পদ্ম ফোটাতে মনোযোগ বেড়েছে কলকাতার উপকণ্ঠে রাজারহাটের ‘নার্সারি মহলে’। সঙ্গে আশার আলো দেখছেন চাষি এবং ব্যবসায়ীরা। কয়েকদিন হল বিধানসভা ভোট মিটেছে। সদ্য বিজেপি সরকার গঠন হয়েছে। এরই মধ্যে পদ্মের চাহিদা ক্রমশ তুঙ্গে উঠেছে। এই মুহূর্তে বাজারে চাহিদার তুলনায় পদ্মের জোগানে ঘাটতি দেখা দিয়েছে। ফুল বিক্রেতারা জানাচ্ছেন, এখনই পদ্মের ঘাটতি পূরণ সম্ভব নয়। কারণ, গেরুয়া ঝড়ে কার্যত বাজার মাত করছে পদ্মফুল। সেই জায়গা থেকেই আবার আশার আলো দেখছে রাজারহাটের নার্সারি মহল। এবার নার্সারি বাগানে পদ্মচাষের বাড়বাড়ন্ত হবে বলে জানাচ্ছেন কৃষকরা।
আরও পড়ুন:
এরই হাত ধরে আরও একটি আশা আলো ফিরছে, এই অঞ্চলে প্রচুর জলাশয় এতদিন সংস্কারের অভাবে কার্যত ধুঁকছিল। পদ্ম যেহেতু জলে চাষ হয়, তাই এবার বেহাল জলাশয়গুলি সংস্কারে হাত দিতে চলেছেন চাষিরা। নার্সারি চাষি অর্জুন সরদার, দেবাশিস মণ্ডলদের বক্তব্য, জলাশয়ের অভাবে এতদিন কৃত্রিম উপায়ে ড্রাম, বড় টবে জল জমিয়ে রেখে পদ্মচাষ হত। এবার চাহিদা বাড়তেই কৃষকরা খাল, বিল, নর্দমা জলাশয় সংস্কারে উদ্যোগী হচ্ছেন। একই মত ফুলচাষি তথা চাঁদপুর পঞ্চায়েতের নওয়াবাদ অঞ্চলের বিজেপির সদস্য তরুণ সর্দারের। তিনি বলেন, “পদ্মফুল চাষ বাড়াতে জলাশয় সংস্কারে পঞ্চায়েত প্রশাসনের সব রকম সহযোগিতা করা হবে।” এই পঞ্চায়েত এলাকা থেকে নির্বাচিত রাজারহাট পঞ্চায়েত সমিতির একমাত্র বিজেপি সদস্য রুমা মণ্ডল জানিয়েছেন, “সদ্য সরকার গঠন হয়েছে। কৃষক ও ফুল ব্যবসায়ীদের সুবিধার্থে নার্সারি বাগানগুলিতে পদ্মচাষ বাড়াতে আমাদের বিশেষ ভাবনা রয়েছে।”
রাজারহাটের চাঁদপুর গ্রাম পঞ্চায়েত ‘নার্সারি মহল’ নামে পরিচিত। সারা বছর এখান থেকে বাহারি ফুল-ফলের চারা, কার্পেট ঘাস ইত্যাদি রপ্তানি হয়ে থাকে। এ রাজ্য তো বটেই, দেশ-বিদেশেও যার সুনাম রয়েছে। তাই এলাকার ঐতিহ্য রক্ষার্থে পূর্ণ সহযোগিতা কথা জানিয়েছেন রাজারহাট-নিউটাউনের সদ্য জয়ী বিজেপি বিধায়ক পীযূষ কানোরিয়া। তিনি বলেন, “গত কয়েক বছর ধরে চাঁদপুরে নার্সারি চাষযোগ্য জমি এবং জলাশয়গুলিতে প্রামোটারদের কুনজরে পড়েছিল। নিচু চাষের জমিগুলি একের পর এক ভরাট হয়ে গিয়ে নির্মাণ হচ্ছিল। তা রুখে চাষিদের সবরকম সাহায্যে পাশে দাঁড়াবে নতুন সরকার।”
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
-
ব্লক অফিসেই এবার সিএএ আবেদনের শুনানি! বনগাঁর জন কল্যাণ শিবিরে জানালেন খাদ্যমন্ত্রী
-
১১২ ফুটের প্রতিমার পর এবার একই মণ্ডপে ১১২ দুর্গা! গিনেস বুকে নাম তোলার লক্ষ্যে এই পুজো
-
একুশে মমতার পা ভাঙেইনি! ‘পিজির রিপোর্ট আমার কাছে আছে’, নন্দীগ্রামে দাঁড়িয়ে চ্যালেঞ্জ শুভেন্দুর
-
পথের আলোতেই পড়াশোনা একালের ‘বিদ্যাসাগরে’র! মায়ের প্রার্থনা, মাধ্যমিকে ছেলের অভাবনীয় ফল
-
মাঝরাতে ঠাকুরদালানে পড়ে রশ্মি! প্রতিপদেই শুরু আরাধনা, হুগলির ৫ শতকের পুজোর রীতি চমকে দেয়