Satluj

‘পাঞ্জাবে হিন্দু-শিখরা একসঙ্গে সতলুজ দেখছে’, ‘প্রোপাগান্ডা’ বিতর্কে কড়া জবাব পরিচালকের

'সতলুজ' ঘিরে যে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে, সম্প্রতি সেবিষয়ে এক সাক্ষাৎকারে মুখ খুলেছিলেন পরিচালক। সেখানেই হানি ট্রেহানের প্রশ্ন, 'বাকি প্রোপাগান্ডা সিনেমাগুলিকে যেভাবে রিলিজের ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছে, আমার ছবিকে দেওয়া হল না কেন?'

সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: জুলাই ১৫, ২০২৬, ১৬:০৮

options
link
‘পাঞ্জাবে হিন্দু-শিখরা একসঙ্গে সতলুজ দেখছে’, ‘প্রোপাগান্ডা’ বিতর্কে কড়া জবাব পরিচালকের
'হিন্দু-শিখরা একসঙ্গে সতলুজ দেখছে', 'প্রোপাগান্ডা' বিতর্কে কড়া জবাব পরিচালকের

গারদের অন্ধকারে নৃশংস অত্যাচার! পচানব্বইয়ের পাঞ্জাবে ২৫,০০০ হাজার ‘বেওয়ারিশ লাশে’র খোঁজ দিয়ে করুণ পরিণতি হয় যশবন্ত সিং খালরার। সেই বাস্তব ঘটনা অবলম্বনে তৈরি ‘সতলুজ’ নিয়ে কেন্দ্রের নিষিদ্ধ কাঁটায় বিগত কয়েক দিন ধরেই রাজনৈতিকমহলে চাপানোতর। প্রশ্ন উঠেছে, রাজনৈতিক চাপেই কি সংশ্লিষ্ট সিনেমার ভবিষ্যৎ অন্ধকারে? পাশাপাশি ‘প্রোপাগান্ডা’ তকমা সেঁটে দিলজিৎ দোসাঞ্ঝ অভিনীত ছবিকে বয়কটের ডাকও উঠেছে। অভিযোগ, এই সিনেমা পাঞ্জাবের আইনশৃঙ্খলা, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি সব নষ্ট করে দেবে! সংশ্লিষ্ট বিতর্কেই এবার মুখ খুললেন পরিচালক হানি ট্রেহান।

Advertisement

“বলা হচ্ছে, আমার ছবি সামাজিক মেরুকরণের উসকানি দিয়ে হিন্দু ও শিখদের মধ্যে বিভাজন তৈরি করছে, কিন্তু বাস্তবে পাঞ্জাবের হিন্দু ও শিখরা একসঙ্গে ছবিটি দেখছেন।…” 

‘সতলুজ’ ঘিরে যে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে, সম্প্রতি সেবিষয়ে এক সাক্ষাৎকারে মুখ খুলেছিলেন পরিচালক। সেখানেই তিনি দাবি করেন, “পাঞ্জাবের হিন্দু, শিখরা একসঙ্গে সতলুজ দেখছে।” দীর্ঘ তিন বছরের টালবাহানার পর সবে মুক্তির আলো দেখেছিল দিলজিৎ দোসাঞ্ঝের ‘সতলুজ’। যদিও আইনি জটিলতার জেরে বড়পর্দার আলো দেখার অবকাশ পায়নি। পরিবর্তে ওটিটি প্ল্যাটফর্মে রিলিজ হয়। তবে মুক্তির দিন দুয়েকের মধ্যেই ‘মেরুকরণে’র অভিযোগে ফের নিষেধাজ্ঞা জারি হওয়ায় জি ফাইভ থেকেও তুলে নেওয়া হয় ছবিটি। একাংশের মত, ‘সতলুজ’ হিন্দু ও শিখদের মধ্যে বিভাজন তৈরি করছে। সংশ্লিষ্ট ইস্যুতেই পরিচালকের প্রশ্ন, “এহেন দাবির কোনও ভিত্তি আছে? বলা হচ্ছে, আমার ছবি পাঞ্জাবের আইনশৃঙ্খলা নষ্ট করতে পারে। অথচ বাস্তবে আমার ছবি পাঞ্জাবকে ঐক্যবদ্ধ করেছে। পাঞ্জাবে গিয়ে দেখুন, সকলে একসঙ্গে ছবিটি দেখছেন। বলা হচ্ছে, আমার ছবি সামাজিক মেরুকরণের উসকানি দিয়ে হিন্দু ও শিখদের মধ্যে বিভাজন তৈরি করছে, কিন্তু বাস্তবে পাঞ্জাবের হিন্দু ও শিখরা একসঙ্গে ছবিটি দেখছেন। ‘সতলুজ’ কাউকে উসকানি দেওয়ার উদ্দেশ্যে তৈরি করা হয়নি। যারা চরম দুর্ভোগের শিকার হয়েছেন, তাদের ক্ষতে প্রলেপ দেওয়ার জন্যেই আমার এই ছবি… আমার মনে হয় না ছবিটাকে নিষিদ্ধ করার কোনও কারণ ছিল।” শুধু তাই নয়!

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'ফুটবল বিশ্বযুদ্ধ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন
Advertisement
'Satluj' Director Dismisses 'Propaganda' Claims
কেন্দ্রকে তোপ দেগে দিলজিতের নিষিদ্ধ ছবির বিশেষ স্ক্রিনিং শিখ সংগঠনের

“যদি ধরেও নিই যে ‘সতলুজ’ প্রচারমূলক ছবি, সেক্ষেত্রে বাকি প্রোপাগান্ডা সিনেমাগুলিকে যেভাবে রিলিজের ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছে, আমার ছবিকে দেওয়া হল না কেন?…” 

‘সতলুজ’ পরিচালক হানি ট্রেহানের সংযোজন, “প্রথম ৪৮ ঘণ্টা মানুষ শান্তভাবে বাড়িতে বসে আমার ছবি দেখল, কই তখন তো কোনও সমস্যা হল না। কিন্তু সরকার ছবিটিকে নিষিদ্ধ করল এবং এখন তো এটা একটা আন্দোলনে পরিণত হয়েছে। ১০ দিন পেরিয়েছে, সকলে সম্প্রীতির মনোভাব নিয়েই একসঙ্গে ছবিটি দেখছেন এবং তাদের জন্য ‘লঙ্গর’-এর ব্যবস্থাও করা হচ্ছে। তাছাড়া যদি ধরেও নিই যে ‘সতলুজ’ প্রচারমূলক ছবি, সেক্ষেত্রে বাকি প্রোপাগান্ডা সিনেমাগুলিকে যেভাবে রিলিজের ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছে, আমার ছবিকে দেওয়া হল না কেন? এরকম ভেদাভেদ কেন? ভারত তো অনেক বড় একটা দেশ, সেখানে আমার সিনেমা কীভাবে সামাজিক কাঠামোকে ক্ষতিগ্রস্ত করবে?” শেষপাতে প্রশ্ন তুলেছেন পরিচালক।

Advertisement
ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'ফুটবল বিশ্বযুদ্ধ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Share this article on

The article link is copied.