসন্ন পঞ্চায়েত নির্বাচনে ঠিক কীভাবে লড়লে শাসক তৃণমূলের মোকাবিলা করা যাবে, সেই দাওয়াই বাতলে দিতেই একদা তৃণমূলের সেকেন্ড ইন কম্যান্ডের এখানে আগমন। এমনটাই খবর।
[পঞ্চায়েত ভোটের প্রথম বলি বাঁকুড়ায়, দুষ্কৃতী হামলায় মৃত বিজেপি নেতা]
সর্বশেষ খবর
-
মহানায়কের জন্ম শতবর্ষে বর্ণাঢ্য আয়োজনে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু, রাজ্যজুড়ে ৪ দিনব্যাপী উত্তম-স্মরণ
-
এল নিনোয় বৃষ্টির ঘাটতি দেশে, বাংলায় বর্ষণ বেশি
-
ভোররাতে ক্যামাক স্ট্রিটের অফিসে দুষ্কৃতী তাণ্ডব! ভিডিও পোস্ট করে অভিযোগ অভিষেকের
-
হরমুজ এবার ট্রাম্প প্রণালী! ইরানের সঙ্গে উত্তেজনার মাঝেই গর্জন মার্কিন প্রেসিডেন্টের
-
কখনও জলে ডুবে, কখনও ঠায় শুয়ে, আচমকা কী হল ‘রামলালে’র?