Raksha Bandhan Review

বিফলে গেল অক্ষয়-ম্যাজিক, অতি আবেগের চোটে দেখা দায় ‘রক্ষা বন্ধন’

২০২২ সালে দাঁড়িয়ে ১৯৬২ সালের গল্প বলেছেন পরিচালক আনন্দ এল রাই।

সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: আগস্ট ১৩, ২০২২, ১৬:৪৯

options
link
বিফলে গেল অক্ষয়-ম্যাজিক, অতি আবেগের চোটে দেখা দায় ‘রক্ষা বন্ধন’

আকাশ মিশ্র: ‘বচ্চন পাণ্ডে’ সেজে জমল না, তাড়াহুড়ো করে ‘পৃথ্বীরাজ চৌহান’ সাজলেন। তাতেও বক্সঅফিস হাবুডুবু অবস্থা অক্ষয়ের। ভেবেছিলেন ভাই-বোনের মধ্যে সুড়সুড়ি মার্কা সম্পর্ককে পর্দায় এনে বাজিমাত করবেন। কিন্তু অক্ষয় কুমারের সেই পরিকল্পনাও যে কতটা দুর্বল, তাঁর প্রমাণ পাওয়া গেল প্রায় আড়াই ঘণ্টা ধরে। অক্ষয় কুমারের নতুন ছবি ‘রক্ষা বন্ধন’ ঠিক এমনই ছবি। যার কোনও অংশকেই সবল বা দারুণ বলা যায় না। চিত্রনাট্য থেকে শুরু করে অভিনয় সবই অত্যন্ত দুর্বল।

Advertisement

ব্যাপারটা বিশদে বলা যাক। ‘রক্ষা বন্ধন’ ছবিতে ফুচকা ব্যবসায়ী অক্ষয়কুমার ওরফে লালা কেদারনাথ। তার রয়েছে চারটি বোন। কেদারনাথের জীবনের মূল লক্ষ্যই হল চার বোনের বিয়ে দেওয়া। যেখানেই যান, সেখানেই বোনেদের জন্য পাত্র খুঁজতে শুরু করেন। এমনকী, বোনেদের বিয়ের জন্য নিজের প্রেমিকা স্বপ্না ওরফে ভূমি পেডনেকরকেও এড়িয়ে চলে কেদারনাথ। আড়াই ঘণ্টা ধরে কেদারনাথ ও তার বোনেদের বিয়ের তোড়জোড় নিয়েই গল্প এগিয়ে চলে। আর ছবি এগোতেই বুঝে যাবেন এই ছবির ক্লাইম্যাক্স কী!

Advertisement

Advertisement

[আরও পড়ুন: বাজিমাত পরিচালক অরিন্দম শীলের , জমজমাট ‘ব্যোমকেশ হত্যামঞ্চ’, পড়ুন রিভিউ]

‘রক্ষা বন্ধন’ ছবির প্রথম দুর্বলতাই হল, এই ছবির চিত্রনাট্য। ২০২২ সালে দাঁড়িয়ে ১৯৬২ সালের গল্প বলেছেন পরিচালক আনন্দ এল রাই। বিশেষ করে কয়েকটা দৃশ্যের কথা এ ব্যাপারে বলতেই হয়। ছবিতে অক্ষয়ের বোনদের দেখে পাড়ার কয়েকটা ছেলে ইভটিজিং করে। সহজ সরল ভাই অক্ষয়, হঠাৎ করেই হয়ে যায় মারকুটে। তারপর পাড়ার মোড়ে দাঁড়িয়ে চিলচিৎকার। মেয়েদের দেখে আজেবাজে কথা বললে, তাঁদের বিয়ে করতে হবে! এরকম সংলাপ কি মানা যায়? নাকি শোনা যায়! এখানেই শেষ নয়, আরেক দৃশ্যে, অক্ষয় তার এক বোনকে বলে, তোর বিয়ে ঠিক করে ফেলেছি! তখন বোন শুধু লজ্জাই পায়। পাত্র কে, কী করে, তা জানার আগেই বোন ছাদনাতলায়। রক্ষা বন্ধনের গল্প একেবারেই সমসাময়িক নয়। সেই পুরনো পুরুষতান্ত্রিক সমাজের গল্পকে নতুন মোড়কে এনে ফেলেছেন আনন্দ এল রাই। যেখানে চার নারীর ত্রাতা হিসেবে দেখানো হয়েছে এক পুরুষকেই। যা কিনা ২০২২ সালে দাঁড়িয়ে মানতে বেশ কষ্ট হয়। প্রশ্ন জাগে আনন্দ এল রাইয়ের মতো বিচক্ষণ এক পরিচালক এরকম গল্প নিয়ে ছবি তৈরি করলেন কীভাবে?

অভিনয়ের দিক থেকে নতুন করে কিছু বলার নেই। অক্ষয় একই রকম। চার বোনের চরিত্রে সাদিয়া খাতিব, দীপিকা খান্না, স্মৃতি শ্রীকান্ত, সহেজমিন কৌর যথাযথ। ভূমি পেডনেকরের বেশি কিছু করার ছিল না। সব মিলিয়ে ‘রক্ষা বন্ধন’ ছবি খুবই মাঝারি মানের ছবি। বলিউডে এরকম একটা ছবি তৈরি না হলে খুব একটা ক্ষতি হত না।

[আরও পড়ুন: অভিনয়ের জোরে কি ‘ডার্লিংস’ হয়ে উঠতে পারলেন আলিয়া ভাট? পড়ুন রিভিউ ]

 

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Share this article on

The article link is copied.