Nepal

গাড়ি কিংবা বাইকে নেপাল যেতে চান? বলেন শাহ সরকারের নয়া ফরমান না জানলে মুশকিলে পড়বেন

নেপাল সরকারের তরফে জানানো হয়েছে, কোনও ভাবেই সময় সীমা বাড়ানো হবে না। পাশাপাশি ভারতীয় নম্বরের গাড়ি নেপালের প্রবেশ করার আগেই টেম্পোরারি ইমপোর্ট ভেহিকল সিস্টেমে নথিভুক্ত করতে হবে। নতুন অনলাইন পোর্টালের মাধ্যমে বাড়িতে বসে গাড়ির তথ্য জমা করে ফি মেটানো যাবে।

বিশ্বজ্যোতি ভট্টাচার্য
বিশ্বজ্যোতি ভট্টাচার্য

শেষ আপডেট: মে ১২, ২০২৬, ২১:৪৩

options
link
গাড়ি কিংবা বাইকে নেপাল যেতে চান? বলেন শাহ সরকারের নয়া ফরমান না জানলে মুশকিলে পড়বেন
ফাইল ছবি।

ব্যক্তিগত গাড়ি নিয়ে অথবা বাইকে হাতের কাছে বিদেশ নেপালে বেড়াতে যেতে মন চাইছে! তবে সাবধান। কারণ, এখন আর আগের মতো ওই দেশে যতদিন খুশি থাকতে পারবে ভারতীয় নম্বরের গাড়ি। মাত্র ৩০ দিনই সেই দেশে থাকার অনুমতি মিলবে। শুধু তাই নয়, সীমান্তে অথবা অনলাইন পোর্টালে ‘টেম্পোরারি ইমপোর্ট ভেহিকল’ রেজিস্ট্রেশন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। পর্যটকদের সঙ্গে রাখতে হবে আধার কার্ড, ভোটার কার্ডের মতো বৈধ পরিচয়পত্র। বলেন শাহ নেতৃত্বাধীন নেপাল সরকারের নয়া ফরমান ঘিরে বিভিন্ন মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।

Advertisement

যদিও নেপাল সরকারের তরফে দাবি করা হয়েছে, সীমান্তে ভিড় কমানো, কর ফাঁকি ও নিয়মভঙ্গ রুখতে নতুন ডিজিটাল ব্যবস্থা চালু করেছে নেপালের অর্থ মন্ত্রকের ‘ডিপার্টমেন্ট অফ কাস্টমস’। চালু করা হয়েছে অনলাইন টেম্পোরারি ইমপোর্ট ভেহিকল রেজিস্ট্রেশন প্ল্যাটফর্ম। ওই ডিজিটাল পরিষেবার উদ্বোধন করেছেন নেপালের অর্থমন্ত্রী স্বর্ণিম ওয়াগলে। নেপালের এমন সিদ্ধান্তের মধ্যে অস্বাভাবিক কিছু দেখছে না ভারতের ট্যুর অপারেটর সংস্থাগুলো। তাদের দাবি, ট্যাক্স ফাঁকি দিতে নেপালে ভারতীয় নম্বরের গাড়ি বেশি চলাচল করে। নেপালের বাসিন্দাদের অনেকেই ভারত থেকে তুলনায় কম দামে গাড়ি কিনে ওই দেশে চালাচ্ছেন। সেই গাড়িগুলো নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবং সরকারের রাজস্ব বাড়াতে ওই ব্যবস্থা নিয়েছে নেপাল সরকার। এর কোনও প্রভাব পর্যটন শিল্পে পড়বে না। কারণ, পর্বতারোহী ছাড়া সাধারণ পর্যটকদের কেউ একমাসের জন্য নেপাল ভ্রমণে যায় না। হেল্প ট্যুরিজমের কর্ণধার রাজ বসু বলেন, ”১৯৫০ সালের ভারত-নেপাল চুক্তি অনুযায়ী দুই দেশের মধ্যে যাতায়াত অবাধ। এখানে ভিসা পাসপোর্টের প্রয়োজন হয় না। স্বভাবতই পর্যটকদের ভ্রমণে কোনও বাধা নেই। ট্যাক্স ফাঁকি এড়াতে শুধুমাত্র ভারতীয় নম্বরের গাড়ি চলাচলে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।”

Advertisement

হেল্প ট্যুরিজমের কর্ণধার রাজ বসু বলেন, ”১৯৫০ সালের ভারত-নেপাল চুক্তি অনুযায়ী দুই দেশের মধ্যে যাতায়াত অবাধ। এখানে ভিসা পাসপোর্টের প্রয়োজন হয় না। স্বভাবতই পর্যটকদের ভ্রমণে কোনও বাধা নেই। ট্যাক্স ফাঁকি এড়াতে শুধুমাত্র ভারতীয় নম্বরের গাড়ি চলাচলে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।”

জানা গিয়েছে, নেপালের নয়া ডিজিটাল ব্যবস্থায়, পর্যটকদের নিয়ে ভারতীয় নম্বরের কোনও গাড়ি এখন থেকে নেপালে সর্বোচ্চ ৩০ দিন রাখার অনুমতি দেওয়া হবে। ওই ৩০ দিন একটানা হতে পারে। ভাগ করে একাধিক সফরেও মিলবে। নেপাল সরকারের তরফে জানানো হয়েছে, কোনও ভাবেই সময় সীমা বাড়ানো হবে না। পাশাপাশি ভারতীয় নম্বরের গাড়ি নেপালের প্রবেশ করার আগেই টেম্পোরারি ইমপোর্ট ভেহিকল সিস্টেমে নথিভুক্ত করতে হবে। নতুন অনলাইন পোর্টালের মাধ্যমে বাড়িতে বসে গাড়ির তথ্য জমা করে ফি মেটানো যাবে। রেজিস্ট্রেশনের পর ই-মেলে কিউআর কোড পাঠানো হবে। সেটাই ডিজিটাল পারমিট হিসেবে কাজ করবে। যে পর্যটকরা গাড়ি নিয়ে কয়েকদিনের জন্য নেপাল ভ্রমণের পরিকল্পনা নিয়েছেন তাঁদের টোল ট্যাক্স দিতে হবে। ওই ট্যাক্স দু’চাকার গাড়ির ক্ষেত্রে কম এবং চার চাকার গাড়ির ক্ষেত্রে বেশি হবে। নিয়ম না-মানলে মোটা টাকা জরিমানা দিতে হবে। এমনকি গাড়ি বাজেয়াপ্ত করে নিলাম করা হতে পারে। পাশাপাশি এখন থেকে নেপাল ভ্রমণের জন্য ভারতীয় পর্যটকদের আধার কার্ড, ভোটার আইডি অথবা পাসপোর্টের মতো বৈধ পরিচয়পত্র সঙ্গে রাখা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

Advertisement

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Share this article on

The article link is copied.