drum stick

দ্বিতীয় পর্ব: ঔষধিগুণ সম্পন্ন সজনে চাষেই লক্ষ্মীলাভের সুযোগ, জেনে নিন খুঁটিনাটি

জেনে নিন বিশেষজ্ঞদের মত।

সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: অক্টোবর ২৭, ২০২১, ১৮:৪০

options
link
দ্বিতীয় পর্ব: ঔষধিগুণ সম্পন্ন সজনে চাষেই লক্ষ্মীলাভের সুযোগ, জেনে নিন খুঁটিনাটি

সজনে গাছ হল পুষ্টির খনি। এই গাছের বহু ঔষধিগুণ রয়েছে। এর মধ্যে থাকা অ্যান্টি ব্যাকটিরিয়াল উপাদান লিভার ও কিডনি সুস্থ রাখতে সাহায্য করে। তাছাড়া সজনের চাষ বেশ লাভজনক। বহু গুণসম্পন্ন এই গাছটি অবশ্যই চাষ করা উচিত। লিখেছেন রামকৃষ্ণ মিশন বিবেকানন্দ এডুকেশনাল অ‌্যান্ড রিসার্চ ইনস্টিটিউট, নরেন্দ্রপুরের শস্য বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক কাজল সেনগুপ্ত।

Advertisement

দ্বিতীয় পর্ব

Advertisement

(প্রথম পর্বের পর..)

Advertisement

সজনে ডাঁটা তুলে ফেলার পর গাছের ডালপালা ছেঁটে দেওয়া হয়। সজনে ছাঁটা ডালগুলিকে অন্যত্র নিয়ে গিয়ে পুঁতে দিলেই নতুন চারা পাওয়া যায়। তাছাড়া এ সময়ে অল্পকিছু বৃষ্টি হয়ে থাকে, যার ফলে লাগানো ডালগুলি সহজেই বেঁচে যায়। সাধারণত শক্ত, সতেজ ও নীরোগ (রোগ ও পোকামাকড়মুক্ত) ৭০-৮০ সেমি লম্বা ও কিছুটা মোটা (১০-১৫ সেমি ব্যাস বিশিষ্ট) ডাল নির্বাচন করা হয়। কাটিং সরাসরি মূল জমিতে লাগালে ভাল ফল পাওয়া যায়। মূল জমিতে সারি বা লাইন করে বীচন (কাটিং) বা চারা লাগানো হয়। দুটি সারির মধ্যে দূরত্ব রাখা হয় দেড় থেকে তিন মিটার (১৫০-৩০০ সেমি)। আর গাছ থেকে গাছের দূরত্ব রাখা হয় ১-১.২ মিটার (১০০-১২০ সেমি)। নির্দিষ্ট দূরত্বে গর্ত করে বীচন (কাটিং) বা চারা গাছ লাগানো হয়। জৈব সারের সাথে মাটি মিশিয়ে গর্ত ভরাট করে তারপর বীচন (কাটিং) বা চারা গাছ লাগানো হয়।

[আরও পড়ুন: নদীতে বেড়েছে ট্যাংরা, বাড়তি উপার্জনের আশায় পূর্ব মেদিনীপুরের মৎস্যজীবীরা]

পরবর্তী পরিচর্যা: সজনে গাছের তেমন একটা পরিচর্যার প্রয়োজন হয় না। শুধু গরু ছাগলের উপদ্রব ঠেকানো সম্ভব হলেই গাছগুলো বড় হয়ে ওঠে। ফাঁক ভরাট করার প্রয়োজন হলে তা ৩০-৩৫ দিনের মধ্যে করাই ভাল। প্রায় ৫০-৬০ দিনের মাথায় ডালে কচি পাতা বের হয় এবং ৯০-১০০ দিনের মাথায় শাখাপ্রশাখা ছড়িয়ে গাছের বৃদ্ধি শুরু হয়। চারা গাছ একটু বড় হলে (প্রায় ৭০-৭৫ সেন্টিমিটার) গাছের ডগাগুলো ভেঙে দেওয়া হয়। এতে বেশি করে ডালপালা বের হয়। সজনে চাষে খুব বেশি সার বা কীটনাশকের প্রয়োজন হয় না। অল্প যত্নে ভাল ফলন পাওয়া যায়। তবে গাছের গোড়া সব সময় আগাছা মুক্ত রাখা দরকার। গাছের বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কিছু অপ্রয়োজনীয় বা শুকিয়ে যাওয়া ডালপালা ছেঁটে দিতে হয়।

কখনও কখনও গাছ খুঁটির সঙ্গে বেঁধে দিতে হয়। প্রায় তিনমাস পরে গাছ প্রতি ৪৫ গ্রাম নাইট্রোজেন, ১৫ গ্রাম ফসফেট এবং ৩০ গ্রাম পটাশ দেওয়া হয়। প্রায় ৬ মাস পর প্রতিটি গাছে আবার ৪৫ গ্রাম নাইট্রোজেন দেওয়া হয়। প্রয়োজন হলে অতি অল্প পরিমাণে জিঙ্ক (দস্তা) এবং বোরন দেওয়া হয়। গাছের গোড়ায় তরল জৈব সার দিলে ফলন বেশি হয়। এছাড়া যে কোনও খোল পচিয়ে দেওয়া যেতে পারে। বীজ বোনার বা চারা গাছ লাগানো পর একটু ঘন ঘন হালকা সেচ দিতে হয়। গাছ একবার লেগে গেলে তেমন জলের প্রয়োজন হয় না। তবে মাটির অবস্থা বুঝে, দীর্ঘদিন খরা চললে সেচ দিতে হবে। বেশি জল হলে গাছ মরে যেতে পারে। উপরের মাটি শুকিয়ে গেলে তবেই অল্প অল্প জল দিতে হবে। এই গাছের রোগবালাই খুব একটা হয় না। শুঁয়োপোকা এই ফসলের এক মারাত্মক শত্রু। গাছের গোড়ার কাছাকাছি আগুন জ্বালিয়ে এই শত্রুকে দমন করা হয়।

ফলন: প্রতিটি গাছ থেকে বছরে ২০০-২২৫ টি ডাঁটা (ফল) পাওয়া যায় (৫০ টন প্রতি হেক্টরে)।

(প্রথম পর্ব পড়ুন এই লিংকে)

[আরও পড়ুন: ঔষধিগুণ সম্পন্ন সজনে চাষেই লক্ষ্মীলাভের সুযোগ, জেনে নিন খুঁটিনাটি]

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Share this article on

The article link is copied.