Allahabad High Court

পণের দাবিতে খুনে স্বামীকে শাস্তি দিতে প্রমাণের প্রয়োজন নেই! চাঞ্চল্যকর রায় এলাহাবাদ হাই কোর্টের

পণের দাবিতে অত্যাচার মামলায় আরও কড়া আদালত। তবে একই সঙ্গে ওই ব্যক্তির শাস্তি কমিয়ে দিয়েছে হাই কোর্ট।

সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: আগস্ট ৯, ২০২৬, ১৩:২৮

options
link
পণের দাবিতে খুনে স্বামীকে শাস্তি দিতে প্রমাণের প্রয়োজন নেই! চাঞ্চল্যকর রায় এলাহাবাদ হাই কোর্টের
এলাহাবাদ হাই কোর্ট। ফাইল ছবি।

পণের দাবিতে অত্যাচার। এবং সেই অত্যাচারে বধূর মৃত্যু নিয়ে চাঞ্চল্যকর রায় দিল এলাহাবাদ হাই কোর্ট। একটি মামলার প্রেক্ষিতে আদালত যা সিদ্ধান্ত নিয়েছে তার সারমর্ম হল, বিয়ের ৭ বছরের মধ্যে যদি কোন মহিলা শারীরিকভাবে হেনস্তার কারণে প্রাণ হারান, তাহলে ধরে নেওয়া যেতে পারে যে তিনি পণের দাবিতে অত্যাচারিত। এক্ষেত্রে তাঁর স্বামী এবং শ্বশুরবাড়ির অন্য সদস্যদের বিরুদ্ধে সরাসরি কোনও প্রমাণের প্রয়োজন নেই।

Advertisement

সম্প্রতি এলাহাবাদ হাই কোর্টের লখনউ বেঞ্চে সন্দীপ সিং হোরা নামের এক অভিযুক্ত ব্যক্তি শাস্তি মকুবের আবেদন জানান। তাঁর বিরুদ্ধে পণের দাবিতে স্ত্রীকে খুন করার অভিযোগ ছিল। নিম্ন আদালত ওই ব্যক্তিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয়। কিন্তু অভিযুক্ত স্বামীর যুক্তি ছিল, তাঁর বিরুদ্ধে অত্যাচারের সরাসরি কোনও প্রমাণ মেলেনি। তিনি নির্দোষ। এলাহাবাদ হাই কোর্টের বিচারপতি আবদুল মইন এবং প্রমোদ কুমার শ্রীবাস্তব ওই অভিযুক্তের শাস্তি মকুব করতে রাজি হয়নি। তবে হ্যাঁ, শাস্তি কমিয়ে যাবজ্জীবন থেকে ১০ বছরের জেল করা হয়েছে।

Advertisement

মূল ঘটনাটি ১৬ বছর আগের। ২০১০ সালে হোরার স্ত্রীর মৃত্যু হয়। নিম্ন আদালত পণের দাবিতে অত্যাচারের অভিযোগে হোরাকে যাবজ্জীবন সাজা দেয়। হাই কোর্ট জানিয়ে দিল, “পণের দাবিতে অত্যাচারে মৃত্যুর ক্ষেত্রে শুধু পণের দাবিতে হেনস্তার প্রমাণ পাওয়াই যথেষ্ট। স্বামীই সেই হেনস্তা করেছেন, বা সরাসরি শ্বশুরবাড়ির কোনও সদস্যই হেনস্তা করেছেন, তেমন সরাসরি প্রমাণ থাকাটা বাধ্যতামূলক নয়।”

Advertisement

তবে একই সঙ্গে ওই ব্যক্তির শাস্তি কমিয়ে দিয়েছে হাই কোর্ট। এলাহাবাদ হাই কোর্ট বলছে, ভারতীয় ন্যায় সংহিতায় পণের দাবিতে অত্যাচারের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে। কিন্তু সেটা বিরলতম অপরাধের ক্ষেত্রে। এক্ষেত্রে যেহেতু স্বামীর বিরুদ্ধে সরাসরি হেনস্তার প্রমাণ নেই, তাই অভিযুক্তের শাস্তি কমিয়ে ১০ বছর করা হচ্ছে। এ পর্যন্ত যতদিন তিনি জেল হেফাজতে ছিলেন, সেটাকেও ওই ১০ বছরের মধ্যেই ধরে নিতে হবে।

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Share this article on

The article link is copied.