Hiran Chatterjee

ঘরে বউ রেখে দ্বিতীয় বিয়ে, জামিন অযোগ্য ধারায় মামলা রুজু বিধায়ক হিরণ ও ঋতিকার বিরুদ্ধে

প্রথম স্ত্রীর অভিযোগের ভিত্তিতে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার তিন ধারায় মামলা রুজু হয়েছে খড়গপুরের 'মাচো' বিধায়কের বিরুদ্ধে।

Advertisement
অর্ণব আইচ
অর্ণব আইচ

শেষ আপডেট: জানুয়ারি ২৩, ২০২৬, ১৯:৪২

options
link
ঘরে বউ রেখে দ্বিতীয় বিয়ে, জামিন অযোগ্য ধারায় মামলা রুজু বিধায়ক হিরণ ও ঋতিকার বিরুদ্ধে
ছবি- ইনস্টাগ্রাম

প্রথম স্ত্রী থাকা সত্ত্বেও দ্বিতীয় বিয়ে নিয়ে ব্যাপক সমালোচনার মুখে খড়গপুর শহরের বিজেপির বিধায়ক তথা খড়গপুর পুরসভার ৩৩ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর হিরণ চট্টোপাধ্যায়। বুধবার রাতেই আনন্দপুর থানায় হিরণ্ময় চট্টোপাধ্যায় ও তাঁর দ্বিতীয় স্ত্রী ঋতিকা গিরির বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেছিলেন নেতা-অভিনেতার প্রথম স্ত্রী অনিন্দিতা চট্টোপাধ্যায় এবং মেয়ে নিয়াসা চট্টোপাধ্যায়। সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই এবার মামলা রুজু হল হিরণ এবং ঋতিকা গিরির বিরুদ্ধে।

Advertisement

প্রথম স্ত্রী’র সঙ্গে আইনি বিচ্ছেদ না করেই দ্বিতীয়বার ছাঁদনাতলায় বসেছিলেন হিরণ চট্টোপাধ্যায়। খবর প্রকাশ্যে আসার পরই ওয়াকিবহালমহল বলেছিল, হিন্দু ম্যারেজ অ্যাক্ট ১৯৫৫ অনুযায়ী এই বিয়ে আইনত অপরাধ। ফলস্বরূপ, অভিযুক্তের বছরখানেকের জেলও হতে পারে। অতঃপর হিরণের দ্বিতীয় দাম্পত্য ইনিংস এখন বিনোদুনিয়ার ‘টক অফ দ্য টেবিলে’র গণ্ডি পেরিয়ে রাজনৈতিকমহলেও তীব্র চর্চার বিষয় হয়ে উঠেছে। এবার পুলিশি সূত্রে খবর, বধূ নির্যাতন, এক স্ত্রী থাকা সত্ত্বেও অন্য বিয়ে করা, যা জামিন অযোগ্য ধারা। একজন আরও একজনকে অপরাধে সাহায্য করার মতো ধারাও যুক্ত করা হয়েছে। পাশাপাশি হিরণ্ময় এবং ঋতিকার বারাণসীতে তোলা বিয়ের যে ছবি ভাইরাল হয়েছে পুলিশকে প্রমাণ হিসেবে তা দিয়েছেন প্রথম স্ত্রী অনিন্দিতা। 

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'ফুটবল বিশ্বযুদ্ধ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন
Advertisement

অভিযোগপত্রে হিরণের প্রথম স্ত্রী অনিন্দিতা লেখেন, ‘আমি হতভাগ্য স্ত্রী। ১১ ডিসেম্বর ২০০০ সালে উলুবেড়িয়াতে হিরণ্ময়ের সঙ্গে আমি বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হই। হিরণ্ময়ের খড়গপুরে সম্পত্তি আছে এবং প্রভাবশালীও বটে। দিনের পর দিন তিনি আমাকে ও আমার মেয়েকে মানসিক, শারীরিক, অর্থনৈতিকভাবে অত্যাচার করেছেন। আমার মেয়ের উনিশ বছর বয়স। সেও এই ঘটনায় ভুক্তভোগী। বাবার ব্যবহারে সে রীতিমতো হেনস্তার শিকার হয়েছে। আমাদের উপর অমানুষিক অত্যাচার চালানো হয়েছে দিনের পর দিন।”

Advertisement

অনিন্দিতা আরও বলেন, ‘আমি ও হিরণ্ময় আইনত বিবাহিত হওয়ার পরও তিনি একজন একুশ বছর বয়সি মেয়েকে বিয়ে করেছেন। যা আমি সোশাল মিডিয়া মারফত জানতে পেরেছি। এবং এটি সম্পূর্ণ আইনবিরুদ্ধ। সোশাল মিডিয়াতে বলা হচ্ছে যে, হিরণ্ময় নাকি এই বিয়ে পাঁচ বছর আগেই করেছেন। এখন আবার বেনারসে বিয়ে করেছেন। আমি জীবিত থাকা সত্বেও উনি যেভাবে বিয়ে করেছেন তা আইনত শাস্তিযোগ্য।’

গেরুয়া শিবিরের তারকা বিধায়কের দ্বিতীয় ‘বিবাহ অভিযান’ যেন ধারাবাহিকের চিত্রনাট্যকেও হার মানাবে! একদিকে প্রথমা স্ত্রী অনিন্দিতা চট্টোপাধ্যায়, আরেকদিকে নবপরিণীতা ঋতিকা গিরি, দু’জনের পরোক্ষ ভার্চুয়াল বাকবিতণ্ডা নিয়েও চর্চার নেই। তবে দিন তিনেক ধরে চলা বিতর্কের জল এতদূর গড়ালেও এখনও পর্যন্ত হিরণের মুখে কুলুপ। অনিন্দিতার আইনি হুঁশিয়ারিতেও ‘টু’ শব্দটি করেননি তিনি। এদিকে সতীনকে আইনি চ্যালেঞ্জ ছোড়া পোস্টও সরিয়ে ফেলেছেন ঋতিকা গিরি।

ছবি ইনস্টাগ্রাম

মঙ্গলবার দুপুর থেকেই সোশাল পাড়ার চর্চায় বিজেপির তারকা বিধায়কের দ্বিতীয় দাম্পত্য ইনিংস। পঁচিশ সালেই শোনা গিয়েছিল হিরণ চট্টোপাধ্যায়ের জীবনে উঁকি দিয়েছে নতুন বসন্ত! তবে তখন নেতা-অভিনেতার পাশে দেখা গিয়েছিল অন্য এক রহস্যময়ী নারীকে। যিনি খড়্গপুরের স্থানীয় বাসিন্দা। তবে হিরণ যে আঠাশ বছরের ছোট আপ্তসহায়কের সঙ্গে বৈবাহিক বন্ধনে আবদ্ধ হবেন, সেকথা কাকপক্ষীতেও টের পায়নি! কিন্তু সোশাল মিডিয়ায় বিয়ের খবর প্রকাশ্যে আনতেই সমালোচনার মুখে পড়তে হয় হিরণকে। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে অনিন্দিতা জানান যে, “একাধিক নারীসঙ্গের অভ্যেস হিরণ চট্টোপাধ্যায়ের বরাবরের। একবার হিরণের শরীর খারাপ হওয়ায় না জানিয়ে খড্গপুরের বাড়িতে গিয়েছিলাম। তখন ঋতিকা আমাকে দেখেই ভূত দেখার মতো সেখান থেকে পালিয়ে যায়। হিরণও হতভম্ব হয়ে গিয়েছিল আমাকে দেখে। তখন থেকেই আমার সন্দেহের উদ্রেক হয়। কিন্তু হিরণ বলেছিল, ঋতিকার মায়ের জন্মদিন, তাই তাড়াহুড়ো করে বেরিয়ে গিয়েছে। শুধু তাই নয়। একবার হিরণ আমাকে বলেছিল- ‘ঋতিকা আত্মহত্যার ভয় দেখাচ্ছে। ছুরি নিয়ে মারতেও এসেছিল।” পঁচিশ বছরের দাম্পত্যে মানসিক যন্ত্রণার কথাও তুলে ধরেছেন অনিন্দিতা। এবার সেই প্রেক্ষিতেই বিশ্বাসভঙ্গ ও বধূ অত্যাচারের মামলা দায়ের হল হিরণ চট্টোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে।

এদিকে বুধবার আনন্দপুর থানায় দাঁড়িয়েই সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে অনিন্দিতা জানিয়েছিলেন, “আমাদের ডিভোর্স হয়ে যাক। তারপর নাচতে নাচতে বিয়ে করুক। হিরণ চট্টোপাধ্যায় ওকে বিয়ে করে কি না দেখব। আমি বার্তা দিলাম ওকে, দেখি কত সুখে শান্তিতে ও সংসার করে। সারাদিন তো শুনি আত্মহত্যা করতে যাচ্ছে। বিয়ের আগে যে মেয়ে ১৫ বার আত্মহত্যা করতে যায়, সে যে কত সুখে জীবনযাপন করবে আপনারাই বলুন।” অনিন্দিতার সঙ্গে ছিলেন মেয়ে নিয়াশা। মেয়েকে নিয়ে অনিন্দিতা আনন্দপুর এলাকার বাইপাস সংলগ্ন একটি আবাসনে থাকেন। নিয়াশা বলেন, “ঋতিকা গিরি নিজেই আমাকে মিসড কল দিয়েছিল। তারপর মেসেজ করে জানিয়েছিল আত্মহত্যা করতে যাচ্ছি।”

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'ফুটবল বিশ্বযুদ্ধ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন