জম্মু ও কাশ্মীরে এক জেন জি তরুণীর বিরুদ্ধে প্রতিবাদের নামে ‘উচ্ছৃঙ্খলতা’ অভিযোগ ওঠে। সোশাল মিডিয়ায় ভিডিও পোস্ট করে কর্তব্যরত ভারতীয় সেনাকে ‘অপমানে’র ঘটনায় ক্ষুব্ধ হন খোদ কাশ্মীরের মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লাও। শেষ পর্যন্ত ভারতীয় সেনা, জম্মু ও কাশ্মীর পুলিশ এবং লাদাখ পুলিশের কাছে ক্ষমা চাইলেন বছর পঁচিশের ওই তরুণী।
আরও পড়ুন:
একটি সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমকে ওই তরুণী জানান, ‘আপত্তিকর’ মন্তব্যের জন্য তিনি অনুতপ্ত। সশস্ত্র বাহিনীকে অপমান করা কিংবা এই ঘটনার মাধ্যমে জনপ্রিয়তা অর্জন করা— এর কোনওটিই তাঁর উদ্দেশ্য ছিল না। তরুণী বলেন, “আমি ভারতীয় সেনাবাহিনীকে অত্যন্ত শ্রদ্ধা করি। আমার কল্পনায়ও ছিল না যে আমার কোনও কথায় তারা মনে কষ্ট পেতে পারেন। সেদিন আমরা লাদাখ থেকে দিল্লি যাচ্ছিলাম। কোনও ভিআইপি-র যাতায়াত বা কনভয় যাওয়ার বিষয়টি আমাদের জানা ছিল না। আমরা সকালবেলা তিন-চার ঘণ্টা অপেক্ষা করেছিলাম। এরপর এক সেনাসদস্যকে যখন জিজ্ঞেস করলাম আর কত সময় লাগতে পারে, তখন তিনি জানালেন যে আরও এক ঘণ্টা সময় লাগবে।” তরুণীর দাবি, ঘণ্টা খানেক পরেও রাস্তা বন্ধই ছিল।
আরও পড়ুন:
লাদাখ পুলিশ জানিয়েছে, তরুণীর করা ভিডিওটি ২৬ জুলাই ‘কার্গিল বিজয় দিবস’-এর আশেপাশের সময়ের। তখন নিরাপত্তার কারণে রাস্তাটি সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছিল। ঘটনাটি দ্রাস এলাকার মিনিমার্গ চেক পোস্টের কাছে ঘটেছিল। যেখানে মিনিমার্গ-জোজি লা-সোনামার্গ সড়কে চলাচলের ওপর বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছিল। ওই রাস্তা দিয়েই যাচ্ছিলেন অভিযুক্ত তরুণী।
ভাইরাল ভিডিওতে দেখা গিয়েছে একটি পুলিশ চেকপোস্টের সামনে তুমুল চিৎকার করছেন তরুণী। তিনি চেঁচিয়ে বলছেন, “আমরা জেন জি, এই অসভ্যতামি সহ্য করব না। চলুন এখনই বিক্ষোভে বসব।’ কাশ্মীর পুলিশ সূত্রের খবর, ওই ভিডিওটি আসলে কার্গিল বিজয় দিবসের। সোশাল মিডিয়ায় সেটি ছড়িয়ে পড়েছে। সেদিন ওই তরুণী দ্রাস থেকে সোনমার্গের দিকে যাচ্ছিলেন। সেসময় নিরাপত্তা জনিত কারণে সাধারণ যাত্রীদের গাড়ি আটকে রাখা হচ্ছিল। ওই সময় এক মন্ত্রীর গাড়ি যেতে দেওয়া হয়। একদিকে যাত্রীরা প্রায় পাঁচ ঘণ্টা এক জায়গায় আটকে, অন্যদিকে মন্ত্রী আসতেই তাঁকে ছাড় দেওয়া, সব মিলিয়ে মেজাজ হারান তরুণী।
তিনি গাড়ি থেকে নেমে অন্যান্য গাড়ির যাত্রীদের একত্রিত করেন। সবাইকে নিয়ে বিক্ষোভ দেখানোর হুমকি দেন। সোজা বলে দেন, “মন্ত্রীর গাড়ি কেন যেতে দেওয়া হবে। আপনারা কাশ্মীরবাসীর সঙ্গে এত অসভ্যতা করেন, আমাদের মতো টুরিস্টদের সঙ্গেও এগুলো করছেন। এই অসভ্যতা আমরা মেনে নেব না। আমরা জেন জি।” সোশাল মিডিয়ায় ভিডিও ভাইরাল হয়ে যায়। ওই তরুণীর আচরণ দেখে ক্ষুব্ধ হন বিজেপি বিরোধী জোটের অন্যতম মুখ জম্মু ও কাশ্মরীরে মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লা। তাঁর বক্তব্য, এভাবে ছোটখাট বিষয়ে বিশৃঙ্খলা তৈরি করাটা জেন জি-দের বিক্ষোভের সাফল্যকেই খাটো করছে।
সোশাল মিডিয়ায় ওমর আবদুল্লা লেখেন, ‘আগে কাউকে হুমকি দেওয়ার জন্য বলা হত, জানিস আমার বাবা কে। এখন যেন সেটার বদলে ‘আমরা জেন জি’ শব্দটা ব্যবহার করা হচ্ছে। এভাবে একটি প্রজন্মের সুনাম দ্রুত নষ্ট হয়ে যাবে। কোথাও সামান্য কিছু হলেই এই শব্দটাকে অস্ত্র হিসাবে ব্যবহার করলে আসলে জেন জিকেই অপমান করা হয়।’
সর্বশেষ খবর
-
ব্যাঙ্কের বাইরে এবার নিয়মিত টহল দেবে পুলিশ! নয়া নির্দেশিকা জারি লালবাজারের
-
যাত্রী সেজে গাড়িতে, ক্যাব চালকের মাথায় পিস্তল ঠেকিয়ে ফিল্মি কায়দায় ডাকাতি খাস কলকাতায়!
-
ইকবালের মতোই জলে ডুবে থাকে তার দিদি-বোনেরাও! ‘বাপমরা মেয়েগুলো’র চিন্তায় চোখে জল মায়ের
-
একজনের নামে ক’টা সিম কার্ড? আগস্টেই চালু হচ্ছে নয়া নিয়ম
-
রাতবিরেতে আচমকা পূর্ব বর্ধমানের স্বাস্থ্যকেন্দ্রে হানা স্বাস্থ্যমন্ত্রীর! ঘেঁটে দেখলেন ওষুধের স্টক