চিন ভারত

ভারতীয়দের পক্ষে ‘সস্তা’ চিনা পণ্য বয়কট সম্ভব নয়! দাবি সেদেশের সরকারি সংবাদমাধ্যমের

বয়কট চাইনার বুলিই সার, লোভ সামলাতে পারবে না ভারতীয়রা, দাবি গ্লোবাল টাইমসের।

Advertisement
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: জুন ৯, ২০২০, ১৩:০৭

options
link
ভারতীয়দের পক্ষে ‘সস্তা’ চিনা পণ্য বয়কট সম্ভব নয়! দাবি সেদেশের সরকারি সংবাদমাধ্যমের
ফাইল চিত্র।

সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: চিনা পণ্যের প্রতি ভারতীয়দের আগ্রহ এবং লোভ কিছুতেই কমবে না। লাদাখে সংঘাতের আবহে ভারতীয়রা যতই দেশপ্রেম দেখান না কেন, চিনা পণ্যের প্রতি ভারতীয়রা
নিজেদের আগ্রহ কমাতে পারবেন না। বহু চিনা জিনিসের প্রতি তাঁদের দুর্বলতা রয়েই যাবে। এই দাবি করে বড়সড় প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে চিনের বহুল প্রচারিত সরকারি সংবাদমাধ্যম গ্লোবাল টাইমস (Global Times)।

Advertisement

India-China-Army-web

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'ফুটবল বিশ্বযুদ্ধ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন
Advertisement

গ্লোবাল টাইমসে চিনা বিশেষজ্ঞদের দাবি, ভারতীয়দের বেশিরভাগই গরিব ও নিম্নমধ্যবিত্ত। অন্যদিকে, বিশ্বের সবচেয়ে বেশি মধ্যবিত্তের বাসও ভারতেই। মানসিক গঠন ও চাহিদা অনুযায়ী ‘সস্তায় পুষ্টিকর’
জিনিস খোঁজেন ভারতীয়রা। প্রযুক্তি হোক বা নিত্যব্যবহার্য জিনিস, কম দামে মোটামুটি টেঁকসই হবে এমন জিনিসের চাহিদা রয়েছে ভারতীয়দের মধ্যে। ভারতীয়রা চেষ্টা করেন, কোনও জিনিস ব্যবহার করে তার দাম বা ক্রয়মূল্যটা যেন উশুল হয়। চিনা পণ্য এই শর্তগুলি পূরণ করে। ফলে চিনা পণ্য যে দামে বা বাড়তি যেটুকু কর দিয়ে ভারতীয়রা কিনছেন তাতে তাঁদের পুষিয়ে যায়। অন্যদিকে, ওই একই পণ্য অন্য বহুজাতিক সংস্থার তৈরি বা ভারতীয় সংস্থার তৈরি এবং তা গুণমানে চিনা পণ্যের থেকে হয়তো ভাল কিন্তু দাম বেশি হওয়ায় তা কোটি কোটি ভারতীয় কিনতে পারেন না। তাই আগামী দিনে, যেখানে করোনা পরবর্তী অর্থনীতি অনেকটাই বিপর্যস্ত, মানুষের হাতে টাকা ও রোজগার নেই, সেখানে ভারতের মতো দেশে চিনা
পণ্যের বিক্রি ও চিনা পণ্যের প্রতি আগ্রহ বাড়বে। এমনটাই মত গ্লোবাল টাইমসের।

Advertisement

[আরও পড়ুন: কবে থেকে করোনার হানা, চাপে পড়ে শ্বেতপত্র প্রকাশ করে জানাল চিন]

কমিউনিস্ট পার্টি ও চিন সরকারের মুখপত্র গ্লোবাল টাইমসের ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চিনকে অপমান করতে, চিনকে বয়কট করে প্রতিশোধ তুলতে, দেশপ্রেমের হাওয়ায় ভারতের মাটিতে সোশ্যাল মিডিয়ায় ট্রেন্ডিং হয়েছে ‘বয়কট চায়না’। কিন্তু তা কার্যকর করা খুব কঠিন। কারণ অজস্র চিনা পণ্যের বিকল্প এখনও ভারত নিজেই তৈরি করতে পারেনি। স্মার্টফোন, মোবাইল অ্যাপ, ল্যাপটপ, ক্যামেরা ছাড়াও অজস্র প্রযুক্তির যন্ত্রাংশের ক্ষেত্রে ভারত-সহ বহু দেশ চিনের উপরেই নির্ভরশীল। খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ, খনি শিল্পে ব্যবহার্য ভারী যন্ত্রাংশ, ছাতা, পেন থেকে গাড়ি, বাড়ি, মেশিন তৈরির অজস্র হার্ডওয়্যার চিন থেকেই আমদানি করে ভারত। ফলে চিনা পণ্য বয়কটের ডাক কার্যক্ষেত্রে ব্যর্থ হতে পারে। চিনা পণ্য বয়কট করলে ধাক্কা খাবেন ভারতীয়রাই। যে সব চিনা পণ্য ভারতীয়রা পছন্দ করেন তা অন্য কারও পক্ষে দেওয়া অসম্ভব। কম দামের জন্যই চিনা পণ্য ভারতীয়রা কেউ পছন্দ করে কেনেন। হাতে অন্য বিকল্প না থাকায় কেউ বা বাধ্য হয়ে কেনেন। কারণ ভারতীয়রা চিনা পণ্যের সবচেয়ে বড় উপভোক্তা।

[আরও পড়ুন: ‘মতপার্থক্য কখনও বিবাদে পরিণত হবে না’, অবশেষে লাদাখ ইস্যুতে নরম সুর চিনের]

উল্লেখ্য, লাদাখে প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখায় (LAC) উত্তেজনার পারদ যত চড়ছে ততই ভারতে জনপ্রিয় হয়েছে চিনা পণ্য বয়কটের ডাক। ফোন থেকে চিনা অ্যাপ মুছে ফেলতে ‘রিমুভ চায়না অ্যাপ’ নামে একটি অ্যাপ বাজারে নিয়ে আসে করে জয়পুরেরে একটি স্টার্ট আপ সংস্থা। যদিও বিধিভঙ্গের অভিযোগে সেই অ্যাপটি প্লে স্টোর থেকে সরিয়ে দেয় গুগল। কিন্তু লঞ্চ করার দু’সপ্তাহে মধ্যেই লক্ষ লক্ষ মানুষ ওই অ্যাপটি ডাউনলোড করে ফেলেন। ফলে ভারতীয়দের মধ্যে চিন বিরোধিতার এবং দেশপ্রেম দেখানোর একটা স্বাভাবিক প্রবণতা রয়েইছে। কিন্তু অনেক বাধ্যবাধকতা থাকায় ভারতীয়রা চাইলেও চিনা পণ্য বয়কট করে থাকতে পারবেন না। কারণ গুণমানে খারাপ হলেও, চিনা পণ্যের বিকল্প এখনও ভারত তৈরি করতেই পারেনি। মেড ইন ইন্ডিয়া বা মেক ইন ইন্ডিয়া পণ্যের পক্ষে সেই জায়গাটা দখল করতে এখনও অনেক সময় লাগবে।

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'ফুটবল বিশ্বযুদ্ধ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Share this article on

The article link is copied.