রাজপাল যাদবের (Rajpal Yadav) ঠিকানা আপাতত তিহাড় জেল। ৯ কোটির চেক বাউন্স মামলায় গত বৃহস্পতিবারই আত্মসমর্পণ করেছেন বলিউড অভিনেতা। একসময়ের খ্যাতনামা কৌতুকাভিনেতা। অক্ষয় কুমার, সুনীল শেট্টি, পরেশ রাওয়াল, গোবিন্দা থেকে সলমন খান, সঞ্জয় দত্তের মতো তাবড় তারকাদের সঙ্গে কাজ করেছেন। এমনকী নওয়াজউদ্দিন সিদ্দিকির সঙ্গেও তাঁর গলায় গলায় বন্ধুত্ব ছিল। আর সেই অভিনেতাই কিনা আত্মসমপর্ণের সময়ে কাতর কণ্ঠে জানান, “আমার কোনও বন্ধু নেই, যে বকেয়া টাকা মেটাবে।” এমন মন্তব্য প্রকাশ্যে আসার পরই বলিউডের বিরুদ্ধে স্বার্থপরতার অভিযোগ উঠেছে। অনুরাগীমহলের একাংশ প্রশ্ন তুলেছেন, রাজপাল যাদবকে কি ভুলে গেল হিন্দি সিনেইন্ডাস্ট্রি? এমন আবহেই ঈশ্বরের দূতের মতো অভিনেতার পাশে দাঁড়ালেন সোনু সুদ (Sonu Sood)।
আরও পড়ুন:
এইমুহূর্তে প্রযোজক-পরিচালক, সহকর্মীদের ওঁর পাশে দাঁড়ানো উচিত। একটা ছোট্ট কাজের মূল্যও এখন রাজপালের কাছে ভবিষ্যতের সম্বল হতে পারে।
২০১৮ সালের এপ্রিল মাসে ম্যাজিস্ট্রেট আদালত রাজপালকে ৬ মাসের কারাদণ্ড দিয়েছিল। সেই রায়কে চ্যালেঞ্জ করে দিল্লি হাই কোর্টের দ্বারস্থ হন অভিনেতা এবং তাঁর স্ত্রী। চেক বাউন্সের মামলায় সেসময়ে তাঁদের সাজা স্থগিত হয়ে যায়। ২০২৪ সালে ফের দোষী সাব্যস্ত হলেও রাজপালের সাজা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়। মামলাকারীদের সঙ্গে সমঝোতা করে বা আথিক ক্ষতিপূরণ দিয়ে বিষয়টির নিষ্পত্তি হয়ে যাবে বলেই আশা করেছিল আদালত। কিন্তু পরে জানা যায়, পঁচিশের অক্টোবর মাসে দেড় কোটি টাকা ডিমান্ড ড্রাফটে জমা দিয়েছেন অভিনেতা। তবুও এখনও ৯ কোটি টাকা বকেয়া রয়েছে রাজপালের। বৃহস্পতিবার তাই আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, দিল্লিতে গিয়ে আত্মসমর্পণ করেন তিনি। এর আগেও অবশ্য দিন তিনেক তিহাড় জেলেই থাকতে হয়েছিল তাঁকে। তবে সেবার জামিনে রেহাই পান। কিন্তু এবার পরবর্তী শুনানিতে হিল্লে না হলে আপাতত জেলের ঘানিই টানতে হবে রাজপাল যাদবকে। পাশাপাশি এও শোনা যায় যে, দীর্ঘদিন ধরে বলিউডি লাইমলাইট থেকে দূরে থাকায় তাঁর সিনেমার ভাঁড়ারেও টান পড়েছে। ফলত, হাতে কাজ না থাকায় টাকাও মেটাতে পারেননি। এবার রাজপালের গ্রেপ্তারিতে ‘স্বার্থপর’ বলিউডের দিকে আঙুল ওঠায় এগিয়ে এলেন সোনু সুদ।

খবর, রাজপালকে কাজের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন ‘দিলদরিয়া সোনু। এপ্রসঙ্গে অভিনেতার মন্তব্য, “রাজপাল যাদব একজন প্রতিভাবান অভিনেতা যিনি বছরের পর বছর ধরে ভালো কাজ করে সিনেশিল্পকে সমৃদ্ধ করেছেন। কখনও কখনও জীবন দুর্বিষহ হয়ে ওঠে সময় নির্মম বলে। রাজপাল আমার পরবর্তী সিনেমার অংশ হতে চলেছেন। এবং আমার বিশ্বাস, এইমুহূর্তে প্রযোজক-পরিচালক, সহকর্মীদের ওঁর পাশে দাঁড়ানো উচিত। একটা ছোট্ট কাজের মূল্যও এখন রাজপালের কাছে ভবিষ্যতের সম্বল হতে পারে। তাছাড়া আমাদেরই কোনও সহকর্মী যখন কঠিন সময়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন, তখন ইন্ডাস্ট্রির ওঁকে মনে করিয়ে দেওয়া উচিত যে, ও একা নয়। আমরাও ওঁর পাশে আছি। ইন্ডাস্ট্রির উর্ধ্বে গিয়ে এটা যে একটা পরিবার, আবারও সেই দৃষ্টান্ত স্থাপনের সময় এসেছে।” সোনু সুদের এহেন মানবিক উদ্যোগ ইতিমধ্যেই প্রশংসিত হয়েছে।”
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
-
তহবিল মামলায় ধাক্কা কালীঘাট তৃণমূলের, দ্রুত শুনানির আর্জি খারিজ হাই কোর্টে
-
বেতনের নথি সইয়ে অনীহা প্রশাসকদের! পরিচালন সমিতি ভাঙায় সমস্যায় স্কুলের পার্শ্বশিক্ষকরা
-
রাম মন্দির দর্শনে বাধা কংগ্রেস নেতা অজয় রাইকে! অযোধ্যায় ‘গৃহবন্দি’ করল যোগীর পুলিশ
-
ছুটছেন এমবাপে-ডেম্বেলেরা, সুইডেনের বিরুদ্ধে নামার আগে দেশঁর মাথাব্যথা নিজের দলই!
-
‘একেবারে মেরুদণ্ডহীন-চটিচাটা’, মোদির প্রশংসা করতেই কেন কটাক্ষের শিকার মাধবন?