North Bengal

ফুলের অর্থনীতিতে স্বাবলম্বী একদা ‘অভাবের গ্রাম’, আলিপুরদুয়ারের ডাঙাপাড়ায় বাড়ছে আয়

এই গ্রামের ক্ষেতে ক্ষেতে এখন শুধু গাঁদা, জবা, বগান ভেলিয়া-সহ হরেকরকম ফুলের চাষ। সৌজন্যে রাজ্য সরকারের মহিলা স্বনির্ভর গোষ্ঠিদের দেওয়া ঋণ।

রাজ কুমার
রাজ কুমার

শেষ আপডেট: জানুয়ারি ২২, ২০২৬, ১৪:০৫

options
link
ফুলের অর্থনীতিতে স্বাবলম্বী একদা ‘অভাবের গ্রাম’, আলিপুরদুয়ারের ডাঙাপাড়ায় বাড়ছে আয়
এই গ্রামের ক্ষেতে এখন শুধু গাঁদা, জবা, বগান ভেলিয়া-সহ হরেকরকম ফুলের চাষ।

ফুলে ভর করে ঘুরে দাঁড়াচ্ছে প্রত্যন্ত গ্রাম আলিপুরদুয়ার ব্লকের ১ উত্তর জিৎপুরের ডাঙাপাড়া। একসময় ডাঙাপাড়া নামে অখ্যাত গ্রাম ছিল এটি। এখন সকলে চেনেন নার্সারি পাড়া নামে। এই গ্রামের ক্ষেতে ক্ষেতে এখন শুধু গাঁদা, জবা, বগান ভেলিয়া-সহ হরেকরকম ফুলের চাষ। সৌজন্যে রাজ্য সরকারের মহিলা স্বনির্ভর গোষ্ঠিদের দেওয়া ঋণ। সেই টাকায় স্বনির্ভর হচ্ছে নার্সারি পাড়া। এখন এই গ্রামের ফুল পারি দিচ্ছে অসম,বেঙ্গালুরু-সহ একাধিক ভিন রাজ্যে।

Advertisement

স্থানীয় বাসিন্দা নৃপেন্দ্র দাস বলেন, “একসময় অভাবের গ্রাম বলে আমাদের সকলে চিনত। কিন্তু এখন হাল বদলেছে। আমাদের ঘরের মহিলারা স্বনির্ভর গোষ্ঠী গড়ে ঋণ নিচ্ছেন। কেউ ৩ লক্ষ কেউ ৪ লক্ষ তো কোনও গ্রুপ ১০ লক্ষ টাকা ঋণ পাচ্ছে। সেই টাকায় আমরা ফুলের চাষ করছি। এখন গ্রামের সব পরিবারই এখন এই কাজে যুক্ত। সকলেরই কম বেশি আয় হচ্ছে।”

Advertisement

বক্সা টাইগার রিজার্ভের জঙ্গল লাগোয়া এই গ্রামে এখন ফুলের সমাহার দেখতে পর্যটকদেরও ভিড় হচ্ছে। গ্রামের আরেক বাসিন্দা রঞ্জয় দাস বলেন, “আমরা এখন ফুল চাষকেই পেশা হিসেবে বেছে নিয়েছি। এখন আমাদের গ্রামের ফুল অসম ও ব্যাঙ্গালুরু-সহ রাজ্যের বাইরে বিভিন্ন যায়গায় যাচ্ছে। রাজ্যের সংলগ্ন কোচবিহার, শিলিগুড়িতে আমাদের ফুলের ভালো চাহিদা। গোটা গ্রাম ঘুরে দাঁড়িয়েছি। অনেকে এখন আমাদের গ্রামকে ফুলগ্রাম বলেও চেনেন।”

Advertisement
অনেকেই ফুল চাষকে পেশা হিসাবে বেছে নিচ্ছেন।

এই এলাকার নির্বাচিত পঞ্চায়েত সদস্যা তৃণমূল কংগ্রেসের রূপালি দাস শীল। আলিপুরদুয়ার বিধানসভার ১৩০ নম্বর পার্টে পড়েছে এই গ্রাম। পঞ্চায়েত সদস্যা রূপালি দাস শীল বলেন, “আমাদের সরকারের মহিলা স্বনির্ভর গোষ্ঠীদের দেওয়া ঋণের টাকায় আমাদের গ্রাম ঘুরে দাঁড়াচ্ছে। এখন শুধু সামনের দিকে যাওয়ার পালা। এখন আর গ্রামে অভাব নেই। নানান জাতের ফুল চাষ হচ্ছে আমাদের গ্রামে। চারা ও ফুল বেঁচেই স্বনির্ভর হচ্ছি আমরা।” 

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Share this article on

The article link is copied.