Shibu Soren

তির-ধনুকের যোদ্ধা, বিতর্ক পেরিয়ে মরণোত্তর পদ্মভূষণে সম্মানিত ‘দিশম গুরু’ শিবু সোরেন

১৮ বছর বয়সেই সাঁওতাল নবযুবক সঙ্ঘ গঠন করেন শিবু সোরেন। পরে যা ঝাড়খণ্ড মুক্তির মোর্চার রূপ নেয়। আদিবাসীদের অধিকারের লড়াই ও পৃথক রাজ্যের দাবিতে তির-ধনুক হাতে নেমে পড়েন খনিজ সম্পদে ভরপুর ঝাড়খণ্ডে।

Advertisement
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: জানুয়ারি ২৬, ২০২৬, ০৮:২৩

options
link
তির-ধনুকের যোদ্ধা, বিতর্ক পেরিয়ে মরণোত্তর পদ্মভূষণে সম্মানিত ‘দিশম গুরু’ শিবু সোরেন
শিবু সোরেন। ফাইল ছবি

স্বাধীনোত্তর আদিবাসী আন্দোলনের পথিকৃৎ ঝাড়খণ্ডের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী শিবু সোরেনকে মরণোত্তর পদ্মভূষণ দিতে চলেছে কেন্দ্রীয় সরকার। রবিবার কেন্দ্রের তরফে পদ্ম পুরস্কার প্রাপকদের যে তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে সেখানে পদ্মভূষণ সম্মানে সম্মানিত ১৩ জন কৃতির তালিকায় দেখা গেল শিবু সোরেনের নাম।

Advertisement

ঝাড়খণ্ডের পিছিয়ে পড়া মানুষের ভালোবাসার ‘গুরুজি’ বা ‘দিশম গুরু’ শিবু সোরেন রাজ্যের ৩ বারের মুখ্যমন্ত্রী। তবে তাঁর আসল পরিচয় তিনি ঝাড়খণ্ডের এক লড়াকু নেতা। স্বাধীন ভারতের প্রায় সমবয়সি শিবুর জন্ম ১৯৪৪ সালের ১১ জানুয়ারি অখণ্ড বিহারের রামগড় জেলার নেমরা গ্রামে। পিছিয়ে পড়া সাঁওতাল উপজাতির সন্তান শিবুর স্কুলজীবন শেষ হতে না হতেই মহাজনদের গুন্ডারা শিবুর বাবাকে খুন করে। এর পর থেকেই অধিকারের লড়াইয়ে নামেন তিনি। ১৮ বছর বয়সেই সাঁওতাল নবযুবক সঙ্ঘ গঠন করেন তিনি। পরে যা ঝাড়খণ্ড মুক্তির মোর্চার রূপ নেয়। আদিবাসীদের অধিকারের লড়াই ও পৃথক রাজ্যের দাবিতে তির-ধনুক হাতে নেমে পড়েন খনিজ সম্পদে ভরপুর ঝাড়খণ্ডে। সাঁওতাল, কুর্মি-মাহাতদের জমি পুনরুদ্ধারের জন্য আন্দোলন সংগঠিত করেন। সাঁওতালি ভাষায় স্লোগান ওঠে ‘লাঙল যার, ফসল তার’।

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'ফুটবল বিশ্বযুদ্ধ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন
Advertisement

অল্প দিনেই ঝাড়খণ্ডের আদিবাসী মানুষের প্রিয় হয়ে ওঠেন তিনি। পুরোদমে নেমে পড়েন রাজনীতিতে। ১৯৭৭-এ ভোটে দাঁড়িয়ে হারলেও ১৯৮০ সালে প্রথমবার দুমকা থেকে লোকসভায় নির্বাচিত হন। পরবর্তী সময়েও ঝাড়খণ্ড মুক্তি মোর্চা এবং শিবু সোরেনের জয়যাত্রা অব্যাহত থাকে। ১৯৮৯, ১৯৯১ এবং ১৯৯৬ সালেও লোকসভায় নির্বাচিত হন জেএমএম প্রধান। ২০০২ সালে রাজ্যসভায় নির্বাচিত হন তিনি। শিবুর আন্দোলনের জেরেই ২০০০ সালের ১৫ নভেম্বর ২৮তম রাজ্য হিসাবে পৃথক ঝাড়খণ্ড প্রতিষ্ঠিত হয়। ২০০৫ সালে প্রথমবার ঝাড়খণ্ডের মুখ্যমন্ত্রী হন তিনি। যদিও ১০ দিনের জন্য। পরে ২০০৮ থেকে ২০১০ সাল পর্যন্ত ঝাড়খণ্ডের মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন শিবু সোরেন। এর আগেই কেন্দ্রে মনমোহন সিং সরকারের কয়লামন্ত্রী হন তিনি। ২০০৪ থেকে ২০০৬ সালের মধ্যে তিন দফায় কেন্দ্রীয় মন্ত্রী হন।

Advertisement

তবে তাঁকে নিয়ে বিতর্কও কিছু কম ছিল না। ১৯৭৫ সালের ২৩ জানুয়ারি তৎকালীন বিহারের জামাতারা জেলার চিরুডিহতে ‘দিকু’ (বহিরাগত) এবং ‘অ-উপজাতীয়’দের উপর ভয়ংকর হামলা হয়। মৃত্যু হয় ১১ জনের। এদের মধ্যে ৯ জন মুসলিম। চিরুডিহ হত্যাকাণ্ডে উসকানি দেওয়ার অভিযোগ ওঠে শিবুর বিরুদ্ধে। গ্রেপ্তারি, মামলা, দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়ার পর ৬ মার্চ ২০০৮ তারিখে খালাস পান ‘গুরুজি’। যদিও ইতিহাসের শরীরে প্রশ্নচিহ্নের কালশিটে কিন্তু থেকে যায়।

ঝাড়খণ্ডের ইতিহাসের মহান এই নেতা দীর্ঘ রোগভোগের পর গত বছরের ৪ আগস্ট দিল্লির এক হাসপাতালে প্রয়াত হন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৮১ বছর। এবার তাঁকেই ২০২৬ সালের পদ্মভূষণ সম্মানে ভূষিত করল ভারত সরকার।

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'ফুটবল বিশ্বযুদ্ধ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Share this article on

The article link is copied.