‘ঘুষখোর পণ্ডিত’ সিনেমা নিয়ে উত্তপ্ত রাজনৈতিকমহল। কথায় বলে, ‘নামে কি আসে যায়?’ কিন্তু এই নামের জেরেই ঘোর আইনি বিপাকে মনোজ বাজপেয়ীর আসন্ন সিনেমা। ‘পণ্ডিত’-এর আগে ‘ঘুষখোর’ শব্দটি নিয়েই যত বিতর্কের ঝড়। গত বুধবার টিজার প্রকাশ্যে এনে সিনেমার ঘোষণা করায় কেন্দ্রের কাছে ‘মুখ পুড়েছে’ নেটফ্লিক্সেরও! আর তার ৪৮ ঘণ্টার মধ্যেই জোড়া মামলার ফলায় বিদ্ধ সিনেনির্মাতারা। অভিযোগ, ‘ঘুষখোর পণ্ডিত’ নামে সমূহ ব্রাহ্মণ সম্প্রদায়কে অপমান করা হয়েছে। আর সেই মর্মেই দিল্লি হাইকোর্টের মামলার পর উত্তরপ্রদেশেও আইনি জটিলতায় পড়তে হয়েছে নীরজ পাণ্ডে পরিচালিত সিনেমাকে। এবার কেন্দ্রের তরফে নতুন নির্দেশ। খবর, সংশ্লিষ্ট ওটিটি প্ল্যাটফর্মকে ছবির প্রচারঝলক সরানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে তথ্য সম্প্রচার মন্ত্রকের তরফে।
আরও পড়ুন:
ভারতীয় জনতা পার্টি এবং মোদি সরকার সমাজের সকল সম্প্রদায়কে সম্মান করে। সমাজের কোনও অংশকে হেয় করার বা তার ভাবমূর্তি নষ্ট করার যে কোনও প্রচেষ্টা আমাদের কাছে একদম গ্রহণযোগ্য নয়।
জানা গিয়েছে, ‘ঘুষখোর পণ্ডিত’ ছবিতে অজয় দীক্ষিত যাকে ‘পণ্ডিত’ বলে পরিচয় করানো হয়েছে, সেই ব্যক্তি আদতে এক দুর্নীতিগ্রস্ত পুলিশ আধিকারিক। টেবিলের তলা দিয়ে ঘুষ নিয়ে কাজ খালাস করতে যার জুড়ি মেলা ভার। আর পরিচালক নীরজ পাণ্ডের ফ্রেমে এহেন চরিত্রে অভিনয় করেই বিপাকে পড়েছেন মনোজ বাজপেয়ী! যে সিনেমার নাম, এমনকী বিষয়বস্তু নিয়ে বর্তমানে তুমুল আইনি বিতর্ক। তবে আপত্তি যে শুধু গেরুয়া শিবিরের তরফেই উঠেছে, তেমনটা নয়! এই সিনেমা বর্তমানে উত্তরপ্রদেশে ভোটব্যাঙ্ক সুরক্ষিত রাখার অন্যতম ‘ইস্যু’ হয়ে উঠেছে। কারণ যোগীর পাশাপাশি এই সিনেমার নাম নিয়ে আপত্তি তুলেছেন বিরোধী মায়াবতীও। অন্যদিকে জনৈক সিনিয়র বিজেপি নেতা পিটিআইকে জানিয়েছেন, “সংশ্লিষ্ট বিষয়ে দ্রুত পদক্ষেপ করে নেটফ্লিক্সকে ছবিটির টিজার এবং অন্যান্য সমস্ত প্রচারঝলক সরানোর নির্দেশ দিয়েছে কেন্দ্র। কারণ যা কিছু সমাজের বিরুদ্ধে, সেটা বিজেপি বরদাস্ত করবে না।” বিজেপির জাতীয় মুখপাত্র গৌরব ভাটিয়াও সেকথায় সায় দিয়ে জানান, সেন্সরশিপের বাইরেও আইনি প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। তাঁর কথায়, “কেন্দ্রের দ্রুত এবং ইতিবাচক পদক্ষেপের প্রশংসা করছি। ‘ঘুষখোর পণ্ডিত’-এর মতো আপত্তিকর বিষয়বস্তু শুধু ওটিটি প্ল্যাটফর্ম থেকে সরানোর নির্দেশই দেওয়া হয়নি, পাশাপাশি এই ঘটনায় এফআইআরও দায়ের করা হয়েছে।” মুখ খুলেছেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী অনুরাগ ঠাকুরও।

‘ঘুষখোর পণ্ডিত’ নামের বিরুদ্ধে রাজনৈতিকমহল একজোট হওয়ার বিষয়টিতে ইতিবাচক দিকই দেখছেন অনুরাগ। তাঁর মন্তব্য, “ভারতীয় জনতা পার্টি এবং মোদি সরকার সমাজের সকল সম্প্রদায়কে সম্মান করে এবং মর্যাদা অক্ষুণ্ণ রাখার দৃঢ় সমর্থক। সমাজের কোনও অংশকে হেয় করার বা তার ভাবমূর্তি নষ্ট করার যে কোনও প্রচেষ্টা আমাদের কাছে একদম গ্রহণযোগ্য নয়। তাই এমতাবস্থায় নেটফ্লিক্স থেকে বিতর্কিত ছবি ‘ঘুষখোর পণ্ডিত’-এর টিজার এবং সমস্ত প্রচারঝলক সরানোর এই নির্দেশ অত্যন্ত যথাযথ এবং প্রশংসনীয়।” তাহলে কি এবার নাম বদল করে নতুন মোড়কে সিনেমার ঝলক প্রকাশ্যে নিয়ে আসবেন নীরজ পাণ্ডে এবং মনোজ বাজপেয়ী? নজর থাকবে সেদিকে।
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
-
‘আমরা আসছি’, ভারত সফরের আগে সোশাল মিডিয়ায় বিশেষ বার্তা ব্রাজিল দলের
-
প্রোমোটারের কাছ থেকে ১ লক্ষ টাকা ঘুষ! কনস্টেবলকে হাতেনাতে ধরল দুর্নীতি দমন শাখা
-
বাংলার পর অসমের মামলাতেও জামিন, ১৩ বছর পর বিরাট স্বস্তিতে সারদা কর্তা সুদীপ্ত সেন
-
পুকুরে ভেসেই কাটছিল জীবন! অনন্ত আম্বানির হস্তক্ষেপে মুম্বইয়ে চিকিৎসা পাচ্ছে মুর্শিদাবাদের সেই ইকবাল
-
এবার রাজ্য ও জাতীয় টেবিল টেনিস দলকে স্পনসর করবে রাজ্যের পর্যটন দপ্তর! বড়সড় ইঙ্গিত মন্ত্রীর