হত্যাতালিকায় নাম ছিল দাদুরও, ভূস্বর্গে কাশ্মীরি পণ্ডিত ‘নিধনে’র হাড়হিম অভিজ্ঞতা জানালেন সময় রায়না

১৯৯০ সালের কাশ্মীরি পণ্ডিতদের নির্বাসন নিয়ে কোন ভয়াবহ পরিস্থিতির সম্মুখীন হয়েছিলেন কৌতুকশিল্পী সময় রায়না? কাশ্মীরি মুসলিমদের কৃপায় কীভাবে সেই যাত্রায় বরাতজোরে বেঁচেছিল সময়ের পরিবার?

Advertisement
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: এপ্রিল ১৯, ২০২৬, ২০:৫১

options
link
হত্যাতালিকায় নাম ছিল দাদুরও, ভূস্বর্গে কাশ্মীরি পণ্ডিত ‘নিধনে’র হাড়হিম অভিজ্ঞতা জানালেন সময় রায়না
নয়ের দশকের ভয়াবহ অভিজ্ঞতা, শুনলে শিউরে উঠবেন।

স্ট্যান্ডআপ কমেডির জন্য দর্শকমহলে বিশেষ পরিচিত সময় রায়না। ‘ইন্ডিয়াজ গট লেটেন্ট’-কে কেন্দ্র করে বিতর্কের পর মানসিক ভাবে ভেঙে পড়েছিলেন সময়। সম্প্রতি এক পডকাস্টে জীবনের কঠিন সময়ের অভিজ্ঞতা ভাগ করেছেন। নিজেকে মরদেহর সঙ্গে তুলনা করেছেন এই স্ট্যান্ডআপ কমেডিয়ান। ব্যক্তিগত জীবনের আরও এক ভয়ংকর অভিজ্ঞতা সকলের সঙ্গে ভাগ করে নিয়েছেন সময়। নয়ের দশক অর্থাৎ ১৯৯০ সালে কাশ্মীরি পণ্ডিতদের নির্বাসন নিয়ে ভয়াবহ পরিস্থিতির সম্মুখীন হয়েছিলেন কৌতুকশিল্পী।

Advertisement

পণ্ডিতদের হত্যা করার তালিকায় ছিল তাঁর চিকিৎসক দাদুর নাম। কাশ্মীরি মুসলিমদের কৃপায় সেই যাত্রায় বরাতজোরে বেঁচেছিল সময়ের পরিবার। তাঁদের সাহায্যেই সময় রায়নার পরিবার সেই ভয়ংকর পরিস্থিতি থেকে পালাতে পেরেছিলেন। চরম সংকটের সময়েও মানুষের মধ্যে সহমর্মিতা কীভাবে তাঁদের জীবন বাঁচিয়েছিল?

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'ফুটবল বিশ্বযুদ্ধ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন
Advertisement

সময় বলেন, “কাশ্মীরে আমরা পণ্ডিতরা মাত্র পাঁচ শতাংশ ছিলাম। যদি আমরা অস্ত্র তুলে নিতাম বা আমার বাবা-মা যদি লড়াই করার সিদ্ধান্ত নিতেন তাহলে সবাই প্রাণ হারাতাম। আমি খুশি যে ওঁরা চলে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। অন্তত আমরা বেঁচে আছি।”

সেই ভয়াবহ মুহূর্তের অভিজ্ঞতা ভাগ করে বলেন, “আমার দাদু গ্রামের একজন খুব পরিচিত চিকিৎসক ছিলেন। তাই দাদুর নাম হত্যা করার তালিকার অন্তর্ভূক্ত করা হয়েছিল। তখন চারিদিকে চিঠি আদানপ্রদান হত। সেখানেই লেখা থাকত পরের দিন কাকে হত্যা করা হবে।”

Advertisement

রায়না জানান, এই হুমকি চিঠি আসার পরই তাঁর পরিবারের সদস্যের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। ভয়ংকর মুহূর্তের স্মৃতিচারণ করে বলেন, “চিঠিটা আসার পর আমার মা, দিদা অজ্ঞান হয়ে গিয়েছিলেন। আমার পিসি ছিলেন সবচেয়ে সাহসী। একদম চুপিসারে দাদুর ক্লিনিকে পৌঁছে গিয়েছিলেন।’

গ্রামের মানুষের কাছে চিকিৎসক হিসেবে সম্মানীয় ব্যক্তি ছিলেন সময় রায়নার দাদু। তাই কাশ্মিরী মুসলিমরাই তাঁকে পালাতে সাহায্য করে প্রাণভিক্ষা দিয়েছিলেন। সময়ের সংযোজন, “ওঁরা বলেছিল দাদুর কিছু হবে না। কারণ তিনি মানুষের প্রচুর উপকার করেছেন। কাশ্মীরি মুসলিমরাই আমার দাদুকে সেই কঠিন পরিস্থিতি থেকে বেরতে সাহায্য করেছিলেন।”

কাশ্মীরি পণ্ডিতদের নির্বাসনের এই ঘটনার দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব সম্পর্কেও কথা বলেন সময় রায়না।তাঁরমতে, “এই ঘটনা মনকে গভীরভাবে প্রভাবিত করে। শৈশবের আনন্দ উপভোগ থেকে বঞ্চিত থাকা, নিজের পরিচয় বিলুপ্ত হয়ে যাওয়ার মতো ঘটনাগুলো মনে ছাপ ফেলে দেয়। সমস্ত কাশ্মীরি পণ্ডিতদেরই চলে যেতে হয়েছিল। নিজেদের কোনও জায়গা ছিল না। সেই প্রজন্মের মানুষ এখনও কাশ্মীরে ফিরে যেতে ভয় পায়। আর তাঁদের বাবা-মায়েদের কাছে জায়গাটা এক ধরনের মিশ্র আবেগের স্মৃতি। বহু বছর পর আমার মা যখন কাশ্মীরে ফিরে যান তখন তিনি খুব আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েছিলেন। কিন্তু পিছন ফিরে তাকিয়ে দেখেন আর কিছুই অবশিষ্ট নেই”।

রায়না জানান, তাঁদের পরিবার এক রাতেই কাশ্মীর থেকে পালিয়ে গিয়েছিল। কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই ফিরে আসবে বলে আশাবাদীও ছিলেন তাঁরা। কিন্তু সেই ‘দুই সপ্তাহ’এখন ২৫ বছরে গড়িয়েছে! আবেগে ভেসে বলেন,”কাশ্মীরে আমরা পণ্ডিতরা মাত্র পাঁচ শতাংশ ছিলাম। যদি আমরা অস্ত্র তুলে নিতাম বা আমার বাবা-মা যদি লড়াই করার সিদ্ধান্ত নিতেন তাহলে সবাই প্রাণ হারাতাম। আমি খুশি যে ওঁরা চলে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। অন্তত আমরা বেঁচে আছি।”

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'ফুটবল বিশ্বযুদ্ধ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Share this article on

The article link is copied.