নন্দিতা রায়, নয়াদিল্লি: বৃহস্পতিবার দুপুরেই লোকসভায় পাশ হয় ‘জি রাম জি’ বিল। বিরোধীদের তুমুল আপত্তি উড়িয়ে মাঝরাত পর্যন্ত চলা আলোচনা পর্বের পর রাজ্যসভাতেও সবুজ সংকেত পেল নতুন বিলটি। তারপরই প্রতিবাদে ওয়াকআউট করেন বিরোধী সাংসদরা। তাদের কথায়, মনরেগা বা মহাত্মা গান্ধীর নামাঙ্কিত আইন মুছে কৌশলে ‘রামনাম’ ঢোকানো হয়েছে। এর প্রতিবাদে পুরনো সংসদ ভবনের সামনে তৃণমূল কংগ্রেসের নেতৃত্বে ধরনায় বসে পড়েন কংগ্রেস, ডিএমকে-সহ অন্যান্য সাংসদরা।
এদিন সদনে ‘দ্য বিকশিত ভারত- গ্যারান্টি ফর রোজগার অ্যান্ড আজীবিকা মিশন (গ্রামীণ), ভিবি-জি রাম জি বিল ২০২৫’ পাশের জবাবি ভাষণ শুরু করেন কেন্দ্রীয় গ্রামোন্নয়নমন্ত্রী শিবরাজ সিং। সঙ্গে সঙ্গে বিরোধী সাংসদরা প্রতিবাদে ফেটে পড়েন। গান্ধীজির গ্রাম স্বরাজের ছবি হাতে তাঁরা নেমে আসেন ওয়ালে। স্লোগান ওঠে, ‘উই ওয়ান্ট নারেগা! রামজি বিল ওয়াপস লো! মোদি সরকার হায় হায়!’ বিলের কপি ছিড়ে বিক্ষোভ দেখান বিরোধী কংগ্রেস, তৃণমূল, ডিএমকে, আরজেডি, সমাজবাদী পার্টির সাংসদরা। চলে প্রবল হট্টগোল। তারই মধ্যে মাঝরাতে রাজ্যসভায় ধ্বনি ভোটে বিল পাশ হতেই ওয়াকআউট করে ধরনায় বসে পড়েন বিরোধী সাংসদরা। শুধু লোকসভা নয়, রাজ্যসভাতেও ‘জি রাম জি’ বিলের প্রতিবাদ জানান তৃণমূলের বক্তা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়, দোলা সেন আর ডেরেক ও’ব্রায়েন।
প্রসঙ্গত, মঙ্গলবার ১০০ দিনের কাজের প্রকল্পের নাম বদলে বিল পেশ করেন শিবরাজ চৌহান। মনরেগা বা MGNREGA (Mahatma Gandhi National Rural Employment Guarantee Act)-এর নাম পরিবর্তন করে বিকশিত ভারত গ্যারান্টি ফর রোজগার অ্যান্ড আজীবিকা মিশন (গ্রামীণ) বা VB-G RAM-G (সংক্ষেপে জি রাম জি) করার প্রস্তাব দেওয়া হয় ওই বিলে। প্রস্তাবিত বিলে ১০০ দিনের কাজের পরিমাণ ১০০ দিন থেকে বাড়িয়ে ১২৫ দিন করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। এই প্রকল্পে কেন্দ্রীয় বরাদ্দ ৯০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৬০ শতাংশ করা হচ্ছে। এর ফলে রাজ্যগুলির উপর চাপ বাড়ছে। তাছাড়া আগে রাজ্যের চাহিদা অনুযায়ী, এই প্রকল্পে বরাদ্দ করা হত। এবার থেকে কেন্দ্র ঠিক করবে কোন রাজ্যে কত বরাদ্দ করা হবে। ফলে সাধারণ শ্রমিকরা ১০০ দিনের কাজ পাবেনই, তেমন কোনও নিশ্চয়তা থাকছে না। আগে এই বিলে কাজের নিশ্চয়তা ছিল।
কেন্দ্রের প্রস্তাবিত জি রাম জি বিল নিয়ে বুধবার আলোচনা শুরু হয় সংসদে। দেখতে দেখতে নির্ধারিত সময় পেরিয়ে যায়। পেরিয়ে যায় সংসদ অধিবেশন বন্ধের সময়ও। বিতর্ক থামেনি। শাসক ও বিরোধী মিলিয়ে মোট ৯৮ জন এই বিল নিয়ে নিজেদের বক্তব্য রেখেছেন। বিতর্ক চলে মধ্যরাত পেরিয়ে। রাত ১টা ৩৫ মিনিটে অধিবেশন মূলতুবি ঘোষণা করেন স্পিকার ওম বিড়লা। বৃহস্পতিবার এই বিল নিয়ে বিরোধীদের যাবতীয় প্রশ্নের জবাব দেবেন কেন্দ্রীয় গ্রামোন্নয়ন মন্ত্রী শিবরাজ সিং চৌহান। বিপুল বিরোধিতার মধ্যেই দুপুর লোকসভায় এবং মাঝরাতে রাজ্যসভায় বিলটি সবুজ সংকেত পায় কেন্দ্রের।
সর্বশেষ খবর
-
শেষ মুহূর্তে গোল বাতিলে ঝুলে ইরানের ভাগ্য, নকআউটে মিশর-বেলজিয়াম, শেষ ৩২-এ আর কারা?
-
নিরাপদ নয় পাটুলি! ২ দিন রাস্তায় হেনস্থার শিকার হয়ে থানায় অভিযোগ অভিনেত্রী রূপার, ওগরালেন ক্ষোভ
-
নবম শ্রেণির পাঠ্যসূচিতে ‘জরুরি অবস্থা’, গণতন্ত্রের পাঠ পাবে পড়ুয়ারা
-
তারাতলার অভিশপ্ত গোডাউন কাড়ল ৩ ভাইকে! ঘি-মন্নুর পর মৃত্যু শিরচাঁদেরও, মোবাইলই চিনিয়ে দিল দেহ
-
এবার ফোনেই মুশকিল আসান করবেন পুরমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা! জুলাইয়েই শুরু হচ্ছে ‘মুখোমুখি’