Abhijit Gangopadhyay

বিচারবিভাগ থেকে রাজনীতির ময়দান, অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়ই প্রথম নয়, ঘটেছে আগেও 

নৈতিক না অনৈতিক?

Advertisement
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: মার্চ ৫, ২০২৪, ১৫:১২

options
link
বিচারবিভাগ থেকে রাজনীতির ময়দান, অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়ই প্রথম নয়, ঘটেছে আগেও 

সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: বিচারবিভাগ থেকে রাজনীতি, রাজনীতি থেকে বিচারবিভাগ। নৈতিক না অনৈতিক? আগে ঘটেনি? একেবারে নজিরবিহীন? এই যে অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায় (Abhijit Gangopadhyay) বিচারপতির পদে ইস্তফা দিলেন, তাতে করে ‘সামাজিক ন্যায় বিচারে’র ক্ষতি হল না লোভ? এমন হাজার প্রশ্ন উঠছে। কারণ লোকসভা ভোটের আগেভাগে বিচারবিভাগ ছেড়ে রাজনীতিতে আসার চমকপ্রদ ঘোষণা করেছেন অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়। ঘনিষ্ঠমহল সূত্রে খবর, বড় অঘটন না ঘটলে, সদ্য প্রাক্তন বিচারপতি বিজেপিতে যোগ দিতে চলেছেন। কিন্তু শুরুতে যে প্রশ্ন উঠেছিল, এমন কাণ্ড আগে ঘটেনি?

Advertisement

বহুবার ঘটেছে। একের পর এক উদাহরণ দেওয়া যেতে পারে। কয়েকটি নাম এরকম-বিচারপতি এ এম থিপসে, বিচারপতি বিজয় বহুগুণা, বিচারপতি এম রামা জোয়েস, বিচারপতি রাজিন্দর সাচার, বিচারপতি বাহারুল ইসলাম প্রমুখ। এই বাহারুলকে নিয়ে এককালে বিতর্ক জমে উঠেছিল দেশের বিচারবিভাগ এবং রাজনৈতিক মহলে। কেন? একটা সময় বিচারপতি বাহারুল কংগ্রেসে যোগ দিয়েছিলেন। প্রথম দফায় ১৯৬২ এবং পরে ১৯৬৮ সালে তিনি রাজ্যসভায় নির্বাচিত হন। ১৯৭২ সালে রাজ্যসভায় ইস্তফা দিয়ে ফের গুজরাট হাই কোর্টের বিচারপতি হন।

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'ফুটবল বিশ্বযুদ্ধ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন
Advertisement

 

Advertisement

[আরও পড়ুন: পরীক্ষা দিতে যাওয়ার পথে অ্যাসিড হামলার শিকার ৩ ছাত্রী! গ্রেপ্তার এমবিএ ছাত্র] 

এখানেই শেষ নয়, অবসরের ৯ মাস পর ফের সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি নিযুক্ত হয়েছিলেন। এমনকী তাঁর বিরুদ্ধে তৎকালীন শাসক দলের পক্ষপাতিত্বের অভিযোগও উঠেছিল। ১৯৮৩ সালে দুর্নীতির মামলায় তাঁর একটি রায় তদানীন্তন কংগ্রেস শাসিত বিহারের মুখ্যমন্ত্রী জগন্নাথ মিশ্রর পক্ষে গিয়েছিল। ওই বছরেই বাহারুল ইসলাম কংগ্রেসের মনোনীত সদস্য হিসেবে রাজ্যসভায় যান। বিতর্ক হতে পারে ফেলে আসা সময়ের বিচারপতি কে এস হেগড়েকে নিয়েও। যিনি রাজনীতি এবং বিচারবিভাগের মধ্যে ডেলে প্যাসেঞ্জারের মতো যাতায়াত করেছিলেন। কংগ্রেস যোগ দিয়েছিলেন। আবার মাইসোর হাইকোর্ট এবং সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতিও ছিলেন। এছাড়াও মনে পড়বে সুপ্রিম কোর্টের আরেক প্রাক্তন প্রধান বিচারপতি কে সুব্বা রাওয়ের কথা। ১৯৬৭ সালে অবসরের পরেই রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন। যদিও হেরে যান।

 

[আরও পড়ুন: নির্বাচনী বন্ডের তথ্য দিতে বাড়তি সময় চেয়ে সুপ্রিম কোর্টে আবেদন SBI-এর] 

সাম্প্রতিক সময়েও উদাহরণের কমতি নেই। বিচারপতি রঞ্জন গগোই, বিচারপতি রঙ্গনাথন মিশ্রা রাজ্যসভার সদস্য হয়েছেন। মোদি সরকারের জমানায় বিচারপতিরা অবসর নেওয়ার পরই তাঁদের বিভিন্ন সরকারি পদ পাইয়ে দেওয়া নিয়ে বারবার প্রশ্ন উঠেছে। বিজেপি সরকারের আমলে অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতিদের সরকারি পদ পাওয়ার ঘটনা তো ভুরিভুরি।

অতএব, অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়ের রাজনীতিতে যোগদান নজিরবিহীন নয় কোনওভাবেই। এই বিষয়ে বিচারপতি ভি আর কৃষ্ণ আইয়ারের বিখ্যাত উক্তি হল, আইন ছাড়া রাজনীতি অন্ধ, রাজনীতি ছাড়া আইন মূক। এই হল ভারতীয় রাজনীতির ‘নৈতিকতা’ অথবা কূটনৈতিকতা। বঞ্চিত চাকরিপ্রার্থীরা হতাশ হলেও কিছু করার নেই। তাছাড়া সমাজতত্ত্বের বিশ্লেষকদের মত হল, সামাজিক ন্যায় বিচার কোনও একজন বিচারপতি তথা একজন ব্যক্তিবিশেষের উপর নির্ভরশীল হতে পারে না।

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'ফুটবল বিশ্বযুদ্ধ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Share this article on

The article link is copied.