পূর্ণ রাজ্যের মর্যাদা কোনওভাবেই মিলবে না, লাদাখকে ষষ্ঠ তফসিলের অন্তর্ভুক্ত করতেও নারাজ কেন্দ্র। তবে কেন্দ্রশাসিত এই অঞ্চলের বাড়তে থাকা ক্ষোভ সামাল দিতে বিশেষ সুবিধা দিতে রাজি হল মোদি সরকার। যা হল টেরিটোরিয়াল কাউন্সিল। সম্প্রতি দিল্লিতে লাদাখের দুই শীর্ষ রাজনৈতিক দলের সঙ্গে আলোচনায় এমনই প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে মোদি সরকারের তরফে। যদিও কেন্দ্রের এই প্রস্তাব স্বীকার করেনি লাদাখ।
আরও পড়ুন:
জানা যাচ্ছে, গত ৪ ফেব্রুয়ারি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের বিশেষ কমিটির সঙ্গে বৈঠকে বসেছিলেন লাদাখের শীর্ষ নেতারা। কেন্দ্র শাসিত এই অঞ্চলের দুই রাজনৈতিক দল কার্গিল ডেমোক্রেটিক অ্যালায়েন্স (KDA) ও লেহ অ্যাপেক্স বডি (LAB)-র নেতৃত্বরা উপস্থিত ছিলেন এই বৈঠকে। সেখানে দুটি দলের তরফেই আবেদন জানানো হয়, লাদাখকে ষষ্ঠ তফসিলের অন্তর্ভুক্ত করা হোক। ষষ্ঠ সূচি হল, স্বায়ত্তশাসন, সংস্কৃতি এবং জমির অধিকার রক্ষায় উপজাতি অঞ্চলের জন্য বিশেষ প্রশাসনিক বিধান। তবে দীর্ঘ আলোচনার পরও লাদাখকে ষষ্ঠ সূচির অংশ করতে রাজি হয়নি কেন্দ্র।
কেন্দ্রের তরফে প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে টেরিটোরিয়াল কাউন্সিলের। এই প্রস্তাব অনুযায়ী, লাদাখ অটোনোমাস হিল ডেভলপমেন্ট কাউন্সিলরের (LAHDC) প্রধান মুখ্যমন্ত্রী ও ডেপুটি চিফ একজিকিউটিভ কাউন্সিলরকে উপমুখ্যমন্ত্রীর মতো মর্যাদা দেওয়া হবে।
পরিবর্তে কেন্দ্রের তরফে প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে টেরিটোরিয়াল কাউন্সিলের। এই প্রস্তাব অনুযায়ী, লাদাখ অটোনোমাস হিল ডেভলপমেন্ট কাউন্সিলরের (LAHDC) প্রধান মুখ্যমন্ত্রী ও ডেপুটি চিফ একজিকিউটিভ কাউন্সিলরকে উপমুখ্যমন্ত্রীর মতো মর্যাদা দেওয়া হবে। যার অর্থ হল, লাদাখের উন্নতি ও প্রশাসনিক ক্ষেত্রে এই কাউন্সিল কাজ করবে ঠিকই, তবে যাবতীয় ক্ষেত্রে উপরাজ্যপালের অনুমতি নিতে হবে কমিটিকে। এমনকী প্রশাসনিক ক্ষেত্রেও নানা বাধা থাকবে এই কমিটির। বলা বাহুল্য, কেন্দ্রের এই প্রস্তাব একেবারেই মেনে নেননি লাদাখের নেতৃত্বরা।
কেডিএ-র শীর্ষ নেতা আসগর আলী কারবালি বলেন, “আমরা কেন্দ্রের এই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছি। ল্যাব বা কেডিএ কেউই এই প্রস্তাব গ্রহণ করেনি। শুধুমাত্র একজন সদস্য, কুনজেস দলমা, কেন্দ্রের প্রস্তাবকে সমর্থন করেছেন।” কারবালি বলেন, দলমা হোক বা অন্য কেউ, লাদাখের অস্তিত্বে হস্তক্ষেপ করলে তাঁকে সহ্য করা হবে না।”
উল্লেখ্য, লাদাখকে পূর্ণরাজ্যের মর্যাদা দিতে হবে, ওই কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলটিতে সংবিধানের ষষ্ঠ তফসিল দ্রুত কার্যকর করতে হবে, লাদাখের জন্য পৃথক পাবলিক সার্ভিস কমিশন চালু করতে হবে এবং লাদাখে একটির বদলে দুটি লোকসভা কেন্দ্র তৈরি করতে হবে। এই দাবিতে দীর্ঘদিন ধরেই কেন্দ্রের দৃষ্টি আকর্ষণ করার চেষ্টা করেছেন লাদাখের সমাজকর্মী ও গবেষক সোনম ওয়াংচুক। তাঁর নেতৃত্বেই লাদাখে গত বছর সেপ্টেম্বরে গণবিক্ষোভ সংগঠিত হয়। ওই বিক্ষোভে চার জন নিহত এবং ১৫০ জনেরও বেশি আহত হয়েছিলেন। সেই ঘটনার পর গ্রেপ্তার করা হয় সোনম। এখনও জেলবন্দি তিনি।
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
-
নিজের মন্ত্রক থেকেই কোটি টাকার ভরতুকি নিলেন খোদ কেন্দ্রীয় মন্ত্রী, ‘দুর্নীতির নতুন পথ’, বলছে বিরোধীরা
-
মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশের পরেই অ্যাকশন! বাগনানে বিজেপি কর্মী খুনে গ্রেপ্তার ১
-
এলেন-দেখলেন-জয় করলেন…., ফ্রিকিকে মেসি ম্যাজিক, জর্ডনকে উড়িয়ে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা
-
আমেরিকার হামলার বদলা! কুয়েত-বাহরিনের মার্কিন ঘাঁটিতে গোলাবর্ষণ ইরানের, কী বললেন ট্রাম্প?
-
‘কলকাতা বইমেলা একটি সংগঠনের নয়’, প্রাঙ্গণ সবার জন্য উন্মুক্ত করতে উদ্যোগী সংঘ