Bonedi Barir Durga Puja

মুঘল সম্রাট জাহাঙ্গির পাঠাতেন পুজো, এই বনেদি বাড়ির দেবীদুর্গার বাহনেও রয়েছে চমক

শাক্তমতে পুজো হওয়া এই বাড়ির দুর্গা আরাধনায় রয়েছে একাধিক প্রাচীন রীতি।

স্টাফ রিপোর্টার
স্টাফ রিপোর্টার

শেষ আপডেট: সেপ্টেম্বর ১২, ২০২৬, ১৪:১২

options
link
মুঘল সম্রাট জাহাঙ্গির পাঠাতেন পুজো, এই বনেদি বাড়ির দেবীদুর্গার বাহনেও রয়েছে চমক
বনেদি বাড়ির দেবীদুর্গার বাহন সিংহের বদলে বাঘ। নিজস্ব চিত্র

উৎসব এখানে যেন প্রকৃত অর্থেই ছিল যেন সর্বধর্ম সমন্বয়ের। দুর্গাপুরের লায়ের বাড়ির পুজোয় একসময়  মুঘল সম্রাট জাহাঙ্গির পাঠাতেন পুজো। ইতিহাস, লোককথা আর পারিবারিক পরম্পরাকে সাক্ষী রেখে আজও সমান উৎসাহে দুর্গাপুরের গোপালপুরের লায়েক বাড়ির দুর্গাপুজোর আয়োজন করা হয়।

Advertisement

আজ থেকে প্রায় ৫২৬ বছর আগের কথা। সেই সময় দুর্গাপুরের গোপালপুরের লায়েকবাড়ির দুর্গাপুজো শুরু হয়। কথিত আছে, সেই সময় পুজোর জন্য সামগ্রী পাঠাতেন স্বয়ং সম্রাট জাহাঙ্গির। শুধু তাই নয়। দেবীর বাহনেও রয়েছে চমক। এই পুজোর দেবীও অন্যদের থেকে একেবারেই আলাদা। এখানে দেবী দুর্গা সিংহবাহিনী নন। তিনি ব্যাঘ্রবাহিনী। অর্থাৎ সিংহের পরিবর্তে বাঘের উপর অধিষ্ঠিত। প্রতিমার সাজসজ্জা ও অলঙ্কারেও  রয়েছে নিজস্ব বৈশিষ্ট্যের ছাপ। সোনার গয়না নয় মৃন্ময়ী সাজেন মাটির গয়নায়।

দুর্গাপুজো ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'দেবীপক্ষ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন
Advertisement
Interesting Fact About Durgapur’s Layek Bari Durga Puja
লায়েক বাড়ির ব্যাঘ্রবাহিনী প্রতিমা। নিজস্ব চিত্র

এই বনেদি বাড়িতে (Bonedi Barir Durga Puja) শাক্তমতে দেবী আরাধনা হয়। পরিবারের প্রবীণদের মুখে শোনা যায়, একসময় এই পুজোয় নরবলি দেওয়ার প্রথাও ছিল। বর্তমানে সেই প্রথা নেই। তবে এখনও বলির রীতি রয়েছে। অষ্টমীর দিন শ্বেত ছাগ এবং নবমীর দিন দুটি ছাগ বলি দেওয়া হয়। পুজোর ক্ষেত্রেও রয়েছে কড়া নিয়ম। পুরোহিত একবার পুজোর আসনে বসলে সম্পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত তিনি আসন ছাড়তে পারেন না। ভোগের ক্ষেত্রেও পরিবারের সদস্যরাই তৈরি করেন নাড়ু। পুজোর চারদিন মায়ের অন্নভোগ দেওয়া হয় না। লুচি, চিঁড়ে, দুধ-সহ বিভিন্ন ভোগ নিবেদনের রীতি রয়েছে।

Advertisement

এই পুজোকে ঘিরে রয়েছে আরও একটি চমকপ্রদ লোককথা। কথিত আছে, একবার দেবীর প্রতিমাকে নিয়ে গোটা গ্রাম ঘোরানো হয়েছিল। সেই ঘটনার পর গ্রামে আগুন লাগার ঘটনা ঘটে। এরপর থেকেই দেবীকে আর গ্রাম ঘোরানো হয় না। প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে চলে আসা সেই বিশ্বাস আজও মেনে চলেন পরিবারের সদস্যরা। পরিবারের সদস্য কাঞ্চন লায়েক বলেন, “আমাদের এই পুজো ৫২৬ বছরে পা দিতে চলেছে। পূর্বপুরুষদের আমল থেকে যে সমস্ত রীতিনীতি চলে আসছে, আমরা এখনও সেগুলিই মেনে মায়ের পুজো করি। মায়ের রূপ, পুজোর নিয়ম থেকে শুরু করে ভোগ – সবকিছুর মধ্যেই আমাদের পূর্বপুরুষদের ঐতিহ্য ধরে রাখার চেষ্টা করি।” এই পুজো এখন আর শুধু লায়েক পরিবারের নয়। গোটা গোপালপুরের মানুষের কাছে আবেগ ও ঐতিহ্যের আরেক নাম। 

দুর্গাপুজো ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'দেবীপক্ষ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Share this article on

The article link is copied.