গত বছরের ডিসেম্বরে রুপোলি পর্দায় বাজিমাত করে রণবীর সিংয়ের ‘ধুরন্ধর’। প্রথম ভাগের নজিরবিহীন সাফল্যের নিরিখে সিনেবাণিজ্য বিশ্লেষকরা আগেই জানিয়েছিলেন সিক্যুয়েলও ঝড় তুলবে বক্স অফিসে। সেই ভবিষ্যদ্বাণী অব্যর্থ ভাবে মিলে গিয়েছে। আদিত্য ধর পরিচালিত ‘ধুরন্ধর ২’ (Dhurandhar 2) মুক্তির পরই বিজয়রথ ছোটাতে শুরু করেছে। জাতীয় স্তরে ৫১৯.১২ কোটির ব্যবসা করার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বক্স অফিসেও জয়জয়কার আদিত্য ধরের ছবির।
আরও পড়ুন:
কিন্তু এহেন সাফল্যের মধ্যেই সোশাল মিডিয়ায় ক্ষমাপ্রার্থী আর.মাধবন। আচমকা কী ঘটল? অভিযোগ, ধর্মীয় ভাবাবেগে আঘাত করেছেন অভিনেতা। শিখ সম্প্রদায়ের সদস্য গুরুজ্যোত সিং কির এফআইআর দায়ের করতেই তাই মুখ খুললেন তিনি। ভিডিও বার্তায় চাইলেন ক্ষমা।
‘ধুরন্ধর দ্য রিভেঞ্জ’-এর একটি দৃশ্য ঘিরে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। অভিযোগ, একটি দৃশ্যে আর মাধবন সিগারেটে সুখটান দেওয়ার সময় পবিত্র দশম গ্রন্থ থেকে শ্লোক পাঠ করছেন যা শিখ সম্প্রদায়ের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করেছে বলে দাবি করা হচ্ছে।
View this post on Instagram
বিতর্ক দানা বাঁধতেই মাধবন সোশাল মিডিয়ায় একটি ভিডিও বার্তা শেয়ার করেন। সিনেমার প্রতি দর্শকের ভালবাসাকে সাধুবাদ জানিয়ে বলেন, সম্পূর্ণ ভুল বোঝাবুঝির জন্য এই বিতর্কের সৃষ্টি। নিজের পক্ষে সাফাই দিয়ে মাধবন বলেন, “একটু ভুল বোঝাবুঝি হয়েছে। আমি সম্পূর্ণ নিশ্চিত এই দৃশ্য বোঝানোর সময় আদিত্য ধরজি যিনি এসব বিষয়ে আমার থেকেও বেশি সতর্ক, আমাকে বলেছিলেন, সংলাপ বলার অনেক আগেই সিগারেট নিভিয়ে দিতে। যাতে আমার মুখ থেকে কোনও ধোঁয়া না বেরোয়। আর আমার হাতেও যেন সিগারেট না থাকে। কারণ এটা আমাদের কাছে অত্যন্ত পবিত্র একটি বিষয়। “
মাধবন আরও ব্যাখ্যা করেন শ্লোক পাঠের আগে সিগারেট নিভিয়ে দেওয়া হয়েছিল। দৃশ্যে কোথাও ধোঁয়া বা ধূমপানের কোনও চিহ্ন নেই বলেও দাবি করেন অভিনেতা। ছবির গোটা টিমই যে শিখদের ধর্মীয় অনুভূতির প্রতি অত্যন্ত শ্রদ্ধাশীল ছিল তাও জানিয়েছেন তিনি। মনে করিয়ে দিয়েছেন, কারও মনে আঘাত করার কোনও উদ্দেশ্য তাঁদের ছিল না। মাধবন আরও জানান, প্রতিটি ছবি মুক্তির আগে তিনি স্বর্ণমন্দিরে যান।

প্রসঙ্গত, মুলুন্ড থানায় এফআইআর দায়ের করা হয়েছে ছবির তিন কলাকুশলীর বিরুদ্ধে। আর মাধবন, রণবীর সিং এবং পরিচালক আদিত্য ধর-এর নামে অভিযোগ লিপিবদ্ধ করা হয়েছে। ইনস্টাগ্রামে গুরুজ্যোত একটি বিস্তারিত বিবৃতি ও ভিডিও পোস্ট করে ক্ষোভ উগরে দেন।
‘ধুরন্ধর দ্য রিভেঞ্জ’-এর একটি দৃশ্যে আর.মাধবন সিগারেটে সুখটান দেওয়ার সময় পবিত্র দসম গ্রন্থ থেকে শ্লোক পাঠ করছেন। যা শিখ সম্প্রদায়ের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করেছে বলে অভিযোগ। সিনেমার প্রতি দর্শকের ভালবাসাকে সাধুবাদ জানিয়ে বলেন, সম্পূর্ণ ভুল বোঝাবুঝির জন্য এই বিতর্কের সৃষ্টি।
শিখ সম্প্রদায়কে ঐক্যবদ্ধ হয়ে এই অপমানের বিরুদ্ধে শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ করার আহ্বান জানান। তিনি আরও বলেন, যদি আদিত্য ধর, আর. মাধবন এবং রণবীর সিং দ্রুত ক্ষমা না চান, তাহলে তাঁদের যেখানেই দেখা যাবে, সেখানে কালো পতাকা দেখানো হোক। তিনি সতর্ক করে বলেন, “তৎক্ষণাৎ ক্ষমা চান, নতুবা ইতিহাস দেখিয়ে দেবে শিখ সম্প্রদায় কী করতে সক্ষম।”
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
-
কলকাতায় অপরাধের ‘হটস্পট’ কোনগুলি? ওসিদের কী নির্দেশ দিলেন পুলিশ কমিশনার?
-
সিকিম ঘুরতে যাচ্ছেন পুজোতে? বড় বদল পর্যটনে, জেনে নিন নয়া নিয়ম-নীতি
-
‘৯০ শতাংশ ভোটার সরে যেতে দ্বিধা করবে না’, বিজেপির ‘তৃণমূলীকরণে’ সতর্কবার্তা সংঘ মুখপত্রে
-
বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে সহবাস, ছড়াল টলিউড অভিনেত্রীর ঘনিষ্ঠ মুহূর্তের ছবি! ধৃত ‘প্রাক্তন’ প্রেমিক
-
কলকাতা-হাওড়া পুরভোটে রণকৌশল কী হবে? বৈঠকে তৃণমূলের ঋতব্রত শিবির