বদলের বাংলায় সংস্কৃতি জগতে সুখবর। দু’দশকের নির্বাসন অভিশাপ কাটিয়ে শেষমেশ ‘মুক্ত’ বাংলায় পা রাখতে চলেছেন বিশিষ্ট সাহিত্যিক তসলিমা নাসরিন (Taslima Nasrin)। ২০০৭ সালে বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের আমলে তাঁকে কলকাতা থেকে বিতাড়িত হতে হয়েছিল। সেই ‘লজ্জা’ কাটিয়ে আবারও পয়লা আগস্ট তিলোত্তমায় পা রাখবেন তসলিমা নাসরিন। আর তার ঠিক চব্বিশ ঘণ্টা আগেই প্রেক্ষাগৃহের আলো দেখতে চলেছে ‘নির্বাসিত’। চূর্ণী গঙ্গোপাধ্যায়ের হাত ধরে যে সিনেমায় ফুটে উঠেছে লেখিকার ‘অভিশপ্ত’ নির্বাসন যন্ত্রণা।
আরও পড়ুন:
“উনি চাইলে ফ্রান্সের নাগরিকত্বে থাকতে পারতেন বা মার্কিন মুলুকেও চলে যেতে পারতেন। সেই সুবিধে ছিল সরকারের তরফে। কিন্তু উনি ভারত, দিল্লিকেই বেছে নিলেন থাকার জন্য। যাতে বাঙালিদের কাছাকাছি উনি থাকতে পারেন।…”

আগামী ৩১ জুলাই, ফের মুক্তি পেতে চলেছে ‘নির্বাসিত’। যে বাংলা সিনেমা একসময়ে জাতীয় গণ্ডির পাশাপাশি আন্তর্জাতিক স্তরেও বহুল প্রশংসা অর্জন করেছিল। আর তসলিমার কলকাতায় আগমনের আবহে যখন সেই ছবিই আবার মুক্তি পাচ্ছে, তখন সেটা লেখিকার ‘ঘরে ফেরার’র উদযাপনই বটে। ‘নির্বাসিত’র পুর্নমুক্তিতে ততোধিক উচ্ছ্বসিত চূর্ণী গঙ্গোপাধ্যায়। পরিচালক তথা অভিনেত্রী জানালেন, “এটা তসলিমা দিদির বড় জয়। কলকাতায় থাকতে উনি বাধ্য হয়েছিলেন চলে যাতে। একটা সময়ে বাংলাদেশ থেকে বেরিয়ে আসা এবং কলকাতা থেকে চলে যাওয়া এই দুই নির্বাসনকে ঘিরেই আমার এই ছবি। ওঁর অভিজ্ঞতার নির্যাসে। ‘নির্বাসিত’ দেখে মানুষ বুঝবে যে, ওঁকে কী ধরনের পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে। আমরা রিয়েল লোকেশনেও শুটিং করেছি, নিরাপত্তার কারণে যে দ্বীপে ওঁকে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল, সেখানে গিয়ে আমরা শুটিং করেছিলাম। ওঁর সেই একাকীত্ব এবং সেখান থেকে দিল্লিতে থাকতে শুরু করা। উনি চাইলে ফ্রান্সের নাগরিকত্বে থাকতে পারতেন বা মার্কিন মুলুকেও চলে যেতে পারতেন। সেই সুবিধে ছিল সরকারের তরফে। কিন্তু উনি ভারত, দিল্লিকেই বেছে নিলেন থাকার জন্য। যাতে বাঙালিদের কাছাকাছি উনি থাকতে পারেন।”
কলকাতা থেকে আচমকা বিতাড়িত তসলিমা ও মিনুর সাময়িক বিচ্ছেদ, সেই সময়কালে দু’জনের মানসিকতা, একাকিত্ব ও বিচ্ছেদের যন্ত্রণা, পশু-মানুষের সম্পর্ক নিয়েই আবর্তিত এই ছবির গল্প।

স্মৃতি হাতড়ে চুর্ণীর সংযোজন, “তসলিমাদিদি আমাকে বলেছিলেন- ‘এভাবে বাংলা ভাষার বিবর্তনটা বুঝতে পারছি না।’ সেই কষ্টটা ওঁর ছিল। কারণ এতবছরের নির্বাসন। সেই প্রেক্ষিতেই এই ফিরে আসা একটা বিরাট জয়। এবং এই উপলক্ষে আমরা ‘নির্বাসিত’কে আবার রিলিজ করতে পারছি, শুধু তাই নয়, তসলিমাদিদি নিজেও এই ছবি দেখবেন কলকাতায় বসে, এটা বড় প্রাপ্তি। ওঁর পক্ষেও জয়।” নায়িকা মনে করলেন ‘নির্বাসিত’র দিনগুলিতে। চূর্ণীর কথায়, “যখন নির্বাসিত তৈরি করি, তখন জয় গোস্বামী একটা কথা লিখেছিলেন যে- ‘চূর্ণী কলকাতাকে গ্লানিমুক্ত করল।’ আজ বলব, তসলিমাদির কলকাতায় আসা এবং এই শহরে বসেই সিনেমাটা দেখা, সেটা যেন গ্লানিমুক্তির পক্ষে আরও একধাপ বাড়িয়ে দিল।”
‘নির্বাসিত’ ছবিটি তসলিমা নাসরিন ও তাঁর পোষ্য বিড়াল ‘মিনু’কে ঘিরে। কলকাতা থেকে আচমকা বিতাড়িত তসলিমা ও মিনুর সাময়িক বিচ্ছেদ, সেই সময়কালে দু’জনের মানসিকতা, একাকিত্ব ও বিচ্ছেদের যন্ত্রণা, পশু-মানুষের সম্পর্ক নিয়েই আবর্তিত এই ছবির গল্প। যা কিনা আবারও দেখার সুযোগ পাচ্ছে দর্শকমহল।
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
-
অটো চালিয়ে অসুস্থকে বিনামূল্যে পৌঁছে দেন হাসপাতালে, ভাইরাল গভীর রাতের ‘শেরনি’
-
তসরের পাঞ্জাবিতে ঠিক যেন বর! প্রাক্তন স্ত্রী সুস্মিতা মা হতেই এবার বিয়ের পিঁড়িতে সব্যসাচী?
-
হাতে ৩৫ লাখি ব্যাগ, ২১ লক্ষের ঘড়ি পরে সংসদে ‘ক্যুইন’, মহুয়ার পর চর্চায় কঙ্গনার ‘ব্যাগবতী’
-
কলকাতায় আসার ঝঞ্ঝাট নেই, এবার চাকদহ থেকে সোজা শিলিগুড়ি! এসি বাস চালু এ সপ্তাহেই
-
ওয়ানডে বিশ্বকাপের দলে ঢুকতে কী করতে হবে? এবার ‘ব্রাত্য’ শামির জন্য এগিয়ে এলেন জাহির খান