News and Literature

‘প্রকাশিত’ ও ‘অপ্রকাশিত’, সাহিত্য ও সংবাদের বিপরীত দায়!

‘অপ্রকাশিত’ ও ‘প্রকাশিত’– এই দ্বিবিধ শব্দের মাঝে খেলা করে ডকুমেন্টেশনের দায়। যা প্রকাশ পেল, তা হল ব্যষ্টির সম্পদ, চর্চার সামগ্রী।

সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: জানুয়ারি ২৬, ২০২৬, ১৯:৩৯

options
link
‘প্রকাশিত’ ও ‘অপ্রকাশিত’, সাহিত্য ও সংবাদের বিপরীত দায়!
প্রতীকী ছবি।

‘অপ্রকাশিত’ লেখা অর্থে কি ‘অগ্রন্থিত’ লেখা বোঝায়? বৃহত্তর অর্থে হয়তো-বা তাই। তবে ‘অপ্রকাশিত’ লেখা বিচ্ছিন্নভাবে থাকতেও পারে। জীবনানন্দ দাশ পাঠকদের চমকে দিয়েছিলেন, অপ্রকাশিত লেখার সম্ভারে। কয়েকজন নাছোড়বান্দা ও নিদারুণ জীবনানন্দ-ভক্ত আমাদের দেখিয়ে দিয়েছেন, জীবদ্দশায় জীবনানন্দর যে-পরিমাণ লেখা প্রকাশ পেয়েছিল ও ছাপা হয়েছিল, তাঁর অপ্রকাশিত লেখার পরিমাণ সে-তুলনায় অনেকখানি বেশি। সেই অপ্রকাশিত লেখা জীবনানন্দ দাশের ব্যক্তিস্বভাব ও লেখকচরিত্র নিরূপণে অনেকখানি সাহায্য করেছে। বিস্মিতও কম করেনি পাঠকদের। অপ্রকাশিত লেখা অনেক সময় লেখকের মৃত্যুর পরে বেরয়। অনেক সময় লেখকের কোনও বিশেষ শর্ত বা ওজর থাকার কারণেও কোনও কোনও লেখা জীবদ্দশায় বেরতে পারে না, সেগুলির ভবিতব্য তখন ‘অপ্রকাশিত’ তকমা-র জন্য ধরা থাকে। অনেক সময় আবার লেখকের কাছে থাকে না তাঁরই লেখা, পাণ্ডুলিপি আকারে। লেখকের অবর্তমানে সেগুলি প্রকাশ করে অন্য কেউ। তখন দরকার হয় যথাপূর্ব গৃহিণীপনার– যাকে বলা যায় ‘সটীক সম্পাদনা’।

Advertisement

মৌলিক লেখার আঙিনায় ‘অপ্রকাশিত’ লেখার কদর যতখানি, সংবাদের জগতে আবার ঠিক বিপরীত। যা কিছু প্রকাশক্ষম, তাই ‘খবর’ পদবাচ্য হওয়ার অধিকারী। খবরটি ভালো না মন্দ, তা নির্ভর করে প্রকাশিত উপাদানের গভীরতার উপর। কিন্তু অপ্রকাশিতকে আলোয় আনা খবরের জগতের কর্মীদের কাজ। সেটিকে বলা হয় ‘তদন্তমূ্লক সাংবাদিকতা’। নতুবা অপ্রকাশিত সংবাদের বিশেষ কদর নেই, স্মৃতিচারণের অঙ্গ হওয়া ব্যতীত।

Advertisement

জীবদ্দশায় জীবনানন্দর যে-পরিমাণ লেখা প্রকাশ পেয়েছিল ও ছাপা হয়েছিল, তাঁর অপ্রকাশিত লেখার পরিমাণ সে-তুলনায় অনেকখানি বেশি।

আসলে, ‘অপ্রকাশিত’ ও ‘প্রকাশিত’– এই দ্বিবিধ শব্দের মাঝে খেলা করে ডকুমেন্টেশনের দায়। যা প্রকাশ পেল, তা এক অর্থে নথি। তা সাধারণে চর্চার অংশ। যা প্রকাশিত হল না, বা হয়নি, তা ব্যক্তির একক অধিকারের বস্তু। অপ্রকাশিত যখনই প্রকাশের উদ্ভাস পায়, তখন তা ব্যক্তির সামগ্রী থেকে ব্যষ্টির সামগ্রীতে রূপায়িত হয়। ফলে, প্রকাশ পাওয়া মাত্র ‘অপ্রকাশিত’ শব্দটির মায়া মুদে যায়, তাকে ঘিরে থাকা রহস্য নির্বাপিত হয়।

Advertisement
অনেক সময় আবার লেখকের কাছে থাকে না তাঁরই লেখা, পাণ্ডুলিপি আকারে।

সিনেমার জগতে নানা কারণে বহু ছবির মুক্তি বিলম্বিত হতে হতে এক সময় তা আর বেরয়ই না। সেসব ছবি পরে মুক্তি পেলে, জনপরিসরে ইতিহাসের একটি দরজা যেন খুলে যায়। কখনও দেখা যায়, বিশেষ বাধ্যবাধকতার জন্য কিছু ছবি হয়তো সব জায়গায় মুক্তির ছাড়পত্র পায়নি। তারপর সময়ের স্রোত ঠেলে এক সময় যখন ‘নিষেধাজ্ঞা’ উঠে যায়, ছবিটি মুক্তির সঙ্গে সঙ্গে, যেসব কারণে ‘নিষেধাজ্ঞা’ নিয়োজিত হয়েছিল, সেগুলিকে পর্যালোচনার সুযোগ মেলে। এও প্রাপ্তি।

সোমবার সাধারণতন্ত্র দিবস। ভারতীয় গণতন্ত্রে সাধারণের অধিকার প্রতিষ্ঠার উদ্‌যোগ। সাধারণীকরণের লঘুতা কাটিয়ে আমরা এমন দিনে বলতে চাই– গণতন্ত্রের প্রতিটি আঙ্গিক যেন আর অপ্রকাশিত না থাকে, খাতা-কলমের সংসার ছেড়ে তারা প্রকাশ পাক জনতার রোজের জীবনে।

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Share this article on

The article link is copied.