বিমানসেবিকা নীরজা ভানোটের আত্মত্যাগের ছায়া ধরা পড়ল ক্যাপ্টেন স্মিত মাচ্ছারের মধ্যে। বিশ্বমাঝে ভারতের মাথা উঁচু করলেন তিনি।
ভারতীয়রা কারও প্রাণ নেয় না, প্রাণ বাঁচায়। ফের এক ঐতিহাসিক উদ্ধৃতি শোনা গেল প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির মুখে। এই মুহূর্তে যে গুজরাটি সন্তানের জন্য ধন্য ধন্য করছে সারা বিশ্ব, সেই স্মিত মচ্ছরের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে মন্তব্যটি করেছেন মোদি।
অবিশ্বাস্য সাহসিকতা দেখিয়ে ১৭৪ জন বিমানযাত্রী-সহ মোট ১৮০ জনের প্রাণ বাঁচিয়েছেন পাইলট মচ্ছর। যাত্রীরা ইজরায়েলি। কো-পাইলটের বারংবার ছুরির আঘাতে রক্তাক্ত মচ্ছর যদি বিমানের হাল না ধরে থাকতেন, তাহলে ‘ফ্লাই দুবাই’-এর তেল আভিভগামী উড়ানটির ধ্বংস হয়ে যাওয়া ছিল সময়ের অপেক্ষা। ওমানের কো-পাইলট বিমানটি মাঝ আকাশে ধ্বংস করে দেওয়ার জন্য মচ্ছরকে ছুরি মেরে খুন করতে সচেষ্ট ছিল। গুরুতর জখম মচ্ছর কোনওরকমে উড়ানটিকে নিয়ন্ত্রণে রেখে ককপিটের দরজা খুলে সবাইকে প্রাণে রক্ষা করেন।
অবিশ্বাস্য সাহসিকতা দেখিয়ে ১৭৪ জন বিমানযাত্রী-সহ মোট ১৮০ জনের প্রাণ বাঁচিয়েছেন পাইলট মচ্ছর। যাত্রীরা ইজরায়েলি। কো-পাইলটের বারংবার ছুরির আঘাতে রক্তাক্ত মচ্ছর যদি বিমানের হাল না ধরে থাকতেন, তাহলে উড়ানটির ধ্বংস হয়ে যাওয়া ছিল সময়ের অপেক্ষা।
এই ঘটনা সামনে নিয়ে এসেছে ৪০ বছর আগে করাচি বিমানবন্দরে এক ভারতীয় বিমানসেবিকার সাহসিকতাকে। নীরজা ভানোট নামে ‘প্যান অ্যাম’ উড়ানসংস্থার ওই ভারতীয় বিমানসেবিকা ১৯৮৬ সালের ৫ সেপ্টেম্বর করাচি বিমানবন্দরে নিজের প্রাণ দিয়ে বিমান ছিনতাইকারীদের হাত থেকে রক্ষা করেছিলেন যাত্রীদের। বিমানে বন্দুকধারী ছিনতাইকারীরা উঠেছে, খবর ককপিটে পাইলটদের কাছে পৌঁছে বিমানটি যাতে না ওড়ে তা নিশ্চিত করেছিলেন নীরজা। এরপর বিমানের জরুরি দরজা খুলে দিয়েছিলেন, যাতে যাত্রীরা বেরতে পারেন। ছিনতাইবাজ জঙ্গিরা উড়ানের ভিতরেই গুলি করে হত্যা করেছিল তাঁকে। ২৩ বছরের সাহসী ভারতীয় যুবতীর প্রাণ গেলেও যাত্রীরা রক্ষা পেয়েছিলেন সে-যাত্রায়।
‘ফ্লাইদুবাই ১০৭৩’-এর ক্ষেত্রে ভারতীয় পাইলট ক্যাপ্টেন মচ্ছর কোনওরকমে প্রাণে বেঁচেছেন। যদি তিনি ককপিটের দরজা খুলতে না পারতেন, তাহলে ওমানি কো-পাইলট বিমানটি ধ্বংস করে দিতে সফল হত। এই কো-পাইলট সম্ভবত কোনও আত্মঘাতী জঙ্গি। উড়ানটি সৌদি আরবের তাবুক বিমানবন্দরে নামার পর তাকে গ্রেফতার করা হয়। নাম-পরিচয় গোপন রাখা হয়েছে। ভবিষ্যতে নিশ্চিত জানা যাবে, সে সন্ত্রাসী কাজে নেমেছিল, না কি জটিল মানসিক রোগে আক্রান্ত। এদিকে, মচ্ছরের প্রশংসায় ভেসে যাচ্ছেন ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু থেকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প পর্যন্ত সকলে। বিশ্বমঞ্চে মচ্ছর যে ফের ভারতীয়দের মাথা উঁচু করে দিলেন তা বলা বাহুল্য।
বিশ্বজুড়ে সন্ত্রাসবাদী কার্যকলাপ ক্রমবর্ধমান। সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে শুধুমাত্র ‘জিরো টলারেন্স’ বলে যে ভারতীয়রা চুপ করে বসে নেই তা প্রমাণ করলেন মচ্ছর। সন্ত্রাসবাদ রুখতে এই ধরনের সাহসিকতারই প্রয়োজন। ৪০ বছর আগে নীরজা যে সাহসিকতা দেখিয়ে ইতিহাসে জায়গা করে নিয়েছেন, তারই পুনরাবৃত্তি ঘটালেন মচ্ছর। অভিযুক্ত ওমানি কো-পাইলটকে জেরা করে সত্য সামনে আসুক। দোষীদের শাস্তি হোক। তবেই মচ্ছরকে প্রকৃত কুর্নিশ জানানো হবে।
সর্বশেষ খবর
-
‘সাহস ও কর্তব্যনিষ্ঠার অনন্য নিদর্শন’, জঙ্গি হামলার ছক বানচাল করা ক্যাপ্টেন মচ্ছরকে কুর্নিশ শাহরুখের
-
শুধু এশিয়াডে সোনা জেতার জন্য নয়, অন্য কারণে ক্রিকেট ইতিহাসে লেখা হবে আজকের দিনটি
-
তারকা ক্রিকেটারকে বাদ দিয়ে চমক এন্ট্রি, বিশ্বকাপে ভারতের প্রথম একাদশ বেছে দিলেন সৌরভ
-
কাগজেই ‘মৃন্ময়ী’! মাত্র ২২ কেজি ওজনের প্রতিমা গড়ে তাক লাগালেন দুর্গাপুরের শিল্পী
-
চিন্ময় প্রভুর মুক্তির দাবিতে ফের উত্তাল কলকাতা, সন্ন্যাসীদের মিছিলে পুলিশি বাধায় অশান্তি