Pradip Sarkar

বড় দায়িত্ব দিয়েছিলেন মমতা, ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই তৃণমূল ছেড়ে জুনকে নেত্রী মানলেন সেই প্রদীপ

তিনি খড়গপুর পুরসভার ২০ নম্বর ওয়ার্ডের ওল্ড সেটেলমেন্ট এলাকায় নিজের কার্যালয় থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সমস্ত ছবি সরিয়ে দেন।

অংশুপ্রতীম পাল
অংশুপ্রতীম পাল

শেষ আপডেট: জুন ১৭, ২০২৬, ১৮:১৮

options
link
বড় দায়িত্ব দিয়েছিলেন মমতা, ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই তৃণমূল ছেড়ে জুনকে নেত্রী মানলেন সেই প্রদীপ
১৭ জুন, বুধবার। পদত্যাগপত্র হাতে প্রদীপ সরকার। নিজস্ব ছবি।

চতুর্দিক থেকে তৃণমূলে ভাঙন। পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার সাধারণ সম্পাদক হিসেবে মঙ্গলবারই প্রদীপ সরকারকে (Pradip Sarkar) দায়িত্ব দিয়েছিলেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আর বুধবারই নতুন পদ নিতে অস্বীকার করে তৃণমূল ছাড়ার কথা জানালেন প্রাক্তন বিধায়ক। পাশাপাশি এইদিন তিনি দলের জেলা সাধারণ সম্পাদকের পদ থেকে ইস্তফা দিয়ে দলের রাজ্য সভাপতি চন্দ্রিমা ভট্টাচার্যের কাছে চিঠি পাঠান তিনি। চিঠিতে তিনি উল্লেখ করেন, ব্যক্তিগত কারণে তিনি পদত্যাগ করছেন। কিন্তু সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি একাধিক অভিযোগ তোলেন। মমতা নন, মেদিনীপুরের সাংসদ জুন মালিয়াকে (June Malia) নিজের নেত্রী হিসেবে ঘোষণা করেন প্রদীপ।

Advertisement

এদিন তিনি খড়গপুর পুরসভার ২০ নম্বর ওয়ার্ডের ওল্ড সেটেলমেন্ট এলাকায় নিজের কার্যালয় থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সমস্ত ছবি সরিয়ে দেন। যদিও এই ব্যাপারে কোনও মন্তব্য করতে রাজি হননি তৃণমূলের পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার সদ্য মনোনীত সভাপতি তথা জেলা পরিষদের সহ সভাপতি ও প্রাক্তন বিধায়ক অজিত মাইতি।

Advertisement

তবে বুধবার প্রদীপ একটি সাংবাদিক সম্মেলনে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে রীতিমতো ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “আমাকে গত ২০২২ সালে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশে খড়গপুরের পুরপ্রধান পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছিল। এই বিষয়টি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানতেন না। আর আমি কারণ জানতে চাইলেও আজ পর্যন্ত কারণ জানানো হয়নি।” তিনি রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ও খড়গপুর শহরের বিধায়ক তথা রাজ্যের পঞ্চায়েত ও কৃষি বিপণন মন্ত্রী দিলীপ ঘোষের প্রশংসা করেন। যদিও আগামিদিনে তিনি কোন দলে যোগ দেবেন তা খোলসা করেননি প্রদীপ।

Advertisement

প্রদীপ বলেন, “তৃণমূল ছেড়ে দিলেও আমি রাজনীতিতে থাকব। তার সঙ্গে এখন কাউন্সিলর হিসেবে কাজ চালিয়ে যাব। পরে কী হবে দেখা যাবে।” এদিন তিনি মেদিনীপুরের সাংসদ জুন মালিয়াকে নিজের নেত্রী হিসাবে ঘোষণা করে বলেন, “এই ব্যাপারে জুন মালিয়ার সঙ্গে আমার কথা হয়েছে।” তিনি বলেন, “রাজ্যে শুভেন্দু অধিকারী ও খড়গপুরে দিলীপ ঘোষের নেতৃত্বে উন্নয়ন হবে। আর সেই উন্নয়নে আমি শামিল হতে চাই।” পাশাপাশি তিনি গত ২০২১ ও এবারের বিধানসভা নির্বাচনে পরাজয়ের পিছনে দলের একটি অংশের অন্তর্ঘাতের অভিযোগ তোলেন। এভাবে দলে থেকে কী লাভ সেই প্রশ্নও তোলেন তিনি।

সম্প্রতি, মেদিনীপুরের সাংসদ জুন মালিয়া-সহ তৃণমূলের ২০ জন সাংসদ ত্রিপুরার রাজনৈতিক দল এনসিপিআইয়ের সঙ্গে মিশে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এই প্রস্তাব তাঁরা স্পিকার ওম বিড়লার কাছেও জমা দিয়েছেন। এই আবহে তৃণমূল ছেড়ে জুনকে নেত্রী হিসেবে ঘোষণা করলেন প্রদীপ সরকার।

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Share this article on

The article link is copied.