অনলাইনেই পাতা যৌনচক্রের ফাঁদ, পা দিচ্ছে ভারতীয় ছাত্রীরা

এই বিষয়ে সতর্ক করল আন্তর্জাতিক স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ECPAT।

সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: জুন ৭, ২০১৭, ০৬:০৬

options
link
অনলাইনেই পাতা যৌনচক্রের ফাঁদ, পা দিচ্ছে ভারতীয় ছাত্রীরা

সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: প্রেম নয়, নেটদুনিয়ায় পাতা যৌনচক্রের ফাঁদ। আর নিজেদের ভুলেই তাতে পা দিয়ে ফেলছেন ভারতীয় ছাত্রীরা। সম্প্রতি এই বিষয়ে সতর্ক করল আন্তর্জাতিক স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ECPAT ইন্ট্যারন্যাশনাল। শিশু ও নারীদের উপর হওয়া যৌন হেনস্তার প্রতিকারে কাজ করে এই সংগঠন। তাদের এই পর্যবেক্ষণে রীতিমতো শোরগোল পড়েছে ভারতীয় সমাজে।

Advertisement

যৌনতা কেনা-বেচা আদিমতম পেশা। তবে তার চলতি মডেলে অনেকটাই পরিবর্তন এসেছে। সৌজন্যে, ইন্টারনেট। আন্তর্জাল যেভাবে মানুষের করায়ত্ত হয়েছে তাতেই যৌনব্যবসার ছক পাল্টে ফেলেছে দালালরা। মূলত অনলাইনেই এই দালালদের কারবার। অ্যাডাল্ট ওয়েবসাইট বা মোবাইল অ্যাপের রমরমা ইদানীং বেড়েছে। আর এসবের কনটেন্টের জন্য যৌনকর্মী নয়, সাধারণ মহিলা বিশেষত কিশোরীদেরই টার্গেট করেছে অনলাইন দালালরা। যৌনতা সংক্রান্ত এই ধরনের ওয়েবসাইটে গিয়ে যে কেউ পছন্দমতো মহিলাকে বেছে নিতে পারেন। তারপর হরেক রকমের যৌনক্রিয়ার লাইভ স্ট্রিমিং বেছে নিতে পারেন কাস্টমার বা ক্লায়েন্টরা। তার পয়সা চোকানো হয় অনলাইনেই। সুতরাং কোনও সরাসরি যোগাযোগ নেই। এবং পরিচিত মহলে ফাঁস হওয়ারও সম্ভাবনা নেই। এভাবেই চোখের সামনে অথচ সঙ্গোপনেই কেনা বেচা হচ্ছে যৌনতা। আর এই কাজের জন্য দালালদের লক্ষ্য স্কুল বা কলেজ ছাত্রীরাই। বিশেষত যাঁরা সাধারণ মধ্যবিত্ত পরিবার থেকে উঠে এসেছেন। রীতিমতো সমীক্ষা করেই এদের খোঁজ চালানো হয়। তারপর বিভিন্ন এজেন্সি বা মডেল কো-অর্ডিনেটর সংস্থার নাম করে তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। এরপর ওই ছাত্রীরা বাধ্য হয় বিভিন্ন ভঙ্গিতে লাইভ স্ট্রিমিংয়ে। তাঁদের অজান্তেই সে সব রেকর্ড হয়ে যায়। যা পরে আপলোড করা বিভিন্ন অ্যাডাল্ট ওয়েবসাইটেও। এই ভিডিও বিকোয় চড়া দামে। এ ব্যাপারেই ভারতীয়দের সতর্ক করেছে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনটি।

দুর্গাপুজো ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'দেবীপক্ষ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন
Advertisement

live-chat-1_web

Advertisement

মুম্বই হাই কোর্টের আইনজীবী ও সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ প্রশান্ত মালিও স্বীকার করে নিয়েছেন এই পরিস্থিতির কথা। তাঁর দাবি, সাইবার সেক্স এবং সেখানে কিশোরীদের ব্যবহারই এখন মাথাব্যথার অন্যতম কারণ হয়ে উঠেছে। অনলাইনে সক্রিয় দালালরা মূলত ছাত্রীদের লক্ষ্য করেই এই চক্র চালাচ্ছে। এও জানা যাচ্ছে, বেশিরভাগ ক্ষেত্রে রীতিমতো ছাত্রীদের অনুমতি নিয়েই পয়সার বিনিময়ে তাঁদের যৌনক্রিয়ার লাইভ স্ট্রিমিং করা হচ্ছে। এক সাংবাদিক বিভিন্ন এসকর্ট এজেন্সির সঙ্গে যোগাযোগ করেন। সেখানে দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্রী স্কাইপিতে এ ধরনের কাজে রাজি হয়। তবে অনেক ক্ষেত্রে ছাত্রীদের অজান্তেই এ সব ভিডিও চলে যায় পর্নসাইটে। তবে ছাত্রীদের অনুমতিতে যে এ কাজ হচ্ছে তাও সত্যি। কিন্তু ভারতীয় আইন অনুযায়ী তা দণ্ডনীয় অপরাধ। সেক্ষেত্রে সাত বছরের কারাদণ্ড পর্যন্ত হতে পারে।

live-chat-2

তবে এখানেই বিপদের শেষ নয়। দুষ্কৃতীরাও এই চক্র থেকে উপকৃত হচ্ছে বলে আশঙ্কা বিশেষজ্ঞদের।  যৌনক্রিয়ার টোপ সামনে রেখেই কারও কমপিউটর বা মোবাইল থেকে জরুরি তথ্য হাতিয়ে নিচ্ছে দালাল ও দুষ্কৃতীরা। স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনটি এ ব্যাপারে ভারতীয়দের সতর্ক করেছে। কেননা পয়সার লোভে কিশোরীদের ভুলিয়েই চলছে এই চক্র। নিজেদের বিপদ বুঝতে না পেরেই সে ফাঁদে পা দিয়ে ফেলছে ছাত্রীরা। এখনই সতর্ক না হলে এ জিনিস যে সমাজে মারাত্মক ব্যাধি ডেকে আনবে, এমনটাই আশঙ্কা অনেকের।

দুর্গাপুজো ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'দেবীপক্ষ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Share this article on

The article link is copied.