গুলবার্গ সোসাইটি হত্যা মামলায় ১১ জনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

গোটা দেশে আলোড়ন ফেলে দেওয়া এই ঘটনায় গুজরাতের তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বিরুদ্ধেও অভিযোগ দায়ের করা হয়।

Advertisement
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: জুন ১৭, ২০১৬, ১৫:১৭

options
link
গুলবার্গ সোসাইটি হত্যা মামলায় ১১ জনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: গুলবার্গ সোসাইটি হত্যা মামলায় ১১ জনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং ১২ জনের সাত বছর এবং একজনের দশ বছর কারাদণ্ড দিল আমেদাবাদের বিশেষ আদালত৷ কিন্তু এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় কাউকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়নি৷ গত ২ জুন ২৪ জনকে গণহত্যায় দোষী সাব্যস্ত করেছিল আদালত এবং ৩৬ জনকে বেকসুর খালাস ঘোষণা করেছিল৷

Advertisement

এই রায় ঘোষণার পরই গুলবার্গ সোসাইটির নিহতের পরিজনদের মধ্যে উচ্ছ্বাস দেখা যায়৷ তবে কাউকে মৃত্যুদণ্ড না দেওয়ায় স্বভাবতই হতাশ তাঁরা৷ প্রয়াত কংগ্রেস সাংসদ এহসান জাফরির স্ত্রী জাকিয়া জাফরি জানিয়ে দিয়েছেন, লড়াই এখনও থেমে যায়নি৷ শুধু বেকসুর ৩৬ জনের বিরুদ্ধেই নয়, এই ২৪ জনের বিরুদ্ধেও উচ্চতর আদালতে আপিল করা হবে৷ পাশাপাশি সাজাপ্রাপ্তদের আইনজীবী জানিয়েছেন, এই রায় কোনওমতেই মেনে নেওয়া হবে না৷ নির্দোষদের সাজা দেওয়া হয়েছে৷ উচ্চতর আদালতে এর বিরুদ্ধে আপিল করা হবে৷

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'ফুটবল বিশ্বযুদ্ধ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন
Advertisement

শুক্রবার আমেদাবাদে সিটের বিশেষ আদালতে যে ১১ জনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে, তারা সরাসরি হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত বলে বিচারক জানিয়েছেন৷ পাশাপাশি মদত দেওয়া এবং উত্তেজনা ছড়ানোর অভিযোগও রয়েছে সাজাপ্রাপ্তদের বিরুদ্ধে৷ এদিন সাজাপ্রাপ্তদের মধ্যে রয়েছেন ভিএইচপি নেতাও৷ আগেই দোষী সাব্যস্ত হয়েছিলেন বিশ্ব হিন্দু পরিষদের নেতা অতুল বৈদ্য৷ এদিন বিপিন প্যাটেলের বেকসুর খালাস হওয়ার ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন জাকিয়া৷ তাঁর অভিযোগ, এই রায় কোনওমতেই আমাদের লড়াইকে পূর্ণতা দিল না৷ সেদিন যেভাবে এতগুলো মানুষকে আগুনে পুড়িয়ে হত্যা করা হয়েছিল, তারপর আমরা আরও কঠোর শাস্তি চেয়েছিলাম৷ এদের প্রত্যেকের মৃত্যুদণ্ড একমাত্র শাস্তি হতে পারে৷ আমি উচ্চতর আদালতে আপিল করব৷ আমাদের লড়াই এখনও চলবে৷

Advertisement

গত ২ জুন আদালতের রায় ঘোষণার পর বেশ কয়েকবার পিছিয়েছে সাজা ঘোষণার দিন৷ বেশ কয়েক দফায় সাজা ঘোষণার কথা থাকলেও, শেষ মুহূর্তে পিছিয়ে গিয়েছে৷ এদিন সকাল থেকেই গোটা আদালত চত্বরে কঠোর নিরাপত্তা বলবৎ করা হয়েছিল৷ কোনওরকম অপ্রীতিকর ঘটনা রুখতে মোতায়েন ছিল বিশাল পুলিশবাহিনী৷ সংবাদমাধ্যমের নজর ছিল জাকিয়ার উপর৷ কিন্তু এদিন আদালতে আসেননি প্রয়াত এহসান জাফরির স্ত্রী জাকিয়া৷ ২০০২ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি সবরমতি এক্সপ্রেসে অগ্নিকাণ্ডের পরদিন যেভাবে উন্মত্ত জনতা গুলবার্গ সোসাইটিতে হামলা চালিয়েছিল, সেই স্মৃতি এখনও ফিরছে৷ এদিন আদালতে অবশ্য নিহতদের পরিবারের অনেকেই উপস্থিত ছিলেন৷

এই ১৪ বছরে লড়াই জটিল থেকে জটিলতর হয়েছে৷ ২০০১ সালে রাজু রামচন্দ্রনের গোপন রিপোর্ট জনসমক্ষে আনতে রাজি হয়নি শীর্ষ আদালত, তারপরই নতুন করে শুরু হয়েছিল সমাজকর্মী তিস্তা শেতলবাদ এবং জাকিয়া জাফরির আন্দোলন৷ যদিও সেই লড়াইয়ের পরও গোপন রিপোর্ট প্রকাশ্যে আসেনি৷ বরং সিটের রিপোর্ট হাতে পেয়েছিলেন জাকিয়া৷ সেই রিপোর্ট নিয়ে শুরু হয়েছিল নতুন করে লড়াই৷ বর্তমানে ওই এলাকায় বসবাসকারী অনেকেই বলছেন, জাকিয়ার ১৪ বছরের সেই লড়াই কিছুটা হলেও পূর্ণতা পেল৷ যদিও জাকিয়া বলছেন, আরও অনেক পথ চলা বাকি৷

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'ফুটবল বিশ্বযুদ্ধ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Share this article on

The article link is copied.