পাঁচ বছর ধরে আমি কমিটেড: নুসরত জাহান

আজ মুক্তি পাচ্ছে তাঁর আর দেবের ‘লাভ এক্সপ্রেস’। এই সুযোগে নিজের জীবনের লাভ এক্সপ্রেসের সফরনামা উঠে এল নায়িকার জবানিতে।

Advertisement
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: সেপ্টেম্বর ৯, ২০১৬, ১৩:১১

options
link
পাঁচ বছর ধরে আমি কমিটেড: নুসরত জাহান

অকপটে বললেন নুসরত৷ আজ মুক্তি পাচ্ছে তাঁর আর দেবের ‘লাভ এক্সপ্রেস’। এই সুযোগে নিজের জীবনের লাভ এক্সপ্রেসের সফরনামা উঠে এল নায়িকার জবানিতে।

Advertisement

nusrat1_web

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'ফুটবল বিশ্বযুদ্ধ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন
Advertisement

সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: আবারও নতুন ছবির রিলিজ৷ প্রোমোশন-এর চাপ৷
নুসরত: প্রোমোশন করা দায়িত্ব৷ চাপ নয় আমার কাছে৷ একটা ছবির সাফল্য প্রোমোশনের ওপর নির্ভর করে৷ আই অ্যাম হ্যাপি৷ অনেকদিন বাদে আমাকে আর দেবকে দর্শক একদম অন্যরকম ভাবে পাবে৷

Advertisement

সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: ট্রেলারটা লোকজনের ভাল লেগেছে৷ কিন্তু ছবিটা আরও আগে রিলিজ হওয়ার কথা ছিল না?
নুসরত: অন-অফ করতে করতে এক বছর হয়েছে ঠিকই৷ রাজীবদার ছবি এমন হয়৷ ‘পাওয়ার’-এর আগে দেবের সঙ্গে আমার ‘খোকা ৪২০’ ছিল৷ সেটাতেও রাজীবদা ছিল৷ অলমোস্ট এক বছর লেগেছিল রিলিজ ফাইনাল হতে৷ আমার মনে হয়, এই ছবিটাতে লোকজন আমাদের চরিত্রটার সঙ্গে কানেক্ট করবে৷ লাল আর নীল আমাদের নাম৷ ট্রেন মিস করাটা মানুষের জীবনে থাকেই৷ কাজেই মজা পাবে লোকজন৷ আমি অনেকটাই আশা করছি এই ছবিটার ওপর৷ ট্রেন মিস করার গল্প, ইট্স অ্যাবাউট জার্নি৷ আর আমি নীল অর্থাৎ ‘নীলাশা’ আর দেব লাল ওরফে ‘রক্তিম’৷

সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: আপনি নিজে কখনও ট্রেন মিস করেছেন?
নুসরত: হ্যাঁ, করেছি৷ এই তো গত বছর ‘ব্যোমকেশ’-এর শুটিং করতে করতে কলকাতায় এসেছিলাম দু’দিনের জন্য৷ তারপর শুটে ফেরার সময় রাতের ট্রেন ছিল৷ স্ট্র্যান্ড রোডের বীভৎস জ্যামে আটকে গেলাম৷ ব্যস, ট্রেন মিস করলাম৷ শেষে ভায়া দিল্লি ফ্লাইট-এ গেলাম৷ খুব হেকটিক ছিল জার্নিটা৷ ট্রেন মিস আমার কাছে খুব খারাপ অভিজ্ঞতা৷

সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: এই ছবির ইউএসপি কি আপনি আর দেবের জুটি?
নুসরত: আমার আর দেবের কেমিস্ট্রি দারুণ৷ কিন্তু এছাড়াও ছবিটার অনেক ইউএসপি আছে৷ আমার তো ডাবিং করতে গিয়েই ছবিটা দেখতে ইচ্ছে করছিল৷ আর রোমান্স ছাড়িয়ে এই কেমিস্ট্রিটা অনেকটা টম অ্যান্ড জেরির মতো৷

সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: এই বছরটা নুসরতের জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ৷ একদিকে কমার্শিয়াল ছবি, অন্যদিকে অফবিট ছবি৷
নুসরত: ঠিকই বলেছ৷ তবে খুব বেশি এক্সপেক্ট করি না৷ আই জাস্ট গো উইথ দ্য ফ্লো৷ দেড়শো শতাংশ দিয়েছি৷ পজিটিভ আউটকাম চাই৷ দর্শকের পছন্দ কেটার করতে পারছে কি না সেটা আমার দায়িত্ব৷ আর কিছু মাথায় চাপতে দিই না, যে বছরে চারটে না পাঁচটা ছবি হয়ে গেল৷ এগুলো কোনও বড় ব্যাপার নয় আমার কাছে৷ আর নিজের ভাগ্যকে প্রশংসা করি৷ ব্যস৷

nusrat2_web

সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: নুসরত বললে প্রথমে মনে আসে ডাকসাইটে সুন্দরী৷ পরে আসে অভিনেতা৷ রাগ হয় না?
নুসরত: আমি ‘শত্রু’ যখন করেছিলাম তখন কিছুই জানতাম না৷ ক্যামেরার কোন দিকে কীভাবে তাকাব- কিচ্ছু না৷ আমার চোদ্দো গুষ্টির কেউ সিনেমা করেনি৷ এখনও বেশি কিছু ভাবি না৷ প্রত্যেকটা ছবিতে আমি শিখছি৷ আমার মনে হয় দর্শকও সেটা বুঝতে পারে৷ ‘ব্যোমকেশ’-এর পর থেকে অনেক শিখেছি৷ আর যখন ‘লাভ এক্সপ্রেস’ দেখবে তখনও বুঝবে এটা ‘নীলাশা’; নুসরত না৷ নুসরত ওরকম না৷ এটা মাই ওয়ান অফ দ্য বেস্ট অ্যাকটেড ফিল্ম৷ অভিনয়ের জায়গা খুঁজে চলেছি আমি অবিরত৷

সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: কিন্তু এই ধরনের কমার্শিয়াল ছবিতে নায়িকা স্রেফ আই ক্যান্ডি…
নুসরত: না৷ এই ছবিতে আমার জাস্ট তিনটে জামা৷ কোনও আলাদা লুক নেই৷ কীভাবে আই ক্যান্ডি হয়ে ঘুরব? সেম লুক সবসময়৷ চরিত্রে অভিনয়ই শেষ কথা৷

সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: আগামিদিনে তা হলে অ্যাক্টর নুসরতকে পাব?
নুসরত: আমি আত্মবিশ্বাসী৷ অভিনয়টা জানতামই না৷ প্রত্যেকটা ফিল্ম পেরিয়ে সেটা শিখছি৷ শুরুটা অরিন্দমদার হাত ধরে৷ কিন্তু আমি এ কথাও বলব রাজীবদা, রবিজির ছবিতে কাজ করতে গিয়েও শিখেছি৷ প্রত্যেকটা ছবিতেই দারুণ অভিজ্ঞতা৷ আমি আদতে ডিরেক্টর্স অ্যাক্টর৷ যেমন ‘জুলফিকর’ করতে গিয়ে সৃজিতদার কাছে একদম সারেন্ডার করেছি৷ সৃজিতদা সকাল থেকে সন্ধে অবধি অপেক্ষা করতে পারে নিখুঁত শট-এর জন্য৷ সাংঘাতিক খেটে আমরা কাজটা করেছি৷

সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: এবার পুজোয় অনেক ছবি একসঙ্গে আসবে, সেটা খারাপ নয়?
নুসরত: না, আমি ভাবি একটা বুফে অর্ডার করা হয়েছে৷ যে যেটা খুশি খাবে৷

সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: অরিন্দম শীল আগামী ‘ব্যোমকেশ’-এ আপনাকে নিলেন না! রাগ হয়নি?
নুসরত: না, না৷ আমার করার মতো চরিত্র কোথায়? যেটা করতে পারব, সেটাতে তো নেবেন!

nusrat3_web

সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: অথচ আপনার বন্ধু সায়ন্তিকা করছে এই ছবিতে…
নুসরত: হ্যাঁ, ওটা ওরই রোল৷ পুরনো দিনের বাঈজির চরিত্রে ওকে দারুণ মানাবে৷ আর একটা কারণ শি ইজ এ ফ্যাবুলাস ডান্সার৷ ওকে আমি-ই প্রথম বলেছিলাম এই রোলটা কর৷ গয়না-স্টাইলিং নিয়ে আমরা আলোচনাও করেছিলাম৷

সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: চারিদিকে যখন সম্পর্ক ভাঙছে তখন আপনি চিন্তিত নন?
নুসরত: তুমি যাদের কথা বলছ তারা আমার বন্ধু৷ নিজের ক্ষেত্রে বলতে পারি পাঁচ বছরের কমিটেড সম্পর্কে আছি আমি৷ হ্যাঁ, এটা ঠিক সিচুয়েশন কখন কী হয় কিছুই বলা যায় না৷ সবই ভাগ্য৷ আমি চেষ্টা করছি একটা স্টেবিলিটি আনার৷ বিয়ের পরেও কিন্তু সম্পর্ক ভাঙে৷ আমি চেষ্টা করব সেটা স্টেবল রাখার৷

সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: এবার কি বলবেন সেই মনের মানুষটির কথা?
নুসরত: (হাসি) এখন থাক৷ ও লো প্রোফাইল-এর জীবন ভালবাসে৷ আজকে আমি বড় গলায় কমিটেড থাকার কথা বলছি৷ কারণ আমি একদম সাধারণ মানুষ৷ নায়িকা নই৷ সিনেমা করি বলে শুধু মিনারেল ওয়াটার খাব, বাড়িতে ঘড়ার জল খাব না- সেই শিক্ষা আমি পাইনি৷ প্রথমে আমি মানুষ৷ চিরকাল সেরকমই থাকব৷

সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: মাচার শো, না শুটিং- কোনটা বেশি পছন্দ?
নুসরত: আমার কাছে সিনেমার জন্য টাকাটা ম্যাটার করে না৷ রোলটা গুরুত্বপূর্ণ৷ ফিল্মের প্রায়োরিটি আমার কাছে অনেক আগে৷ ফিল্ম-এর গানগুলো হিট না হলে মাচায় গিয়ে কী করব৷ ছবি আছে বলেই আজকে মাচা হিট হয়েছে৷

সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: ‘ভেঙ্কটেস ফিল্মস’-এর ব্যানার ছাড়া কি ছবি করবেন না? ছবির সংখ্যা বাড়ানো উচিত মনে হয় না?
নুসরত: ছবির সংখ্যাটা খুব গুরুত্বপূর্ণ নয় কিন্তু! একটু স্লো যেতে অসুবিধে কোথায়? আমার খুব তাড়া নেই৷ আপাতত ভেঙ্কটেশ-এর কাজ পরপর আসছে তাই করছি৷ সেরকম ব্যাপার নয়, যে এই ব্যানার ছাড়া আর কাজ করব না৷ নিশ্চয়ই অন্যদের ছবি করব৷ তেমন রোল পেলে!

(সাক্ষাৎকার: শম্পালী মৌলিক, শুটিংস্থল: দ্য ললিত গ্রেট ইস্টার্ন, ছবি: শুভেন্দু চৌধুরি)

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'ফুটবল বিশ্বযুদ্ধ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Share this article on

The article link is copied.