PM Modi

কেরলে আত্মবিশ্বাসী হলেও বাংলা জয়ে ভিন্ন সুর, কী বার্তা ‘সাবধানী’ মোদির?

নীতীনকে স্বাগত জানিয়ে নিজের বক্তৃতায় কেরল প্রসঙ্গে মোদি দৃঢ়তার সঙ্গে বলেন, “কেরলে বিজেপি দ্রুত শক্তিশালী হচ্ছে। সেখানকার মানুষ দীর্ঘদিনের পুরনো রাজনৈতিক ধারার পরিবর্তন চাইছে, আর সেই পরিবর্তনের মুখ হবে বিজেপি।”

সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: জানুয়ারি ২১, ২০২৬, ১৩:৩৩

options
link
কেরলে আত্মবিশ্বাসী হলেও বাংলা জয়ে ভিন্ন সুর, কী বার্তা ‘সাবধানী’ মোদির?
নয়াদিল্লিতে দলীয় সদর দপ্তরে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, রাজনাথ সিং, অমিত শাহ, জেপি নাড্ডা, বিজেপির জাতীয় সাধারণ সম্পাদক (সংগঠন) বিএল সন্তোষের উপস্থিতিতে দলের নতুন জাতীয় সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করছেন নীতীন নবীন। মঙ্গলবার। –পিটিআই

কেরলে ক্ষমতায় আসার ব্যাপারে স্পষ্ট আত্মবিশ্বাসী সুর, অথচ পশ্চিমবঙ্গ সম্পর্কে তুলনামূলক সাবধানি, সতর্ক অবস্থান নরেন্দ্র মোদির! ২০২৬-এ পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতায় আসা নিয়ে স্পষ্ট, জোরালো দাবি শোনা যায়নি তাঁর কথায়।

Advertisement

মঙ্গলবার দিল্লির বিজেপি সদর দপ্তরে দলের নবনির্বাচিত সর্বভারতীয় সভাপতি নীতীন নবীনের অভিষেক অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর ভাষণেই এই ভিন্ন সুর ধরা পড়েছে। কেরলে বিজেপির দ্রুত শক্তিবৃদ্ধি, কেরলের মানুষের পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষার মুখ হয়ে ওঠার কথা শোনা গেলেও বাংলা নিয়ে তেমন জোরদার দাবি উচ্চারিত হয়নি। রাজনৈতিক মহলের মতে, এ রাজ্যের সাম্প্রতিক নির্বাচনী অভিজ্ঞতা এবং বাংলার জটিল রাজনৈতিক বাস্তবতা মাথায় রেখেই কৌশলী বার্তা দিতে চেয়েছেন তিনি।

Advertisement

নীতীনকে স্বাগত জানিয়ে নিজের বক্তৃতায় কেরল প্রসঙ্গে মোদি দৃঢ়তার সঙ্গে বলেন, “কেরলে বিজেপি দ্রুত শক্তিশালী হচ্ছে। সেখানকার মানুষ দীর্ঘদিনের পুরনো রাজনৈতিক ধারার পরিবর্তন চাইছে, আর সেই পরিবর্তনের মুখ হবে বিজেপি।” তাঁর দাবি, দক্ষিণের এই রাজ্যে আগামী দিনে দল আরও শক্তিশালী জায়গায় পৌঁছবে। একই সঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন, “পশ্চিমবঙ্গ ও তেলঙ্গানায় বিজেপি জনতার বড় আওয়াজ হিসাবে উঠে এসেছে।” প্রধানমন্ত্রীর এই মন্তব্যে স্পষ্ট, কয়েকটি রাজ্যে বিজেপির সংগঠন যে ক্রমশ বিস্তার লাভ করছে, তা তিনি বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে দেখছেন। কিন্তু এসআইআর প্রক্রিয়ার প্রেক্ষাপটে শুভেন্দু-শমীক-সুকান্তরা যে ভাষায় তৃণমূলের বিদায় আসন্ন বলে গেরুয়া, কর্মী-সমর্থকদের চাঙ্গা করার চেষ্টা করছেন, মোদির কথায় তেমন ইঙ্গিত ছিল না। বরং পশ্চিমবঙ্গ নিয়ে সরাসরি মন্তব্য করতে গিয়ে এদিন তাঁর গলায় সংযত সুরই শোনা গিয়েছে।

Advertisement

অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী অনুপ্রবেশ সমস্যা নিয়েও কড়া বার্তা দেন। বলেন, “পৃথিবীর কোনও দেশই নিজেদের দেশে অনুপ্রবেশকারীদের আশ্রয় দেয় না। ভারতে অনুপ্রবেশকারীরা আমাদের গরিব ও যুবকদের অধিকার ছিনিয়ে নেয়–তা আমরা প্রতিরোধ করবই।” তাঁর দাবি, অনুপ্রবেশকারীরা দেশের সুরক্ষার স্বার্থে অত্যন্ত ক্ষতিকারক। মোদির কথায়, “ওদের খুঁজে বের করে নিজেদের দেশে ফেরত পাঠাতে হবে।” রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, কোনও দেশের নাম সরাসরি উল্লেখ না করলেও মোদি এই বক্তব্যে আমেরিকা এবং সদ্য দায়িত্ব নেওয়া মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নীতির প্রতি ইঙ্গিত করেছেন।

নতুন সভাপতিকে বরণ করে মোদি বলেন, “দলের উত্তরাধিকারকে এগিয়ে নিয়ে যাবেন নবীন। নবীনই এখন দলের ‘বস’, আর আমি একজন সাধারণ কর্মী।” প্রধানমন্ত্রীর এই মন্তব্যে দলীয় শৃঙ্খলা ও সংগঠনকে সর্বাধিক গুরুত্ব দেওয়ার বার্তা স্পষ্ট বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। তাঁদের মতে, তুলনামূলক কম বয়সি নবীনকে মেনে নিতে দলের প্রবীণ নেতাদের মধ্যে কিছুটা দ্বিধা বা সংকোচ তৈরি হতে পারে–এই আশঙ্কা মাথায় রেখেই প্রধানমন্ত্রী নিজেকে সাধারণ কর্মী হিসাবে তুলে ধরেছেন। এর মাধ্যমে তিনি স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন যে, নতুন সভাপতিকে নেতা বলে মেনে নিয়েই সবাইকে একযোগে কাজ করতে হবে।

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Share this article on

The article link is copied.