Maidaan

বাংলার মাঠ থেকে অজয়ের ‘ময়দান’, কেমন ছিল শুটিং পর্ব? গল্প শোনালেন কলকাতার ফুটবলার আমান মুন্সি

১১ এপ্রিল মুক্তি পাবে অজয় দেবগনের 'ময়দান'।

Advertisement
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: মার্চ ১৪, ২০২৪, ১১:৪৪

options
link
বাংলার মাঠ থেকে অজয়ের ‘ময়দান’, কেমন ছিল শুটিং পর্ব? গল্প শোনালেন কলকাতার ফুটবলার আমান মুন্সি

আকাশ মিশ্র: কলকাতার ফুটবল তাঁকে চেনে। কলকাতা লিগে তাঁকে দাপিয়ে খেলতে দেখেছেন ফুটবলপাগলরা। এবার অজয় দেবগনের ছবি ‘ময়দান’-এ তাঁকেও দেখা যাবে।
তিনি আমান মুন্সি। অভিনেতা টাবুন মুন্সির পুত্র। এবং ফুটবলার সন্দীপ মুন্সির ভাইপো। রক্তেই তাঁর অভিনয় এবং ফুটবল। তাই যেন ম্যাজিক দেখিয়ে গেল অজয় দেবগনের ‘ময়দান’ ছবিতে। দেশের ফুটবল নিয়ে স্বপ্ন দেখিয়েছিলেন রহিম সাহেব। তাঁর জীবনী বড় পর্দায় তুলে ধরেছেন পরিচালক অমিত শর্মা। ভারতীয় ফুটবলের স্বর্ণযুগের উপরে আলো ফেলেছেন পরিচালক। সেই ছবিতেই আমান বাঙালি কিংবদন্তি ডিফেন্ডার অরুণ ঘোষের চরিত্র ফুটিয়ে তুলেছেন রুপোলি পর্দায়।
কেমন ছিল সেই অভিজ্ঞতা? শুটিংয়ের দিনগুলোই বা কেমন কেটেছিল আমানের? সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটালকে আমান জানালেন, ”ময়দান ছবির অভিজ্ঞতাটা যেন আমার নিজের বায়োপিকের মতো। অডিশনের দিন থেকেই ঘটনাবহুল। আমাকে অডিশনে যাওয়ার কথা বলেন আমার কোচ রঞ্জন ভট্টাচার্য। কিন্তু আমি প্রথমটায় না করে দিই। বাবাকেও জানাই। বাবা বলেন, এটা একটা বড় সুযোগ। ট্রাই তো কর। অডিশন দিলাম। কিন্তু প্রথমে আমাকে বাতিল করা হয়। প্রোডাকশন থেকে বলা হয়, অরুণ ঘোষের চরিত্রের জন্য আমি একটু বেশিই ইয়ং।”

Advertisement
অজয় দেবগনের সঙ্গে অমন।

[আরও পড়ুন: হুগলিতে রচনা বনাম লকেটের মেগা ফাইট, কী বলছে টলিউড?]

তার পরেই কাহানিতে টুইস্ট। কলকাতার ছেলেকে ফোন করেন স্বয়ং ময়দান পরিচালক অমিত শর্মা। স্মৃতিরোমন্থন করে আমান বলতে থাকেন, ”পরিচালক অমিত শর্মা আমাকে জিজ্ঞাসা করেন, তুমি নাকি ছবিটা করতে চাইছ না? জবাবে ওঁকে বলি, আমি খেলোয়াড়, ফুটবল নিয়েই ভালো আছি। অমিত স্যার আমাকে বলেন, আরে তুমি ছবিটায় অভিনয় করে দেখো, জীবন বদলে যাবে! তারপর অমিত স্যারের সঙ্গে দেখা হয়। ওঁর মতো ভালো মানুষ আগে দেখেনি। অমায়িক ব্যবহার। ছবির পর্দার ম্যাজিশিয়ান। শুটিংয়ের পর মনিটরে নিজেকে দেখে চিনতেই পারছিলাম না!”

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'ফুটবল বিশ্বযুদ্ধ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন
Advertisement

Advertisement
পরিচালক অমিত শর্মার সঙ্গে রুদ্রনীল ঘোষ ও আমান।

আমান নিজে মিডফিল্ডার। ‘ময়দান’-এ ডিফেন্ডারের ভূমিকা পালন করেছেন। সাদার্ন সমিতির হয়ে লিগে খেলেছেন তিনি। জর্জ টেলিগ্রাফের জার্সিতে প্রথম আত্মপ্রকাশ কলকাতার ফুটবলে।

বাস্তব জীবনে একজন মিডফিল্ডার হয়ে ছবিতে ডিফেন্ডারের ভূমিকা পালন করতে সমস্যা হল না? আমান অবশ্য অন্য সমস্যার কথা জানাচ্ছেন। তাঁর কথায়, ”এই ছবির শুটিংয়ের সময় একটার পর একটা সমস্যার সম্মুখীন হয়েছিলাম। প্রথমে কোভিড হয়, তার পর লিগামেন্টের সমস্যা। এখানেই শেষ নয়। শুটিংয়ের সময় ডেঙ্গুতেও আক্রান্ত হয়েছিলাম। তখনই বুঝতে পারি, এই ময়দান ছবির সবাই আসলে একটা পরিবারের মতো। সবাই আমাকে আলাদা আলাদা করে ফোন করেছেন। কুশল সংবাদ নিয়েছেন। এমনকী, ছবির অন্যান্য টিম মেম্বারের কাছ থেকে আমার শরীর সম্পর্কে খবর নিতেন অজয় দেবগণও। ভীষণ কেয়ারিং একটা টিম।” সেই দলের সদস্য হিসেবে দারুণ গর্বিত অমন।

ময়দান ছবির শুটিংয়ে।

দেশের ফুটবলকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে পৌঁছে দেওয়ার স্বপ্ন দেখতেন কোচ রহিম সাহেব। রুপোলি পর্দায় শ্রদ্ধেয় রহিম সাহেবের ভূমিকায় অভিনয় করেছেন অজয় দেবগন। কেমন ছিল অজয় দেবগনের সঙ্গে শুটিংয়ের অভিজ্ঞতা? উচ্ছ্বসিত গলায় আমান জানালেন, ”এককথায় অসাধারণ! বাবার মতো ব্যবহার করতেন। বলিউডের এত বড় একজন অভিনেতা, সেলিব্রিটি। কিন্তু একেবারে মাটির মানুষ। আমরা তাঁকে রাগী, রাউডি চরিত্রে দেখে থাকি। কিন্তু সামনাসামনি একেবারেই আলাদা। খুবই কেয়ারিং। শুটিংয়ের সময় অজয় দেবগন আমাকে বলতেন, কোনও সমস্যা হলে যেন তাঁকে জানাই। আমার সঙ্গে একেবারে ছেলের মতো ব্যবহার করতেন। আমাকে বলতেন, ডোন্ট ওয়ারি, ম্যায় হুঁ তেরে লিয়ে। খুবই ভালো অভিজ্ঞতা। আমি সত্যিই খুব লাকি।”
অজয় দেবগনের ‘ময়দান’-এর দিকে তাকিয়ে বাংলার মানুষজনও। এই ছবিতে অভিনয় করছেন তিন বাঙালি–রুদ্রনীল ঘোষ, আমান মুন্সি এবং অমর্ত্য রায়। ফুটবল ভক্তরাও তাকিয়ে ছবিটার দিকে। কারণ পিকে-চুনী-অরুণ ঘোষ-বলরামদের এশিয়াসেরা হওয়ার মুহূর্ত দেখা যাবে ছবিতে। ৬২-র সেই সোনার দলের একমাত্র জীবিত সদস্য অরুণ ঘোষ। এখন তিনি অসুস্থ। সেই অরুণ ঘোষকে ছবির পর্দায় তুলে ধরেছেন কলকাতার ছেলে। এশিয়ান গেমসে জার্নেল সিংয়ের সঙ্গে ডিফেন্সকে সুরক্ষা দিয়েছিলেন অরুণ ঘোষ। রক্ষণে তুখোর ছিলেন। ড্রিবল করাতেও দক্ষতা ছিল। কথিত আছে, ফাইনালের আগেরদিন রাতে রহিম সাহেব নাকি অরুণ ঘোষকে জিজ্ঞাসা করেছিলেন, ”জার্নেল যদি ডিফেন্সে না খেলে তুমি পারবে না?” অরুণ ঘোষ আত্মবিশ্বাস নিয়ে বলেছিলেন, ”নিশ্চয়ই পারব।” বাকিটা ইতিহাস। ৬২-র এশিয়ান গেমস ভারতীয় ফুটবলের ইতিহাসে সোনায় বাঁধানো এক অধ্যায়। 

সেই অধ্যায়কে ফুটিয়ে তোলার অন্যতম কারিগর আমান। অভিনয় করলেও ফুটবল তাঁর ধ্যান-জ্ঞান। সুযোগ পেলে আবারও অভিনয় করতে চান তিনি। কেননা, তাঁর রক্তেই বইছে অভিনয়। বাবা টাবুন মুন্সি জনপ্রিয় মুখ টলিউডের। ফুটবলের পাশাপাশি অভিনয়ের ট্রেনিংও যে ঘরেই পাবেন তিনি, তা বলাই বাহুল্য।

আমান আপাতত মুখিয়ে রয়েছেন ছবি রিলিজের দিকে। ‘ময়দান’ মুক্তি পাচ্ছে ১১ এপ্রিল।

[আরও পড়ুন: বিপজ্জনক! CAA-র বিরুদ্ধে সোচ্চার রাহুল-কমলেশ্বর-ঋদ্ধি]

 

 

 

 

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'ফুটবল বিশ্বযুদ্ধ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Share this article on

The article link is copied.