Air India

মৃত্যুর পরও স্টিয়ারিং আঁকড়ে ছিলেন এয়ার ইন্ডিয়ার পাইলট! মর্গের ভয়াবহ অভিজ্ঞতা বর্ণনা প্রত্যক্ষদর্শীর

Ahmedabad Air India Crash: রোমিন বলেন, "মর্গের এক কোণে ছিল পাইলটের দেহটি। তিনি বসার ভঙ্গিতেই ছিলেন। তাঁর পিঠ পুড়ে গিয়েছিল, কিন্তু শরীরের সামনের অংশ একেবারে অক্ষত ছিল।"

Advertisement
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: মে ১৮, ২০২৬, ১৬:৩০

options
link
মৃত্যুর পরও স্টিয়ারিং আঁকড়ে ছিলেন এয়ার ইন্ডিয়ার পাইলট! মর্গের ভয়াবহ অভিজ্ঞতা বর্ণনা প্রত্যক্ষদর্শীর
মৃত্যুর পরও স্টিয়ারিং আঁকড়ে ছিলেন এয়ার ইন্ডিয়ার পাইলট!

আহমেদাবাদে এয়ার ইন্ডিয়ার বিমান দুর্ঘটনায় সামনে এল আরও এক ভয়াবহ তথ্য। গত বছরের জুন মাসে এই দুর্ঘটনায় মৃত্যু হয়েছিল ২৬০ জনের। সেই মৃতদেহগুলি যে মর্গে রাখা হয়েছিল সেখানকার মর্মান্তিক অভিজ্ঞতা বর্ণনা করতে গিয়ে এক প্রত্যক্ষদর্শী জানালেন, ‘মৃত্যুর পরও বিমানের স্টিয়ারিং আঁকড়ে ধরে বসেছিলেন হতভাগ্য পাইলট। ওটা এমন এক ভয়ংকর দৃশ্য ছিল যা কখনও ভোলার নয়।’

Advertisement

এয়ার ইন্ডিয়ার বোয়িং ৭৮৭ ড্রিমলাইনার দুর্ঘটনায় মৃত্যু হয়েছিল রোমিন ভোহরা নামে এক ব্যক্তির পরিবারের তিন সদস্যের। যার জেরে দেহ শনাক্তের জন্য মর্গে ঢোকার সুযোগ পেয়েছিল রোমিন। তিনি বলেন, ওই স্থান ছিল নরকের অভ্যন্তর, চরম বিভীষিকাময় ওই মর্গের মেঝেতে ছড়িয়ে ছিল মৃতদেহগুলি। কারও মাথা ও অঙ্গপ্রত্যঙ্গ বিচ্ছিন্ন, কোলে সন্তান-সহ দগ্ধ মা, পাশেই পড়েছিল এক ছোট মেয়ের মাথার খুলি। সেটি নিজের ভাগ্নির ছবির সঙ্গে মেলানোর মরিয়া চেষ্টা করছিলেন রোমিন। এর মধ্যে আর একটি দেহ ছিল যেটি অন্যগুলির চেয়ে সম্পূর্ণ ভিন্ন। সেটি ছিল বিমানের হতভাগ্য পাইলট সুমিত সাভারওয়ালের মরদেহ।

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'ফুটবল বিশ্বযুদ্ধ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন
Advertisement

রোমিন বলেন, ”পাইলটের হাতে তখনও ধরা ছিল দুই হাতলযুক্ত ইয়োক বা বিমান নিয়ন্ত্রণে ব্যবহৃত স্টিয়ারিং। যা সম্ভবত সংঘর্ষের সময় বা উদ্ধারকারীরা তাঁকে ককপিট থেকে বের করার সময় ভেঙে যায়।”

রোমিন বলেন, “মর্গের এক কোণে ছিল দেহটি। তিনি বসার ভঙ্গিতেই ছিলেন। তাঁর পিঠ পুড়ে গিয়েছিল, কিন্তু শরীরের সামনের অংশ একেবারে অক্ষত ছিল। ক্যাপ্টেনের কাঁধে ছিল চারটি সোনালি ডোরাযুক্ত সাদা ইউনিফর্ম, কালো টাই ও ট্রাউজার। এমনকী তাঁর জুতোও ছিল একেবারে অক্ষত।” তবে যে বিষয়টি রোমিনকে অবাক করে সেটি হল, পাইলট তখন হাতে কিছু একটা আঁকড়ে ধরে রেখেছিলেন। রোমিন বলেন, “ভালো করে দেখার পর বুঝতে পারি পাইলটের হাতে তখনও ধরা রয়েছে দুই হাতলযুক্ত ইয়োক বা বিমান নিয়ন্ত্রণে ব্যবহৃত স্টিয়ারিং। যা সম্ভবত সংঘর্ষের সময় বা উদ্ধারকারীরা তাঁকে ককপিট থেকে বের করার সময় ভেঙে যায়।” দ্য মেইলের প্রতিবেদন অনুযায়ী, রোমিনের এই দাবিকে সমর্থন করেছেন ওই মর্গে থাকা এক চিকিৎসকও। বিশেষজ্ঞদের দাবি, এই তথ্য যদি সঠিক হয় তবে এর একটাই অর্থ, ক্যাপ্টেন শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত বিমানটি বাঁচানোর চেষ্টা করছিলেন।

Advertisement

উল্লেখ্য, গত বছর ১২ জুন আহমেদাবাদ থেকে লন্ডনগামী এয়ার ইন্ডিয়ার একটি বোয়িং ৭৮৭-৮ বিমান আকাশে ওড়ার কয়েক সেকেন্ড পরই মেঘানিনগরের বিজে মেডিক্যাল কলেজের ক্যান্টিনের উপর ভেঙে পড়ে। দুর্ঘটনার জেরে মৃত্যু হয় ২৬০ জনে। তাৎপর্যপূর্ণভাবে আহমেদাবাদ বিমান দুর্ঘটনার যে প্রাথমিক তদন্ত রিপোর্ট এয়ারক্রাফট অ্যাক্সিডেন্ট ইনভেস্টিগেশন ব্যুরো দিয়েছিল, তাতে দুর্ঘটনার দায় পাইলটের উপরে চাপানো হয়েছিল। যদিও মার্কিন সংস্থা এভিয়েশন সেফটি ফাউন্ডেশনের প্রধান এড পিয়ারশন বলেন, বোয়িং ৭৮৭ ড্রিমলাইনার সম্পর্কে একাধিক গোপন তথ্য তাদের হাতে এসেছে। যেখানে স্পষ্ট যে ওই বিমানটিতে আগে থেকেই সমস্যা ছিল। দীর্ঘদিন ধরে শর্ট সার্কিট, ধোঁয়া এবং বিমানের তারে সমস্যা দেখা যাচ্ছিল। সমস্যার জেরে বিমানটিকে বেশ কয়েকবার সারাইয়ের জন্য গ্রাউন্ডেড করা হয়। এছাড়া পি-১০০ পাওয়ার প্যানেল যা বিমানের ইঞ্জিনে বিদ্যুৎ সরবরাহ করে সেটিও প্রতিস্থাপন করা হয়। শুধু তাই নয়, বিমানটির ডিজাইন ও সফটওয়ার সংক্রান্ত নিরাপত্তারও প্রয়োজন ছিল।

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'ফুটবল বিশ্বযুদ্ধ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন