আম আদমি পার্টিকে খাদের কিনারায় ঠেলে গত এপ্রিল মাসেই বিজেপির নৌকোয় পা রেখেছেন রাঘব চাড্ডা। যার জেরে প্রাক্তন আপ সাংসদের কপালে জুটেছে ‘বিশ্বাসঘাতক’ তকমা। গত একমাস ধরে ‘দলবদলু’ নেতাকে নিয়ে দিল্লির রাজনৈতিকমহলেও চাপানোতরের অন্ত নেই। আপ বনাম রাঘব চাড্ডা (Raghav Chadha) ইস্যুতে কেউ কাউকে সূচাগ্র মেদিনী ছাড়তে নারাজ! সম্প্রতি আবার রাঘব-পরিণীতির বিয়ের কৃতিত্ব নিয়ে কার্যত বোমা ফাটিয়েছে আম আদমি পার্টি। সংশ্লিষ্ট দলের দাবি, আপ রাঘব চাড্ডাকে সাংসদ না করলে পরিণীতির সঙ্গে বিয়েটাই আটকে যেত! এবার ফাঁস হল নেতা-নায়িকার বিয়ের আসরের গল্প।
আরও পড়ুন:
দলের অনুজ সাংসদের বিয়ের আসরে কীভাবে বড় দাদার মতো কর্তব্য পালন করেছিলেন কেজরিওয়াল, সেকথাই ফাঁস করেন গায়ক। এমনকী নেতা-মন্ত্রীদের উপস্থিতির জন্য নিরাপত্তা ব্যবস্থা কতটা কড়া ছিল, সেসব তথ্যও বছর দুয়েক বাদে প্রকাশ্যে আনলেন অঙ্কিত বাত্রা।
খবর, বিয়ের দিন দলের ‘সিনিয়র’ নেতা অরবিন্দ কেজরিওয়ালের কাঁধে চেপে মণ্ডপে পৌঁছেছিলেন রাঘব চাড্ডা। এমনকী আসরে উপস্থিত ছিলেন ভগবন্ত মানের মতো দলের তাবড় নেতারাও। কিন্তু সেই দাদাসম অগ্রজকে ধোঁকা দিয়েই কিনা গেরুয়া শিবিরে নাম লেখালেন সুদর্শন নেতা! সম্প্রতি রাঘব-পরিণীতির বিয়ের আসরে আপের শীর্ষ নেতৃত্বদের উল্লাস নিয়ে মুখ খুলেছিলেন গায়ক তথা বৈদিক পুরোহিত অঙ্কিত বাত্রা। ২০২৩ সালের ২৪ সেপ্টেম্বর উদয়পুরের লীলা প্যালেসে রাজকীয়ভাবে সাতপাকে বাধা পড়েন রাঘব-পরিণীতি। সেদিন দলের অনুজ সাংসদের বিয়ের আসরে কীভাবে বড় দাদার মতো কর্তব্য পালন করেছিলেন কেজরিওয়াল, সেকথাই ফাঁস করেন গায়ক। এমনকী নেতা-মন্ত্রীদের উপস্থিতির জন্য নিরাপত্তা ব্যবস্থা কতটা কড়া ছিল, সেসব তথ্যও বছর দুয়েক বাদে প্রকাশ্যে আনলেন অঙ্কিত বাত্রা।

অঙ্কিতের এহেন মন্তব্য প্রকাশ্যে আসতেই ফের প্রশ্ন উঠেছে, যে দলে দাদার মতো নেতাকে পাশে পেয়েছিলেন, তাঁর সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করে বিজেপিতে যোগ দিলেন কীভাবে?
নিজস্ব ইউটিউব চ্যানেলে অঙ্কিত বলেন, “রাঘব-পরিণীতির বিয়েতে বরযাত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়ালজি এবং ভগবন্ত মানজির মতো প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বরা টানা আশি মিনিট ধরে মন্ত্রমুগ্ধের মতো বিয়ের আসরে দাঁড়িয়ে প্রত্যেকটা আচার-রীতি পালন খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে দেখেছেন। রাঘব-পরিণীতি যখন সারাজীবন একসাথে থাকার জন্য একে-অপরের প্রতি প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হন, সেসময়েরও সাক্ষী ছিলেন আপ দলের দুই নেতা। শুধু তাই নয়, বরযাত্রীতে টানা নাচতে দেখেছিলাম কেজরিওয়াল, ভগবন্তদের। একসময়ে তো অরবিন্দ কেজরিওয়াল রাঘব চাড্ডাকে কাঁধেও তুলে নেন।” অঙ্কিতের এহেন মন্তব্য প্রকাশ্যে আসতেই ফের প্রশ্ন উঠেছে, যে দলে দাদার মতো নেতাকে পাশে পেয়েছিলেন, তাঁর সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করে বিজেপিতে যোগ দিলেন কীভাবে?

গত এপ্রিলে রাঘবের পদ্মযোগের পরই সোশাল মিডিয়ায় এক ভিডিও পোস্ট করে দিল্লির আপ সভাপতি সৌরভ ভরদ্বাজ বোমা ফাটিয়েছিলেন। তাঁর দাবি, “দল ভাঙার জন্য বিজেপির সঙ্গে মিলে দীর্ঘ ষড়যন্ত্র করেছিলেন রাঘব। স্বতন্ত্র ভাবমূর্তি গড়ে তুলতে বিমানবন্দরে সস্তা সিঙ্গারা, রিচার্জের নিয়ম এবং গিগ কর্মীদের সমস্যা তুলে ধরেন তিনি। এই কাজে বিজেপি ওঁকে সাহায্য করেছিল। রাঘবের ভাষণের পর অবিলম্বে ব্যবস্থাও নেয় সরকার। পুরোটাই ছিল আঁতাত। দলের কারণেই ওঁর বিয়েটা হয়েছিল। যদি দলত্যাগই উদ্দেশ্য হত, তবে রাজনীতি থেকে সরে যেতে পারতেন, তাহলে এত কটাক্ষ সহ্য করতে হত না আপনাকে। আপনাকে আক্রমণ করা হচ্ছে, কারণ আপনি সেই দল ছেড়েছেন যে দল আপনাকে সবকিছু দিয়েছে। আজ আপনি বিয়ে করতে পেরেছেন, তার কারণ আপনাকে রাজ্যসভার সদস্য করা হয়েছিল, নইলে কেউ আপনাকে বিয়ের প্রস্তাব দিত না।” এবার ফের একবার অঙ্কিত বাত্রার পডকাস্টের সুবাদে চর্চায় রাঘব-পরিণীতির বিয়ের নেপথ্যে ‘ঘটক আপ’-এর তত্ত্ব।
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
-
মেয়ের আবদারে কাজে যাননি, যমদুয়ার থেকে তারাতলার শ্রমিক বাবাকে ফেরাল খুদে
-
‘দিদি’কে ফিরিয়ে ‘দাদা’তে আস্থা! ভবানীপুরে নতুন অফিস খুলে শুভেন্দু বললেন, ‘রোজ পরিষেবা পাবেন’
-
ঢাকা হত সিসিটিভি, শৌচাগারে লুকনো টাকা! রাম মন্দিরে ‘চুরি’র নীল নকশায় তাজ্জব তদন্তকারীরা
-
‘দ্বিতীয়বার আসতে হলে ভালো হবে না’, মাফিয়ারাজ রুখতে পুলিশকে কড়া হুঁশিয়ারি মন্ত্রী শঙ্করের
-
মেঘ-বৃষ্টির পাহাড়ে রোমাঞ্চের হাতছানি, টিকিট কাটার আগে এই ভুল করলেই বিপদ!