ডোকলামে আরও সেনা পাঠাল ভারত, তবে কি যুদ্ধ আসন্ন?

এখন 'নো ওয়ার নো পিস' পজিশনে দাঁড়িয়ে রয়েছে দুই দেশের সেনারা।

সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: আগস্ট ১২, ২০১৭, ০৪:৪০

options
link
ডোকলামে আরও সেনা পাঠাল ভারত, তবে কি যুদ্ধ আসন্ন?

সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: ক্রমশ ঘনিয়ে আসছে যুদ্ধের মেঘ। এবার ডোকলামে চরম সতর্কতা জারি করল ভারত। পাঠানো হয়েছে আরও সেনা। এমনটাই জানিয়েছে সংবাদ সংস্থা পিটিআই ও রয়টার্স। অরুণাচল ও সিকিমে প্রায় ১ হাজার ৪০০ কিমি দীর্ঘ চিন সীমান্ত জুড়ে ভারতীয় সেনাকে যেকোনও মুহূর্তে যুদ্ধের জন্য তৈরি থাকতে বলা হয়েছে। পিটিআই সূত্রে খবর, লালফৌজের যুদ্ধের হুঙ্কার ও আগ্রাসনকে নজরে রেখেই তৈরি থাকছে ভারত।

Advertisement

 

Advertisement

বিতর্কিত ডোকলাম এলাকায় হাতে গোনা ৫৩ জন ভারতীয় সেনা জওয়ান মোতায়েন রয়েছেন। তাঁদের পিছনে মানবশৃঙ্খল গড়ে হাতে হাত মিলিয়ে দাঁড়িয়ে রয়েছেন আরও শ’চারেক জওয়ান। এঁদের মাত্র কয়েক কিলোমিটার পিছনে রয়েছেন অন্তত ২৫ থেকে ৩০ হাজার সেনা। হঠাৎ যুদ্ধ লাগলে এই সেনারা সবাই ডোকলামে এসে ‘ব্যাক আপ ফোর্স’ হিসাবে মুখোমুখি গুলিযুদ্ধে অংশ নেবেন বা পালটা হামলা চালাবেন চিনা ভূখণ্ডে। ঠিক একইভাবে চিনা সেনারাও তাদের মানবশৃঙ্খল ও চক্রব্যূহ তৈরি করেছে। মোতায়েন করেছে বিপুল সংখ্যক সেনা। দুই তরফেই মোতায়েন করা হয়েছে ভারী ট্যাঙ্ক, মেশিনগান ট্রেঞ্চ এবং মিসাইল লঞ্চার ট্রাক।

[৬২-র যুদ্ধ থেকে শিক্ষা নিয়ে সেনা এখন চিনের মোকাবিলায় প্রস্তুত, হুঁশিয়ারি জেটলির]

এখন ‘নো ওয়ার নো পিস’ পজিশনে দাঁড়িয়ে রয়েছে দুই দেশের সেনারা। সামরিক পরিভাষায় ‘নো ওয়ার নো পিস’ মানে ‘যুদ্ধের জন্য চূড়ান্ত প্রস্তুত’ দুই পক্ষই। যাকে বলা হয় মিলিটারি ফেস অফ। এক্ষেত্রে কাঁধে ঝোলানো বন্দুকের নল থাকে নিচের দিকে (গান ডাউন অবস্থায়)। এই সময় মানব-প্রাচীর গড়ে শত্রুর আগ্রাসন রুখে দেওয়া হয়। এখন ডোকলামে এই পজিশনেই আছেন ভারত ও চিনের সেনারা। কিন্তু কোনও পক্ষ যদি গুলি চালাতে বন্দুক হাতে ঝাঁপিয়ে পড়ে তখন অন্য পক্ষও পালটা জবাব দেয়। সামরিক পরিভাষায় একে বলা হয় চার্জ। তবে চার্জে যাওয়ার আগে দু’পক্ষই একে অপরের ট্রুপস মুভমন্ট ফলো করে। ট্রুপস মুভমেন্ট মানে সেনা সমাবেশ, সেনা চলাচল, ট্যাঙ্ক, মিসাইল লঞ্চার ট্রাক, গাড়ির জমায়েত ইত্যাদি। এখন সিকিম সেক্টরে, ডোকলামের কাছে দু’পক্ষেরই ট্রুপস মুভমেন্ট চলছে।

উল্লেখ্য, চলতি সপ্তাহেই সংসদে চীনকে কার্যত হুঁশিয়ারি দিয়েছেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী অরুণ জেটলি। আগ্রাসনের কড়া জবাব দেওয়া হবে। যেকোনও পরিস্থিতির জন্য তৈরি ভারতীয় সেনা। দেশবাসীকে আশ্বস্ত করে এমনটাই জানিয়েছিলেন তিনি। যুদ্ধ চালানোর জন্য ভারতীয় সেনাবাহিনীর কাছে গোলবারুদ কম আছে বলে যে খবর রটেছে তা ঠিক নয়। যথেষ্ট পরিমাণে গোলাবারুদ সেনার অস্ত্রাগারে আছে। আমেরিকা জানিয়েছে, গত ৫০ দিন ধরে ডোকলামে মুখোমুখি দাঁড়িয়ে রয়েছে ভারতীয় সেনা। এই অচলাবস্থা কাটাতে কোনও পূর্ব শর্ত ছাড়াই বেজিং ও নয়াদিল্লিকে আলোচনায় বসার ডাক দিয়েছেন মার্কিন বিদেশমন্ত্রকের মুখপাত্র হিদার নর্তে।

[হাফিজ সইদকে ইসলামের শত্রু বললেন ভারতের সহস্রাধিক মুসলিম ধর্মগুরু]

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Share this article on

The article link is copied.