জীবনে ফেরার সম্ভাবনা যেখানে শূন্য, সেখানে ধুঁকে ধুঁকে বেঁচে থাকার চেয়ে মৃত্যু শ্রেয়। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে চলতি বছরে দেশের প্রথম কার্যকর হয়েছে নিষ্কৃতি মৃত্যু। শীর্ষ আদালতের সেই নির্দেশকে মান্যতা দিয়ে এবার পদক্ষেপ নিল মহারাষ্ট্র সরকার। সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, সরকারি হাসপাতালের পাশাপাশি এবার বেসরকারি হাসপাতালগুলিতেও নিষ্কৃতি মৃত্যু (Passive Euthanasia) এবং বাঁচার ইচ্ছে (Living Will) সংক্রান্ত আর্জি খতিয়ে দেখা হবে। এই সংক্রান্ত আবেদন খতিয়ে দেখতে এবং কার্যকর করতে দ্বিস্তরীয় মেডিক্যাল বোর্ড গঠন করা হবে। মহারাষ্ট্রের স্বাস্থ্যদপ্তরের এই সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়েছে।
আরও পড়ুন:
সরকারি নির্দেশ অনুযায়ী, রোগীর বাঁচার ইচ্ছে অনুযায়ী প্রাণদায়ী চিকিৎসা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে দুটি পৃথক মেডিক্যাল বোর্ডের অনুমোদন আবশ্যক। এতদিন এই ব্যবস্থা মূলত সরকারি হাসপাতালগুলিতে কার্যকর ছিল। নতুন নির্দেশের ফলে একই প্রক্রিয়া এখন বেসরকারি হাসপাতালেও প্রযোজ্য হবে। নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, প্রাথমিক মেডিক্যাল বোর্ডে থাকবেন হাসপাতালের প্রশাসনিক প্রধান, চিকিৎসারত বিশেষজ্ঞ, ক্রিটিক্যাল কেয়ার বিশেষজ্ঞ এবং একজন সিনিয়র চিকিৎসক বা সার্জন। দ্বিতীয় মেডিক্যাল বোর্ডে জেলা সিভিল সার্জনের তত্ত্বাবধানে অতিরিক্ত বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের অন্তর্ভুক্ত করা হবে, যাতে প্রতিটি সিদ্ধান্ত আইনি ও চিকিৎসা সংক্রান্ত দিক খতিয়ে নিরপেক্ষভাবে পর্যালোচনা করা যায়।
রোগীর বাঁচার ইচ্ছে অনুযায়ী প্রাণদায়ী চিকিৎসা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে দুটি পৃথক মেডিক্যাল বোর্ডের অনুমোদন আবশ্যক। এতদিন এই ব্যবস্থা মূলত সরকারি হাসপাতালগুলিতে কার্যকর ছিল।
ভারতে স্বেচ্ছামৃত্যু (Active Euthanasia) সম্পূর্ণরূপে অবৈধ। তবে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে শর্তসাপেক্ষ নিষ্কৃতি মৃত্যু (Passive Euthanasia) আইনিভাবে বৈধ হয়েছে সম্প্রতি। ২০২৬ সালের মার্চ মাসে হরিশ রানার নিষ্কৃতি মৃত্যুর আবেদন মঞ্জুর করে সুপ্রিম কোর্ট। যেখানে আদালতের তরফে বলা হয়, কোনও ব্যক্তির নিষ্কৃতি মৃত্যু কার্যকর করার আগে অর্থাৎ জীবনদায়ী চিকিৎসা প্রত্যাহারের ক্ষেত্রে মেডিক্যাল বোর্ডের অনুমোদন বাধ্যতামূলক। সেইমতোই এবার এই সংক্রান্ত ক্ষেত্রে দুটি বোর্ড গঠনের নির্দেশ দিল মহারাষ্ট্র সরকার।
উল্লেখ্য, কোনও রোগী যদি সম্পূর্ণরূপে কৃত্রিমভাবে লাইফ সাপোর্টের উপর নির্ভরশীল হয়, এবং লাইফ সাপোর্ট ছাড়া বেঁচে থাকার সম্ভাবনা একেবারে না থাকে তবে সেক্ষেত্রেই নিষ্কৃতি মৃত্যু অনুমোদন করা যায়।
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
-
ঝাড়গ্রামে হরিণের রহস্যমৃত্যু! চোরাশিকারিদের থাবা? তদন্তে বনদপ্তর
-
পুজোর আগে ঘন মজবুত চুল চান? প্রসাধনী নয়, স্রেফ জমিয়ে খান এই বিশেষ লাড্ডু
-
দু’মাস বেতনহীন কলকাতা পুরসভা! টাকা পাচ্ছেন না ১০০ দিনের কাজের ১৫ হাজার পুরকর্মী
-
আপাতত ক্যামাক স্ট্রিটের কার্যালয় থাকছে অভিষেকেরই! নিম্ন আদালতের নির্দেশে হস্তক্ষেপ করল না হাই কোর্ট
-
ভেজ খাবারে এলার্জি? পুজোর আগে রোগা হতে ব্রহ্মাস্ত্র হতে পারে এই নিরামিষ ডায়েট