Odisha

ওড়িশায় মৃত বোনের টাকা আদায়ে কঙ্কাল নিয়ে ব্যাঙ্কে, তদন্তে কর্মীদের দিকেই উঠছে আঙুল

যে ভিডিও সোশাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছিল সেখানে দেখা যায়, রোদের মধ্যে প্রায় তিন কিলোমিটার হেঁটে ব্যাঙ্কে এসেছেন জিতু এক ব্যক্তি। তাঁর কাঁধে কাপড়ে জড়ানো রয়েছে একটি কঙ্কাল। সেটি তাঁর বোন কাকরা মুন্ডার।

Advertisement
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: এপ্রিল ৩০, ২০২৬, ১৮:৫১

options
link
ওড়িশায় মৃত বোনের টাকা আদায়ে কঙ্কাল নিয়ে ব্যাঙ্কে, তদন্তে কর্মীদের দিকেই উঠছে আঙুল

বোন মৃত প্রমাণ দিতে ব্যাঙ্কে তাঁর কঙ্কাল নিয়ে হাজির হন ভাই। বিতর্কিত এই ঘটনা সামনে আসতেই দেশজুড়ে হইচই শুরু হয়। ব্যাঙ্ক কর্মীদের অমানবিক আচরণ নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। অস্বস্তিতে পড়ে তড়িঘড়ি তদন্তের নির্দেশ দেন ওড়িশার মুখ্যমন্ত্রী মোহন চরণ মাঝি। সেই তদন্ত রিপোর্টে দোষী বলা হচ্ছে ইন্ডিয়ন ওভারসিস ব্যাঙ্কের কর্মীদের। বছর ৫০-এর জিতু মুন্ডাকে ব্যাঙ্ক কর্মীরা সহযোগিতা করেননি। টাকা তোলার পদ্ধতির বিষয়টি ঠিক ভাবে বোঝানোই হয়নি বলেই অভিযোগ।

Advertisement

তদন্তে নেমে রেভিনিউ ডিভিশনাল কমিশনার অফিসের আধিকারিকরা ব্য়াঙ্কের সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ খতিয়ে দেখেন। ব্যাঙ্ক কর্মীদের সঙ্গে কথা বলেন। পাশাপাশি দিনালি গ্রামে গিয়ে জিতু মুন্ডার সঙ্গেও কথা বলেন তাঁরা। সব শেষে জানানো হয়েছে, জিতু এবং তাঁর মৃত বোন জামানো ১৯ হাজার টাকা তুলতে বারবার ব্যাঙ্কে গিয়েছিলেন। কঙ্কাল নিয়ে যাওয়ার আগে সেদিনই ব্যাঙ্ক ম্যানেজারের সঙ্গে দেখা করার চেষ্টা করেন। মিনিট তিরিশ ব্যাঙ্কে ছিলেন জিতু। এর পরেও কাজ না হওয়ায় হতাশ হয়ে কবর খুড়ে বোনোর কঙ্কাল নিয়ে ব্যাঙ্কে হাজির হয়েছিলেন।

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'ফুটবল বিশ্বযুদ্ধ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন
Advertisement

ঘটনার সূত্রপাত দিনকয়েক আগে। যে ভিডিও সোশাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছিল সেখানে দেখা যায়, রোদের মধ্যে প্রায় তিন কিলোমিটার হেঁটে ব্যাঙ্কে এসেছেন জিতু এক ব্যক্তি। তাঁর কাঁধে কাপড়ে জড়ানো রয়েছে একটি কঙ্কাল। সেটি তাঁর বোন কাকরা মুন্ডার। ইন্ডিয়ান ওভারসিস ব্যাঙ্কের গ্রাহক ছিলেন কাকরা। মাস দু’য়েক আগে মৃত্যু হয়েছিল তাঁর। কাকরার স্বামী ও সন্তানের আগেই মৃত্যু হওয়ায় ব্যাঙ্কে তাঁর জমা রাখা অর্থের দাবিদার ছিলেন ভাই জিতু। ব্যাঙ্কে তাঁর জমানো টাকার পরিমাণ ছিল ১৯৪০২ টাকার কিছু বেশি। তবে সেই টাকা তুলতে রীতিমতো হয়রানির শিকার হতে হয় জিতুকে।

Advertisement

অভিযোগ প্রথমে ব্যাঙ্কের তরফে জানানো হয়, টাকা নেওয়ার জন্য হোল্ডারকে আসতে হবে। অথচ হোল্ডার কাকরার আগেই মৃত্যু হয়েছে। এরপর ব্যাঙ্ক জানায় তাঁর ডেথ সার্টিফিকেট আনতে হবে, আনতে হবে উত্তরাধিকার প্রমাণের জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র। এইসব ঝক্কির মাঝেই পড়ে শেষে কবর খুঁড়ে বোনের মৃতদেহ তুলে আনেন জিতু। এবং তা নিয়ে হাজির হন ব্যাঙ্কে। এই ঘটনা দেখে রীতিমতো আঁতকে ব্যাঙ্ককর্মীরা। খবর দেওয়া হয় পুলিশকে। ঘটনা সামনে আসতেই ব্যাঙ্ক কর্মীদের বিরুদ্ধে দায়িত্বহীনতার অভিযোগ ওঠে। তবে যাবতীয় অভিযোগ অস্বীকার করে অবশেষে এই ইস্যুতে মুখ খোলে ব্যাঙ্ক।

এক্স হ্যান্ডেলে ব্যাঙ্কের তরফে বিবৃতি দিয়ে জানানো হয়েছে, ওই ব্যক্তি মদ্যপ ছিলেন। ব্যাঙ্কের তরফে মৃত ব্যক্তিকে সশরীরে উপস্থিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল বলে যে দাবি করা হচ্ছে তা ভিত্তিহীন ও মিথ্যা। ব্যাঙ্ক নিয়ম অনুযায়ী, টাকা তোলার ক্ষেত্রে যা যা পদক্ষেপ করার জরুরি সেই নির্দেশই দিয়েছিল। এবং সেই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে মৃতের অ্যাকাউন্টে থাকা ১৯,৪০২ টাকা ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে। যদিও প্রাথমিক তদন্ত রিপোর্টে ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষের অসহযোগিতার বিষয়টিই উঠে এল। 

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'ফুটবল বিশ্বযুদ্ধ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Share this article on

The article link is copied.