এবারের ‘দ্য একেন : কেরালায় কুরুক্ষেত্র’র সেনসেশন তা হলে রাইমা সেন?
আরও পড়ুন:
(জোরে হাসি), একেন্দ্র সেন আর রাইমা সেন দু’জন এবার এক ছবিতে প্রথমবার। আমি তো খুব খুশি। পরিচালক জয়দীপ মুখোপাধ্যায় যখন আমাকে ফোন করেছিলেন, প্রথম ফোনটা আমি ধরতে পারিনি। তখন মেসেজ করেছিলাম যে কী বিষয়ে। উনি সঙ্গে সঙ্গে জানিয়েছিলেন, ‘ইট’স রিগার্ডিং মাই ফিল্ম’। আমার সঙ্গে ওঁর আলাপ ছিল না। ‘একেন’ নিয়ে আমি একদম ক্লুলেস ছিলাম। জিজ্ঞেস করেছিলাম, কোন ছবি। তারপর সবাইকে জিজ্ঞেস করে জানতে পারলাম এত পপুলার একটা ফ্র্যাঞ্চাইজি! তখন জয়দীপদা বলেন, একটা ভালো চরিত্র আছে। তারপর আমি মাকে ‘একেনবাবু’ সিরিজ দেখাই। এখন আমার থেকেও ‘একেনবাবু’র বড় ফ্যান আমার মা। অনির্বাণদাকে দেওয়ার জন্য আমার ব্যাগে চকোলেট বা বিস্কুট পাঠিয়ে দেয়। মায়ের খুব ইচ্ছে ‘খুকু’ করার জন্য (একেনবাবুর স্ত্রী যার অস্তিত্ব শুধুই ফোনে)। মা পুরোদস্তুর একেন ফ্যান।
অনেক বছর পর আপনার পুজো রিলিজ। যতদূর মনে পড়ছে ‘বাইশে শ্রাবণ’ বোধ হয় আপনার শেষ পুজো রিলিজ ছিল? তার আগে ২০০৩-এ ‘চোখের বালি’ ছিল।
তাই না! এতগুলো বছর আগে আমার ইয়ার মনে নেই। একজন আমাকে আজকে মনে করিয়ে দিল, বহু বছর পর আমার পুজো রিলিজ এবার। পুজো আমার জন্য লাকি। অনেক বছর পর অনেক কিছু ঘটছে। যেমন এসভিএফ-এর সঙ্গে অনেক বছর পর কাজ করলাম এই ছবিতে। জয়দীপদার সঙ্গে প্রথমবার করলাম। ঋত্বিক, অম্বরীশ, কমলেশ্বরদা সকলের সঙ্গেই অনেকদিন পর কাজ করলাম, একদম রিইউনিয়নের মতো। অনির্বাণ চক্রবর্তীর সঙ্গে কাজ করলাম। আগে ‘চালচিত্র’ করলেও সেভাবে একসঙ্গে ছিল না আমাদের। কেরালাতে আমি আগে মালয়ালম ফিল্মের জন্য গিয়েছি তবে বাংলা ছবির শুটিংয়ের জন্য এই প্রথম। মুন্নার বা কোচিতে আমি প্রথম গেলাম এই শুটিংয়ের জন্য।
আথিরাপল্লি যে জলপ্রপাত যাকে ভারতের নায়াগ্রা বলা হয়, সেখানে শুটিং করেছেন।
দারুণ অভিজ্ঞতা! সেদিন সকাল সাড়ে তিনটেয় কলটাইম ছিল। খুব সুন্দর কিন্তু শুটিংয়ের মধ্যে ততটা উপভোগ করা যায় না।
সব মিলিয়ে শুটিং কেমন হয়েছে?
খুব ভালো। পাঁচদিন কেরালায় ছিলাম। প্রচুর সিন ছিল। জয়দীপদার সঙ্গে কাজ করে আমি খুব খুশি। খুব পার্টিকুলার কী চাইছেন সেই বিষয়ে। খুব দ্রুত কাজ করেন। প্রথমদিন দেখলাম আমার প্রচুর সিন। আমি একটু ভয় পেয়ে গিয়েছিলাম। আমি ভেবেছিলাম পনেরো-কুড়িঘণ্টা কাজ করতে হবে। কিন্তু না, জয়দীপদা খুব তাড়াতাড়ি কাজ তুলে নিতে জানেন। তখনই আমি বুঝে গিয়েছিলাম কত সিন, কত লোক ওসব ম্যাটার করে না ওঁর। প্রচুর সাউথ ইন্ডিয়ান খাবার খেয়েছি, আমি কিছুটা ঘুরেওছি।
‘ইরফান ফাজিল’ মানে ঋত্বিক চক্রবর্তীর সঙ্গে শট ছিল?
হ্যাঁ, ঋত্বিকের সঙ্গে তো বটেই। সকলের সঙ্গেই ছিল।
পুজোয় এরকম একটা হিট ফ্র্যাঞ্চাইজি এবং যেখানে রহস্য সন্ধান রয়েছে ‘একেন’-এর মতো মিষ্টি গোয়েন্দা টিমটাকে লিড করছে। বিষয়টা কতটা কিক দিচ্ছে? আরও তিনটে বাংলা ছবি রিলিজ আছে পুজোয়।
আমার তো খুব ভালো লাগছে এইরকম একটা ফ্র্যাঞ্চাইজির অংশ হতে পেরে। আর প্রত্যেকটা ছবি আলাদা জনারের। তাই মনে হয় সেভাবে প্রতিযোগিতা নেই। আমার সব থেকে বড় ‘কিক’ হল এত বছর পর আমার পুজো রিলিজ।
শুটিংয়ে কোনও দিন ‘একেনবাবু’র সঙ্গে ঝগড়া হয়েছে?
না না, ঝগড়া হয়নি। তবে আমি প্রচুর কথা বলি। উল্টোদিকে অনির্বাণদা নিজের কাজ নিয়ে ভীষণ সিরিয়াস। শটের আগে একদম মনযোগ সহকারে চুপ হয়ে যায়, সেটা আমি বুঝতে পেরেছি।

আপনার চরিত্র ‘দীপা’ খুব গুরুত্বপূর্ণ ছবিতে ঠিকই, তবে একেনের সঙ্গে একটা প্রেমের অ্যাঙ্গেল থাকলে কেমন হত?
দুঃখের বিষয় একেনের তো বিয়ে হয়ে গিয়েছে। ভাবছি জয়দীপদাকে জিজ্ঞেস করব তাও একেনের কোনও প্রেম হতে পারে কি না (হাসি)। মনে হয় একেন বলবে, ওকে এত ক্লু সলভ করতে হয়, প্রেম করলে ওই সব হবে না!
আসল কুরুক্ষেত্র যুদ্ধ হচ্ছে, আপনি এবার শিবপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের প্রতিপক্ষ শিবিরে।
(হাসি) আমি জানি তুমি এই প্রশ্নটা করবে। আমি জিনিয়াকে ফোন করে জানিয়েছিলাম যখন ‘একেন’-এর অফার পেয়েছিলাম। জিনিয়া আমাকে বলেছিল, এটা তোমাকে করতে হবে, এটা ভীষণ জনপ্রিয় ফ্র্যাঞ্চাইজি।
আবির, দেব, যিশুর সঙ্গেও কিন্তু এবার লড়াই।
আমি জানি সবার ছবি একসঙ্গে আসছে। তবে যেটা বললাম, প্রত্যেকটা ছবি আলাদা ধরনের। আমরা খুব লাকি, বাচ্চা-বড় সকলে একেনকে পছন্দ করে। এখন তো আমি যেখানেই যাই, সবাই একেনের কথা বলে। আমি সত্যিই জানতাম না ‘একেন’ এতটা পপুলার। আমার বন্ধুবৃত্তে প্রচুর যে বাংলা ছবি দেখে এমন নয় কিন্তু এখন বুঝছি সকলে খুব উত্তেজিত আমি ‘একেন-ফিল্ম’ করছি বলে।

পুজোর ছবি ছাড়া আপনার কাছে অন্য কাজ আসছে না?
দু-তিনটে ছবির অফার এসেছে। বিরাট ভালো নয় এখনও। তবে নিশ্চিত ভাবে ওয়েব সিরিজ করব হইচই-এর জন্য। আমার বন্ধুদের আমি এবার ‘দ্য একেন : কেরালায় কুরুক্ষেত্র’ দেখাতে চাই। আর হনসল মেহতার একটা সিরিজ (ফ্যামিলি বিজনেস) রিলিজ করার কথা। হয়তো এই বছরেই আসবে।
পুজোয় ছবি রিলিজ ছাড়া আর কী প্ল্যান?
সাধারণত ঠাকুর দেখা হয় না। তবে পুজো পরিক্রমায় ডাকে যখন ওই কাজটা আমি এনজয় করি। আর মায়ের সঙ্গে সময় কাটাব। শপিং করব। বন্ধুদের মিট করব। খাওয়াদাওয়া করব। আর অবশ্যই একেনের প্রমোশন, হল ভিজিট তো থাকবেই।
পুজোয় আমিষ না কি নিরামিষ?
অবশ্যই আমিষ খাব। আর শুধু পুজোর চারদিন বলে নয়, আমি কোনওদিন ডায়েট করি না। পুজো হচ্ছে বড় এক্সকিউজ আরও ডায়েট না করার।
পুজোয় বাঙালির অন্যতম মনকেমন ঝাড়িমারা আর অভ্যাস হালকা প্রেমে পড়া। কী পরিকল্পনা?
কলকাতায় এমন কোনও প্ল্যান নেই। কারণ, তেমন কাউকে পাই না। এতদিনেও ভালো ছেলে খুঁজে পাইনি। এখন মা-ও বিয়ে নিয়ে কিছু বলে না। বরং জোর করে কিছু না করতেই বলে। আমারও বিয়ে করার তাগিদ নেই।
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
-
হাই কোর্টের ছাদে নমাজ পড়া হলে দুর্গাপুজো নয় কেন! মামলা উড়িয়ে প্রধান বিচারপতি বললেন, ‘এটা কোনও বিষয়ই নয়’
-
হেজবোল্লার ত্রাস ‘পেজার’ হাতে রাষ্ট্রসংঘে আস্ফালন নেতানিয়াহুর, ফাঁকা হলে ইরানকে তুলোধোনা
-
পুরভোটের আগে রাজ্য বিজেপিতে বড় রদবদল, মহিলা মোর্চার দায়িত্বে অভিনেত্রী অঞ্জনা
-
ঘুষের রং গোলাপি, টাকা ছুঁলেই লাগছে হাতে! এবার হাতেনাতে ধরা পড়লেন উলুবেড়িয়ার জুনিয়র ইঞ্জিনিয়ার
-
এবার হিন্দি হবে শীর্ষ আদাতের সরকারি ভাষা! জনস্বার্থ মামলা নিয়ে কী বলল সুপ্রিম কোর্ট?