গম

জমিতেই হলুদ হয়ে যাচ্ছে গম, ছত্রাকের আতঙ্কে কপালে চিন্তার ভাঁজ কৃষকদের

গম ঝলসা রোগে আক্রান্ত কি না তা খতিয়ে দেখছে কৃষি দপ্তর।

সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: ফেব্রুয়ারি ১০, ২০২০, ১৩:৫৩

options
link
জমিতেই হলুদ হয়ে যাচ্ছে গম, ছত্রাকের আতঙ্কে কপালে চিন্তার ভাঁজ কৃষকদের

সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: ছত্রাক থেকে বাঁচতে গত দু’বছর গম চাষ বন্ধ রেখেছিল সরকার। রাজ্য সরকার নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার পর এবার বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী নদিয়া ও মুর্শিদাবাদ জেলায় গম চাষ করেছেন কৃষকরা। কিন্তু লক্ষ্য করা যাচ্ছে, বেশ কিছু জমির গম হলুদ হয়ে যাচ্ছে। চাষিদের আতঙ্ক, ফের কি তাহলে ঝলসা রোগে আক্রান্ত হচ্ছে গম। এই নিয়ে চিন্তিত সীমান্তের কৃষকরা।

Advertisement

যদিও কৃষিকর্তারা আশ্বাস দিচ্ছেন, এখনই আতঙ্কিত হওয়ার কোনও কারণ নেই। ২০১৫-১৬ সালে ভারতের প্রতিবেশী বাংলাদেশে ছত্রাকঘটিত ঝলসা রোগের জন্য এই দুই জেলায় গম চাষে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছিল। এই রোগ যাতে আর না ছড়ায় এবং রোগ থেকে মুক্তি পাওয়া যায় সেজন্য বিশেষ ভাবে লক্ষ্য রেখেছিল রাজ্যের কৃষি দপ্তর। তাঁদের পক্ষ থেকে নদিয়া ও মুর্শিদাবাদ জেলার কৃষকদের গম চাষ না করতে নানা মাধ্যমে প্রচার করে অনুরোধ করা হয়েছিল। এই রোগের প্রভাবে সীমান্তের নদিয়া মুর্শিদাবাদ এলাকায় জমির গম নষ্ট হয়ে যায়। সেজন্য নদিয়ার চাপড়া, করিমপুর-১ ও ২ এবং তেহট্ট-১ ও ২ ব্লক ও পাশের জেলা মুর্শিদাবাদের সীমান্তবর্তী ডোমকল, রানিনগর, জলঙ্গি, হরিহরপাড়া-সহ বেশ কয়েকটি ব্লকে ঝলসা রোগের জন্য গম চাষে ব্যাপক ক্ষতি হয়। রোগ যাতে না ছড়ায় সেজন্য বেশ কিছু এলাকায় জমির গম কেটে কেরোসিন ঢেলে পুড়িয়ে ফেলেছিল কৃষি দপ্তর।

Advertisement

[আরও পড়ুন: ১০ টাকায় শুরু করে পুঁজি দশ লক্ষ! ফুল চাষে নজির গড়লেন বাংলার কৃষক]

২০১৬ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে কৃষি দপ্তরের আধিকারিকরা স্থানীয় প্রশাসনের সহযোগিতা নিয়ে রোগগ্রস্ত জমিতে যান। দিল্লির কৃষি বিশেষজ্ঞরা রোগগ্রস্ত গম খেত চিহ্নিত করার পর ওই জমির চাষিকে বুঝিয়ে গম কেটে আগুনে পুড়িয়ে দিয়েছিলেন। ঝলসা রোগ এলাকায় যাতে না ছড়ায় সেজন্য লিফলেট ছড়িয়ে প্রচার করা হয়। পাশাপাশি এলাকার কৃষকদের গমের বীজ যাতে বিক্রি না করা হয় সেজন্য বিক্রেতাদের বিশেষভাবে অনুরোধ জানানো হয়েছিল। দুই জেলা মিলে প্রায় এক লক্ষ হেক্টর জমিতে গম চাষ হয়ে থাকে। স্বাভাবিক কারণেই গম চাষ বন্ধ হওয়ায় কৃষকরা সমস্যায় পড়েছিলেন। ঝলসা রোগ প্রতিকারের জন্য সুনির্দিষ্ট কোনও ছত্রাকনাশক এখনও পর্যন্ত আবিষ্কৃত হয়নি। ফলে দুই জেলা মিলে আটশো হেক্টর জমির গম পুড়িয়ে ফেলা হয়েছিল। কিন্তু কৃষকদের কথা ভেবে রাজ্য সরকার গম চাষের জন্য সীমান্তের দুই জেলায় গম চাষের উপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়। করিমপুর ১ নম্বর ব্লকের বিভিন্ন এলাকায় চাষের জমির গম গাছ হলুদ হয়ে যাচ্ছে বলে জানাচ্ছেন কৃষকরা। তাঁদের আশঙ্কা, ফের কি ফিরল ঝলসা রোগ? হোগলবেড়িয়ার লক্ষ্মণ প্রামাণিক জানান, “জমিতে কিছু গমের সদ্য শিষ বেরোচ্ছে। আবার অনেক গমের এখনও শিষ আসেনি।’’

Advertisement

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Share this article on

The article link is copied.