Indian Economy

যুদ্ধের জেরে সংকটে দেশের অর্থনীতি! আর্থিক সংস্কার করতে পারবে মোদি সরকার?

আগামী সপ্তাহেই মোদি সরকারের ১২ বছর পূর্ণ হতে চলেছে। সরকারের এক যুগ পূর্তিতে ধূমধাম করে মোদি আমলের প্রকল্পগুলির প্রচার হবে। এটা ঘটনা যে এই সময়ে সরকারের এমন কোনও আর্থিক নীতি নিয়ে প্রচার করার সুযোগ নেই, যেটি দেশের মানুষের দৈনন্দিন জীবনে আমূল বদল আনতে পেরেছে।

Advertisement
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: মে ২৩, ২০২৬, ১৭:৩৪

options
link
যুদ্ধের জেরে সংকটে দেশের অর্থনীতি! আর্থিক সংস্কার করতে পারবে মোদি সরকার?
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।

দেশের অর্থনীতিকে বাঁচাতে প্রয়োজন কোনও অভিনব আর্থিক নীতি বা সংস্কার। মোদি সরকার কি করে দেখাতে পারবে?

Advertisement

দেশ এখন চরম আর্থিক সংকটে। পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধ ভারতকে বিপাকে ফেলে দিয়েছে। এইরকম তেল ও গ্যাসের সংকট ভারতের কাছে অভূতপূর্ব। ডলারের নিরিখে টাকার দাম রোজ পড়ছে। টাকা রোজ সস্তা হয়ে যাওয়ায় বাড়ছে সমস্ত আমদানির খরচ। বিদেশ সফর সেরে দেশে ফিরেই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি তাঁর মন্ত্রিসভার সঙ্গে বৈঠকে বসেছেন, সংকটকালীন পরিস্থিতির পর্যালোচনায়। সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা যাচ্ছে, প্রধানমন্ত্রী অর্থনীতির ক্ষেত্রে কিছু কিছু সংস্কারের বিষয়ে জোর দিতে চাইছেন।

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'ফুটবল বিশ্বযুদ্ধ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন
Advertisement

মোদি সরকারের বিরুদ্ধে কংগ্রেসের বরাবরের অভিযোগ, এই সরকারের ভাবনার ক্ষেত্রে বড় ঘাটতি রয়েছে। অর্থনীতির ক্ষেত্রে তারা কোনও নতুন চিন্তাই আনতে পারছে না। মনমোহন সিং সরকারের সময় আর্থিক সংকট মোকাবিলায় যে সমস্ত অভিনব ভাবনা ও সংস্কার কর্মসূচি নিয়ম করে দেখা যেত, গত ১২ বছর তার ছিটেফোঁটাও দেখা যায়নি বলে দাবি কংগ্রেসের। আরও বলে, একের পর এক নির্বাচনে মোদি তাঁর দলকে জেতাতে সফল হওয়ায় অর্থনীতিতে নতুন কিছু করে দেখানোর তাগিদও অনুপস্থিত।

Advertisement

আগামী সপ্তাহেই মোদি সরকারের ১২ বছর পূর্ণ হতে চলেছে। সরকারের এক যুগ পূর্তিতে ধূমধাম করে মোদি আমলের প্রকল্পগুলির প্রচার হবে। এটা ঘটনা যে এই সময়ে সরকারের এমন কোনও আর্থিক নীতি নিয়ে প্রচার করার সুযোগ নেই, যেটি দেশের মানুষের দৈনন্দিন জীবনে আমূল বদল আনতে পেরেছে। বরং মোদি আমলেও মনমোহন আমলে চালু আর্থিক সংস্কার প্রক্রিয়াতেই গতি আনার কাজে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। বর্তমান সংকটে রিজার্ভব্যাঙ্ক ফের সুদ বাড়ানোর কথা বলতে শুরু করেছে। ডলারের জোগান বাড়াতে সুদ বাড়ানোর কথা বলা হচ্ছে। ভারতে যদি সুদ বাড়ে তা হলে বিদেশি লগ্নিকারীরা টাকার চাহিদা বাড়াবে। টাকার চাহিদা বাড়লে টাকার দাম বাড়বে। কিছুটা সস্তা হবে ডলার। টাকার দামের পতন এইভাবে ঠেকানো গেলে আমদানির খরচও কিছুটা নিয়ন্ত্রণে আসবে। কিন্তু সুদ বৃদ্ধির প্রভাব দেশের আভ্যন্তরীণ অর্থনীতিতে নেতিবাচক। সুদ বৃদ্ধি মানে পুঁজি দামি হওয়া। শিল্পের জন্য যারা পুঁজি লগ্নি করবে তারা লগ্নির আগে দু’বার ভাববে। পুঁজি মহার্ঘ হয়ে যাওয়া দেশের অর্থনীতির পক্ষে সুখকর নয়। একেই বহু বছর ধরে দেশে বেসরকারি লগ্নি নেই। বড় কারখানা শেষ কবে হয়েছে তা চট করে কেউ বলতে পারবে না। এখন যদি পুঁজি মহার্ঘ হয়ে যায় তা হলে বড়সড় লগ্নির সম্ভাবনা আরও কমবে। কলকারখানা না হলে দেশের আর্থিক বৃদ্ধির হার গতি হারাবে।

ইতিমধ্যে বিভিন্ন সংস্থা তাদের ভবিষ্যদ্বাণীতে জানিয়েছে, ভারতে বর্তমান আর্থিক বছরে আর্থিক বৃদ্ধির হার কমতে চলেছে। বেকারিও চরমে। মাথা তুলছে মূল্যবৃদ্ধি। এই পরিস্থিতিতে আর্থিক বৃদ্ধির হার কমা মানে দেশের অর্থনীতি আরও সংকটে চলে যাওয়া। ফলে অর্থনীতিকে বাঁচাতে প্রয়োজন কোনও অভিনব আর্থিক নীতি বা সংস্কার। মোদি সরকার কি করে দেখাতে পারবে?

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'ফুটবল বিশ্বযুদ্ধ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন