Sikkim

ভারী বৃষ্টি, তুষারধসে বিপর্যস্ত উত্তর সিকিমে কমলা সতর্কতা, উত্তরবঙ্গেও ক্রমশ খারাপ হচ্ছে আবহাওয়া

জাতীয় সড়কের বিভিন্ন জায়গাতেও ধস নামার খবর এসেছে।

সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: মে ১৩, ২০২৫, ২০:২৩

options
link
ভারী বৃষ্টি, তুষারধসে বিপর্যস্ত উত্তর সিকিমে কমলা সতর্কতা, উত্তরবঙ্গেও ক্রমশ খারাপ হচ্ছে আবহাওয়া

বিশ্বজ্যোতি ভট্টাচার্য, শিলিগুড়ি: সোমবার বিকেল থেকে উত্তরবঙ্গের একাধিক জেলায় বৃষ্টি চলছে। ভারী বৃষ্টি হয়েছে সিকিমে। শুধু তাই নয়, উত্তর সিকিমে তুষারঝড়ও হয়েছে বলে খবর। প্রতিকূল আবহাওয়ায় বিপর্যস্ত বিভিন্ন জায়গার বিদ্যুৎ পরিষেবা। ১০ নম্বর জাতীয় সড়কের একাধিক জায়গায় নতুন করে ধস নেমেছে। জলস্তর বেড়ে যাওয়ায় রীতিমতো ফুঁসছে রানিখোলা ও তিস্তানদী। উত্তরবঙ্গের দার্জিলিং, জলপাইগুড়ি-সহ একাধিক জেলাতেও ভারী বৃষ্টির আশঙ্কার কথা জানানো হয়েছে।

Advertisement

সোমবার বিকেল থেকে সিকিমজুড়ে ঝেঁপে বৃষ্টি নামে। সঙ্গে ঝোড়ো হাওয়ার দাপট। গ্যাংটকে বৃষ্টিপাতের পরিমাণ ১১২ মিলিমিটার। অন্যদিকে মঙ্গনে ১১০ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে। মঙ্গল ও বুধবারেও উত্তর সিকিমের মঙ্গনে অতিভারী বর্ষণের ‘কমলা’ সতর্কতা জারি করেছে আবহাওয়া দপ্তর। এদিকে প্রবল বর্ষণের জেরে সোমবার সন্ধ্যা থেকে পূর্ব সিকিমের ছাঙ্গু হ্রদ উপত্যকা এবং চিন সীমান্তের না-থুলা পাস এলাকায় আবহাওয়া দপ্তরের পূর্বাভাস মতোই তুষারপাত শুরু হয়। রাতভর তুষারপাতের জেরে বরফের পুরু চাদরে মুড়ে যায় গোটা পাহাড়ি জনপদ। অবরুদ্ধ রাস্তা। সিকিমে তেমন পর্যটক না থাকায় তুষারে আটকে পড়ার মতো বিপত্তির খবর মেলেনি। উত্তর সিকিমের গুরুদোংমার হ্রদ এলাকায় দফায় দফায় ভারী তুষারপাত শুরু হয়।

Advertisement

এখানে তুষারপাতের তীব্রতায় সিচেতে পাহাড়ের ঢাল ধসে পড়ে। বিদ্যুৎদপ্তরের ৬৬/১১ কেভি সাব স্টেশন বিধ্বস্ত হয়। সাব স্টেশনের ১১ কেভি কন্ট্রোল রুম এবং ১১ কেভি ফিডার প্যানেল মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। কাদা এবং জলে তলিয়ে বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম, ব্যাটারি সিস্টেম ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ওই পরিস্থিতিতে সিচে এবং রাঙ্কায় বিদ্যুৎ পরিষেবা বিপর্যস্ত হয়েছে। এদিকে গ্যাংটকের বোজোঝারি এলাকায় ভূমিধস নেমেছে। বিরাট বোল্ডার পড়ে দুমড়ে গিয়েছে বেশ কয়েকটি ছোট গাড়ি। মঙ্গলবার সকালে তাদং-এর কলেজ ভ্যালির কাছে ১০ নম্বর জাতীয় সড়কে ধস নামে। সড়ক অবরুদ্ধ হয়ে পড়ায় ব্যস্ততম রুটে যানবাহন চলাচল ব্যাহত হয়। লাগাতার বৃষ্টির জেরে সিকিমের রানিখোলা, তিস্তা নদী-সহ বিভিন্ন ঝোরা ফুঁসছে।

Advertisement

অন্যদিকে উত্তরের দার্জিলিং, কালিম্পং, কোচবিহার, জলপাইগুড়ি, আলিপুরদুয়ারের কিছু জায়গায় বজ্রবিদ্যুৎ-সহ ভারী বৃষ্টি হতে পারে। মঙ্গলবার মালদহ এবং দুই দিনাজপুর জেলার কিছু জায়গায় হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টিপাত হয়। কেন্দ্রীয় আবহাওয়া দপ্তরের সিকিম কেন্দ্রের অধিকর্তা গোপীনাথ রাহা বলেন, “উত্তরবঙ্গের জেলাগুলিতে এই সপ্তাহজুড়ে বৃষ্টি চলবে। জলপাইগুড়ি, কোচবিহার ও আলিপুরদুয়ারে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টি হতে পারে। দার্জিলিং ও কালিম্পং পাহাড়েও ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।”

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Share this article on

The article link is copied.