নবপত্রিকা গণেশের পাশে নয়, থাকে কার্তিকের কাছে। আবার দুর্গার বিসর্জনের আগেই হয়ে যায় মা মনসার বিসর্জন। জমিদারি নেই, কিন্তু জমিদার আমলের সেই ঐতিহ্য আজও অটুট। পুজোর চারদিন যেন হারিয়ে যাওয়া একান্নবর্তী পরিবারকে নতুন করে ফিরিয়ে আনে। সারা বছর যে যেখানেই থাকুন না কেন, দুর্গাপুজোর চারদিন সবাই এক ছাদের তলায়। দুবেলা একসঙ্গে খাওয়া-দাওয়া, আড্ডা আর পুজোর ব্যস্ততায় কুলডিহা চ্যাটার্জী বাড়ি যেন ফের এক হয়ে ওঠে।
প্রায় তিনশো বছরেরও বেশি পুরনো এই বনেদি বাড়ির দুর্গাপুজোর সূচনা ১১১১ বঙ্গাব্দে। সেই সময় জমিদার জনকিনাথ চট্টোপাধ্যায় এই পুজোর সূচনা করেন। বৈষ্ণব মতে পুজো হওয়ায় এখানে বলির প্রচলন নেই। প্রাচীন রীতি মেনেই আজও পুজো হয়ে আসছে। জমিদারি চলে গিয়েছে বহু আগেই, কিন্তু পুজোর জৌলুসে তার ছাপ আজও স্পষ্ট। কুলডিহার দুর্গামন্দিরের দুই পাশে রয়েছে দুই শিবমন্দির। রয়েছে মা মনসার মন্দির এবং একদিকে রয়েছে রঘুনাথের মন্দির। মুচিপাড়া-শিবপুর রাস্তার ধারে রয়েছে কুলডিহার তালপুকুর, লক্ষ্মীসায়ের। এই পুকুরের জলেই নবপত্রিকার স্নান হয়। তারপর দোলায় করে নবপত্রিকা নিয়ে আসা হয় চট্টোপাধ্যায় বাড়িতে।

এই বাড়ির পুজোর অন্যতম বিশেষত্ব নবপত্রিকা গণেশের পাশে নয়, থাকে কার্তিকের কাছে। শুধু পুজোর রীতিতেই নয়, ভোগের ক্ষেত্রেও রয়েছে আলাদা ঐতিহ্য। বাড়ির পুরুষ সদস্যরাই ভোগ রান্না করেন। সপ্তমীর দিন সাত সের চালের ভাত, সাত রকম ভাজা, তরকারি, ডাল, চাটনি, লুচি ও পায়েস নিবেদন করা হয়। বর্তমানে পরিবারের সদস্য কিরণ কান্তি চট্টোপাধ্যায়, আকাশ চট্টোপাধ্যায় এবং কুশল চট্টোপাধ্যায় পরিচালনা করেন। বাকি দিনগুলিতে তিন রকম পদের সঙ্গে অন্ন নিবেদন করার রীতি রয়েছে। দশমীতে এই পুজোর ঐতিহ্য আরও অন্যরকম হয়ে ওঠে। দুর্গার দোলা বিজয়ের আগেই হয় মা মনসার বিসর্জন। সন্ধ্যায় পাশের হাজরাপাড়ার মানুষজন জমিদারি আমল থেকে চলে আসা লাঠিখেলার প্রদর্শনী করেন। সেই ঐতিহ্য মেনেই কাঁধে করে প্রতিমা নিয়ে যাওয়া হয় পাশের জানকিবাঁধে। সেখানেই হয় প্রতিমা নিরঞ্জন। বদলেছে অনেক কিছুই। কিন্তু কুলডিহা চট্টোপাধ্যায় বাড়ির দুর্গাপুজোয় আজও থেকে গিয়েছে সেই পুরনো দিনের ঐতিহ্য।

সর্বশেষ খবর
-
১৯৯০ থেকে বেপাত্তা সেনা জওয়ান স্বামী, ৩৬ বছর পর অপহরণের অভিযোগ দায়ের স্ত্রীর!
-
ফের ইন্ডিগোর বিমানে বিপত্তি, এবার বেঙ্গালুরুতে অবতরণের সময় লেজে আঘাত! কেমন আছেন যাত্রীরা?
-
আপাতত স্থগিত ব্যাঙ্ক ধর্মঘট, বৈঠকে রফাসূত্র মিলতেই ঘোষণা কর্মী সংগঠনের, স্বস্তিতে আমজনতা
-
আরটিআইয়ের বাইরে স্বরাষ্ট্র দপ্তর, নির্দেশিকা জারি করেও বাতিল, বিরোধিতার মুখে পিছু হটলেন বিজয়
-
দর্শকদের না-পসন্দ! এবার ‘বিস বস বাংলা’ থেকে ছিটকে গেলেন তাপসকন্যা সোহিনী