চিনকে ‘চ্যালেঞ্জ’ জানিয়ে প্রথম স্করপেন সাবমেরিন এল ভারতীয় নৌসেনায়

আকাশ ও স্থলের মতো এবার জলেও 'ঘাতক' ভারতের সেনা...

Advertisement
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: সেপ্টেম্বর ২২, ২০১৭, ০৩:২৩

options
link
চিনকে ‘চ্যালেঞ্জ’ জানিয়ে প্রথম স্করপেন সাবমেরিন এল ভারতীয় নৌসেনায়

সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: ভারতীয় নৌসেনা পেল দেশের প্রথম ‘স্করপেন’ ক্লাস সাবমেরিন আইএনএস কালভরি। বৃহস্পতিবার নৌসেনার হাতে আনুষ্ঠানিকভাবে এই সাবমেরিন তুলে দেয় মাজগাঁও ডক শিপবিল্ডার্স লিমিটেড (MDL)। দ্রুতই এই সাবমেরিনকে জলে নামানো হবে ও যুদ্ধে ব্যবহার করা হবে বলে নৌসেনা সূত্রে খবর। সম্ভবত আগামী মাসেই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এই রণতরীর উদ্বোধন করবেন।

Advertisement

সূত্রের খবর, একা আইএনএস কালভরি নয়, নৌসেনার জন্য এই মুহূর্তে আরও দুটি সাবমেরিন তৈরি হচ্ছে। জলে নামার আগে চূড়ান্ত পরীক্ষা নিরীক্ষা চলছে আরও দুটি স্করপেন ক্লাস সাবমেরিন ‘খান্ডেরি’ ও ‘করঞ্জ’ নিয়ে। চিনের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে ভারতও এখন জলে অপ্রতিরোধ্য হতে ‘পাখির চোখ’ করেছে নৌসেনার সামগ্রিক উন্নয়নকে। তাই আন্তর্জাতিক যে কোনও সাবমেরিনের সঙ্গে পাল্লা দিতে ঢেলে সাজছে ভারতের জলরক্ষীরাও। পাকিস্তান ও চিনের সঙ্গে যখন ভারতের উত্তেজনা তুঙ্গে, সেই সময় নৌসেনা কর্তারা মনে করছেন, তাঁদের হাতে এখন ডুবোজাহাজের যে সম্ভার হয়েছে, তাতে পাকিস্তান-চিনের সঙ্গে এঁটে ওঠা মুশকিল। এই দুই দেশের সঙ্গে পাল্লা দিতেই ছ’টি ফরাসি স্করপেন ডুবোজাহাজের বরাত দিয়েছিল নৌসেনা। যার মধ্যে প্রথমটি এবার হাতে পেল নৌসেনা।

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'ফুটবল বিশ্বযুদ্ধ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন
Advertisement

[চিনের সঙ্গে বিরোধ, বিশ্বের সবচেয়ে ঘাতক সাবমেরিন নিয়ে তৈরি ভারত]

MDL সূত্রে এক প্রেস বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, ‘ভারতীয় নৌসেনার হাতে দেশের প্রথম স্করপেন ক্লাস সাবমেরিন তুলে দিয়ে ইতিহাস তৈরি হল আজ। দ্রুতই এই সাবমেরিন কমিশনড হবে।’ সমুদ্রের ঘাতক ‘টাইগার শার্ক’ বা রক্তখেকো হাঙরের আদলে নামকরণ হয়েছে কালভরির। এই ডুবোজাহাজ তৈরিতে ব্যবহৃত হয়েছে স্টেট অফ দ্য আর্ট টেকনোলজি। প্রি-গাইডেড মিসাইল ব্যবহার করে প্রায় নিঃশব্দে শত্রুকে জলের নিচে ছিন্নভিন্ন করে দিতে পারে ‘আইএনএস কালভরি’। প্রায় ৬৭ মিটার লম্বা, ওজনে দেড় হাজার টনেরও বেশি এই ডুবোজাহাজ চওড়ায় প্রায় সাড়ে ছয় মিটার। এটি এমন ভাবে বানানো হচ্ছে যাতে তা অনেক ক্ষণ জলের তলায় ডুবে থাকতে পারে। ‘স্করপেন’ থেকে অনায়াসে যুদ্ধজাহাজ ধ্বংস করার টর্পেডো এবং ক্ষেপণাস্ত্র ছোঁড়া যাবে।

Advertisement

প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জলপথে যুদ্ধের ক্ষেত্রে ভারতের এই পদক্ষেপ নজিরবিহীন। স্করপেন ক্লাস অ্যাটাক সাবমেরিন আইএনএস কালভরি ভারতীয় নৌসেনার শক্তি যে কয়েকগুণ বাড়িয়ে দেবে, সে কথা বলার অপেক্ষা রাখে না। সম্প্রতি নৌসেনার দাবি মোতাবেক যে ছ’টি এই জাতীয় ঘাতক সাববেরিন পাওয়ার কথা ছিল, তার মধ্যে এটিই প্রথম। এরকম মোট ১৫টি এই জাতীয় ডুবোজাহাজ পাচ্ছে নৌসেনা। তবে, এখনই চিনের হাত থেকে ভারতের জলসীমা পুরোপুরি নিরাপদ হচ্ছে না। কারণ, চিনের কাছে এই জাতীয় রণতরী রয়েছে অন্তত ৬০টি। তবে দ্রুতই স্করপেন ক্লাস সাবমেরিনের সংখ্যা আরও বাড়াতে চায় ভারত। এখানেই শেষ নয়, একটি রিপোর্ট মোতাবেক, আরও ৬টি ডিজেলচালিত সাবমেরিন তৈরি করতে চলেছে ভারত। তার জন্য ইতিমধ্যেই জার্মানি, ফ্রান্স, রাশিয়ার মতো রাষ্ট্রের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে ভারত। গোটা প্রকল্পের জন্য ৫০০ বিলিয়ন টাকা বরাদ্দ করেছে ভারত।

Submarine

[সাবমেরিন নির্মাণে ৬০ হাজার কোটি টাকার চুক্তিতে সবুজ সঙ্কেত কেন্দ্রের]

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'ফুটবল বিশ্বযুদ্ধ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন