Rahul Arunoday Banerjee Death

‘রাহুল খুব তাড়াতাড়ি চলে গেল, ইন্ডাস্ট্রির বড় ক্ষতি’, কোচবিহারে ভোটপ্রচারের মাঝে স্মৃতিচারণায় দেব

ভোটপ্রচারের মাঝে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে দেব ফিরে গেলেন সেই 'চিরদিনই তুমি যে আমার'-এর দিনগুলিতে। সেসময়ে রাজ চক্রবর্তীর হাত ধরে দেব-রাহুলরা একের পর এক সুপারহিট সিনেমা উপহার দিচ্ছেন। রাহুলের প্রয়াণে ভারাক্রান্ত হৃদয়ে সেসব দিনের কথাই মনে করলেন তারকা সাংসদ।

সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: এপ্রিল ১, ২০২৬, ১৬:৪৫

options
link
‘রাহুল খুব তাড়াতাড়ি চলে গেল, ইন্ডাস্ট্রির বড় ক্ষতি’, কোচবিহারে ভোটপ্রচারের মাঝে স্মৃতিচারণায় দেব
ভোটপ্রচারের মাঝে রাহুলের স্মৃতিচারণায় দেব

সোমবার দুপুর তিনটে। দক্ষিণ কলকাতার বিজয়গড়ে তখন জনতার ঢল। কেউ প্রিয় অভিনেতা, কেউ প্রিয় লেখক, আবার কেউ বা ‘প্রিয় বাবিন’কে শেষবারের মতো দেখার জন্য যখন চোখে জল নিয়ে অপেক্ষা করছেন, তখন উত্তরবঙ্গে আসন্ন বিধানসভা ভোটের প্রচারের মাঝেই বন্ধু-সহকর্মী রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের স্মৃতিচারণায় ডুব দিলেন সাংসদ অভিনেতা দেব।

Advertisement

রবিবাসরীয় সন্ধেয় আচমকাই দুঃসংবাদ আছড়ে পড়ে স্টুডিওপাড়ায়। অভিনেতা রাহুল বন্দ্যোপাধ্যায় আর নেই! গত চব্বিশ ঘণ্টায় যাঁদের কাছেই এই খবর পৌঁছেছে, কেউই নিজের কানকে বিশ্বাস করতে পারেননি! এদিন রাত থেকেই রাহুলের টলিপাড়ার সতীর্থরা দফায় দফায় ছুটে গিয়েছেন অভিনেতার বিজয়গড়ের বাসভবনে। সোমবার সকাল থেকে স্থানীয়রাও প্রয়াত অভিনেতার বাড়ির সামনে ভিড় জমিয়েছেন ‘প্রিয় বাবিন’কে একটিবারের জন্য শেষ দেখা দেখবেন বলে। তমলুক মেডিক্যাল কলেজে ময়নাতদন্তের পরই রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের শববাহী গাড়ি নিয়ে দুপুর তিনটে নাগাদ তাঁর বাসভবনে পৌঁছন স্কুলের বন্ধুরা। পল্লীশ্রী থেকে বিজয়গড়ের রাস্তায় তখন জনঅরণ্য। তার মাঝেই শ্রদ্ধাজ্ঞাপন করতে দেখা গেল মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস, স্বরূপ বিশ্বাস, মহম্মদ সেলিমদের। কোচবিহারে ভোটপ্রচারের মাঝে রাহুল বন্দ্যোপাধ্যায়ের স্মৃতিচারণায় ডুব দিলেন দেবও। রাহুল নিজে বাম মতাদর্শে বিশ্বাসী হলেও দলীয় রং, মতাদর্শের উর্ধ্বে গিয়ে তাঁর শেষযাত্রায় যোগ দিয়েছিলেন অনেক রাজনীতিক।

Advertisement

“রাজ যখন ওঁর সঙ্গে প্রথম ছবি করল, তখন আমি তাতে আইটেম সং করেছিলাম ‘প্যান্টে তালি’। ‘বাতাসে গুনগুন’ গানটা এখনও মনে পড়ে। গানের শুটিংয়ের জন্য রাহুলকে নিয়ে দক্ষিণে যাওয়ার কথা ছিল। আমি আর রাজ রাহুলকে নিয়ে শপিং করতে গিয়েছিলাম। তখন সাউথ সিটি মল সবে খুলেছে। নিউ মার্কেটেও শপিং করলাম আমরা ওকে নিয়ে। রাজেরও হয়তো সেই দিনগুলোর কথা মনে পড়ছে। এমনকী আমার ছবি ‘পরাণ যায় জ্বলিয়া’তে রাহুল অতিথি শিল্পী হিসেবেও ছিল।…” 

ভোটপ্রচারের মাঝে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে দেব ফিরে গেলেন সেই ‘চিরদিনই তুমি যে আমার’-এর দিনগুলিতে। সেসময়ে রাজ চক্রবর্তীর হাত ধরে দেব-রাহুলরা একের পর এক সুপারহিট সিনেমা উপহার দিচ্ছেন। রাহুলের প্রয়াণে ভারাক্রান্ত হৃদয়ে সেসব দিনের কথাই মনে করলেন তারকা সাংসদ। দেবের মন্তব্য, “রাহুল খুব তাড়াতাড়ি চলে গেল। আমার এখনও মনে আছে, রাজ যখন ওঁর সঙ্গে প্রথম ছবি করল, তখন আমি তাতে আইটেম সং করেছিলাম ‘প্যান্টে তালি’। ‘বাতাসে গুনগুন’ গানটা এখনও মনে পড়ে। গানের শুটিংয়ের জন্য রাহুলকে নিয়ে দক্ষিণে যাওয়ার কথা ছিল। আমি আর রাজ রাহুলকে নিয়ে শপিং করতে গিয়েছিলাম। তখন সাউথ সিটি মল সবে খুলেছে। নিউ মার্কেটেও শপিং করলাম আমরা ওকে নিয়ে। রাজেরও হয়তো সেই দিনগুলোর কথা মনে পড়ছে। এমনকী আমার ছবি ‘পরাণ যায় জ্বলিয়া’তে রাহুল অতিথি শিল্পী হিসেবেও ছিল। আমরা মালয়েশিয়ায় শুট করছিলাম। রাহুলও গিয়েছিল।” দেবের সংযোজন, “আমি এটা বলব না যে, রাহুল খুব ভালো বন্ধু ছিল, তবে অভিনেতা হিসেবে আমি ওঁকে খুব সম্মান করি। রাহুল আমাদের ইন্ডাস্ট্রির অন্যতম সেরা অভিনেতা। বাংলার দর্শক, বাংলা সিনেইন্ডাস্ট্রির অনেক বড় ক্ষতি হয়ে গেল। ওঁর আত্মার শান্তি কামনা করছি।”

Advertisement

“রাহুল আমার থেকেও বয়সে ছোট। ওর এভাবে চলে যাওয়াটা খুব শকিং। কাজের বাইরেও ওঁর সঙ্গে সম্পর্ক ছিল।…” 

অন্যদিকে এদিন দুপুরে বিজয়গড়ে প্রয়াত অভিনেতাকে শ্রদ্ধা জানাতে পৌঁছন সাহেব চট্টোপাধ্যায়, পরমব্রত চট্টোপাধ্যায়, সায়নী ঘোষ। শববাহী গাড়ির সামনে কার্যত কান্নায় পড়ে পড়েন ইন্ডাস্ট্রির সহকর্মীরা। আবির চট্টোপাধ্যায় জানালেন, “রাহুল আমার থেকেও বয়সে ছোট। ওর এভাবে চলে যাওয়াটা খুব শকিং। কাজের বাইরেও ওঁর সঙ্গে সম্পর্ক ছিল। তবে এসময়ে এটুকুই চাইব, সত্যিটা সামনে আসুক। এর থেকে বেশি কিছু বলার মতো পরিস্থিতি আমার নেই।”

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Share this article on

The article link is copied.