করলা নিয়ে এবার মাস্টারপ্ল্যান তৈরি করতে চলেছে মৎস্য দপ্তর। যে পরিকল্পনায় সব চাইতে বেশি জোর দেওয়া হচ্ছে মাছ সংরক্ষণে। লুপ্তপ্রায় প্রজাতির মাছেদের পুনরায় শহুরে এই নদীর বুকে ফিরিয়ে আনাও এই পরিকল্পনার অন্যতম লক্ষ্য বলে জানা গিয়েছে। পরিকল্পনা বাস্তবায়নে পুরসভার ও সাহায্য চাইবে মৎস্য দপ্তর। জলপাইগুড়ি শহরের গা ছুঁয়ে ৯ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে বয়ে চলেছে করলা নদী। শহরের ফুসফুস এই নদী একাধিকবার আক্রান্ত হয়েছে। গত ৮ ফেব্রুয়ারি বিষক্রিয়ায় করলা নদীর প্রায় ৩০ প্রজাতির মাছ ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
আরও পড়ুন:
এই তালিকায় একাধিক লুপ্তপ্রায় প্রজাতির মাছ ও রয়েছে। এর আগে ২০১১ সালেও একইভাবে আক্রান্ত হয়ে ছিল নদী। একের পর এক ঘটনায় করলার মৎস্য ভাণ্ডার রক্ষা নিয়ে চিন্তায় মৎস্য দপ্তর। এদিকে তারই মধ্যে করলা নদীর নাব্যতা বাড়াতে খননের পরিকল্পনার কথা জানিয়েছে মৎস্যদপ্তর। নদী থেকে পলি, বালি তুলে দুই মিটার গভীরতা বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে। সেচ দপ্তরের এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছে মৎস্য দপ্তর। সব ঠিক থাকলে বর্ষার আগে অথবা পড়ে করলা খননের পরিকল্পনা বাস্তব রূপ পেতে চলেছে। আর এরই মধ্যে মাস্টারপ্ল্যানের কাজও এগিয়ে নিয়ে যেতে চায় মৎস্য দপ্তর।
জলপাইগুড়ি মৎস্য বিভাগের উপ অধিকর্তা রমেশ চন্দ্র বিশ্বাস জানান, খসড়া একটা পরিকল্পনা তৈরি করা হয়েছে তা অনুমোদনের জন্য পাঠানোর আগে বিশেষজ্ঞদেরও পরামর্শ নিয়ে নিতে চান তারা। পরিকল্পনা রয়েছে শহর এলাকায় করলা নদীকে তিনটি ভাগে ভাগ করা হবে। সংরক্ষিত বনাঞ্চলের মতো কোর জোন ও বাফার জোনে ভাগ করা হবে করলা নদীকে। কোর জোনে মানুষের হস্তক্ষেপের উপর নিষেধাজ্ঞা থাকবে। সেই অঞ্চলটা হবে শুধু মাছেদের স্বাধীন এলাকা। বাফার জোনে বিধিনিষেধ কিছুটা লাঘব হলেও মাছেদের পক্ষে ক্ষতিকর এমন কিছু ব্যবহার করা যাবে না।
কোর জোন হিসেবে দিনবাজারে পরবর্তী অংশ থেকে বাবুঘাট পর্যন্ত এলাকাকে ভাবা হয়েছে। উপ মৎস্য অধিকর্তা রমেশ চন্দ্র বিশ্বাস জানান, এই অংশটাতে মাছেদের একটা স্বাভাবিক প্রজনন কেন্দ্র রয়েছে। সেই কারণে এই অঞ্চলটাকে বিশেষ ভাবে সংরক্ষণের আওতায় আনছেন তারা। কোন ধরনের মাছের প্রজাতি এখানে ফেরানো জন্য উপযুক্ত প্রজেক্টে সেই সব বিষয় উল্লেখ রাখার পাশাপাশি এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে পুরসভার ও সাহায্য চাইবে মৎস্য দপ্তর।
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
-
‘নেটওয়ার্কিং সেল’ তৈরিতে সাহায্য? পাক গুপ্তচর রানার সঙ্গীকে রিষড়া থেকে গ্রেপ্তার এসটিএফের
-
দুই-একদিন আসার কালচার বরদাস্ত নয়! শিক্ষক-অধ্যাপকদের হাজিরায় কড়া বার্তা মন্ত্রীর
-
দশে দশে সুথার, মানব-ম্যাজিকে শ্রীলঙ্কায় ঐতিহাসিক ৬০০তম টেস্টে বিরাট জয় ভারতের
-
১০ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছিল হাই কোর্ট, তেহেলকা কর্তার যাবজ্জীবন চেয়ে ‘সুপ্রিম’ দ্বারস্থ গোয়া সরকার
-
জেলায় পড়ে মেশিন, পুরভোটের জন্য দরকার ইভিএম, হাই কোর্টে গেল রাজ্য নির্বাচন কমিশন