সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: সংসদে মহাকুম্ভের প্রশংসায় পঞ্চমুখ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (PM Narendra Modi)। জানালেন, ‘গোটা বিশ্ব মহাকুম্ভের মাধ্যমে ভারতের বিরাট স্বরূপ দর্শন করেছে। মহাকুম্ভ থেকে একতার অমৃত পেয়েছি আমরা।’ পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী জানালেন, বৈচিত্রের মধ্যে ঐক্য, ভারতের এই চেতনার উজ্জ্বল প্রতিফলন দেখা গিয়েছে মহাকুম্ভে। তবে সাফল্যের খতিয়ান তুলে ধরলেও একবারের জন্য প্রধানমন্ত্রীর মুখে শোনা গেল না পদপিষ্ট হয়ে মৃতদের কথা।
মঙ্গলবার সংসদে মহাকুম্ভের আয়োজকদের ধন্যবাদ জানিয়ে এই প্রবিত্র উৎসবের সাফল্য ব্যাখ্যা করেন প্রধানমন্ত্রী। যাঁদের জন্য মহাকুম্ভের মতো বিরাট আয়োজন সফল হয়েছে সেই সকল কর্মী, পুণ্যার্থী ও উত্তরপ্রদেশের জনতাকে ধন্যবাদ জানিয়ে মোদি বলেন, “ভগীরথ যেমন বহু চেষ্টার পর মা গঙ্গাকে মর্তে এনেছিলেন, মহাকুম্ভকে সাফল্যমণ্ডিত করতে সেই একই চেষ্টা আমরা দেখেছি প্রয়াগরাজে। এই উৎসব আমাদের দেশাত্ববোধক চেতনাকে জাগিয়েছে। পাশাপাশি আমাদের সামর্থ নিয়ে যারা প্রশ্ন তুলেছিল তাঁদের উপযুক্ত জবাব দিয়েছে মহাকুম্ভের আয়োজন।” প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, “মহাকুম্ভ থেকে একতার অমৃত পেয়েছি আমরা। দেশের সমস্ত প্রান্ত থেকে আসা মানুষ এক হয়ে গিয়েছেন প্রয়াগরাজের তীর্থক্ষেত্রে। আলাদা আলাদা জায়গা থেকে এসে মানুষ দেশের একজোট হয়েছেন, ‘আমি’ থেকে তাঁরা মিশে গিয়েছেন ‘আমরা’য়। এখানে ছোট-বড়োর কোনও পার্থক্য ছিল না। মহাকুম্ভ হয়ে উঠেছিল একতার এক অনন্য নজির। গোটা বিশ্বে যখন আমরা ভাঙন দেখছি বৈচিত্রের মাঝে ঐক্যের উজ্জ্বল ছবি তুলে ধরেছে মহাকুম্ভ। গোটা বিশ্ব মহাকুম্ভের মাধ্যমে ভারতের বিরাট স্বরূপ দর্শন করেছে।”
মহাকুম্ভের সাফল্য ব্যাখ্যা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “মাঝে মাঝে এমন কিছু ঘটনা ঘটে যা দেশকে নতুন করে জাগিয়ে তোলে। যেমন চৈতন্যদেবের ধর্মীয় আন্দোলন, স্বামী বিবেকানন্দের শিকাগো ভাষণ। স্বাধীনতা আন্দোলনেও এমন বহু মোড় এসেছে যা দেশবাসীকে প্রেরণা দিয়েছে স্বাধীনতার লক্ষ্যে পৌঁছতে। প্রয়াগরাজও তেমনই একটি মোড়।” প্রধানমন্ত্রীর কথায়, “সমস্যা রয়েছে। তবে সেই সমস্যা কাটিয়ে উঠে কোটি কোটি মানুষ প্রয়াগরাজে এসেছেন। মহাকুম্ভ দেখিয়েছে ভারতবাসী তাঁর হারানো গৌরব ও সংস্কৃতিকে পালন করছেন। এই সংস্কৃতিকে সম্মান করার প্রবণতা আগের তুলনায় বেড়েছে। যুব সম্প্রদায়ও ভারতের আস্থা ও সংস্কৃতিকে অবলম্বন করছেন।”
তবে মহাকুম্ভের প্রশংসা করে প্রধানমন্ত্রী গালভরা ভাষণ দিলেও একবারও নিজের ভাষণে উল্লেখ করলেন না প্রয়াগরাজে মৃতদের কথা। প্রশাসনিক গাফিলতির জেরে প্রয়াগরাজে পদপিষ্ট হয়ে মৃত্যু হয় ৩০ জনের। শুধু তাই নয়, মর্মান্তিক ঘটনা এই ঘটনা চেপে যেতে চেষ্টার কোনও ত্রুটি রাখেনই যোগী সরকার। মৃতদের তালিকা প্রকাশ করা হয়নি। অভিযোগ ওঠে লাশ পাচারের। এই মৃত্যুর ঘটনায় তখন অবশ্য শোকপ্রকাশ করেছিলেন দেশের প্রধানমন্ত্রী নিজেও। এবার সংসদে কুম্ভের সাফল্য ব্যাখ্যায় একবারও প্রয়াগরাজে মৃতদের কথা উল্লেখ না করায় স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।
সর্বশেষ খবর
-
রুশ মাটিতে রবীন্দ্র-জয়যাত্রা, কবিগুরুর হাতে আঁকা ছবির প্রদর্শনী শুরু মস্কোয়
-
উচ্চ মাধ্যমিক তৃতীয় সেমিস্টারের সময়সূচি প্রকাশ, কবে থেকে শুরু?
-
‘অযোধ্যার দিকে কুনজর নয়’, রাম মন্দিরে দানের টাকা চুরি প্রসঙ্গে বিরোধীদের তোপ যোগীর
-
গারদে গোটা ‘সিং ব্রাদার্স’! ভোট পরবর্তী হিংসা মামলায় এবার গ্রেপ্তার বারাবনির ‘ত্রাস’ অসিত সিং
-
বাড়ি ভাঙার বর্জ্য থেকে তৈরি হবে ইট! পরিবেশ দূষণ রোধে অগ্নিমিত্রা বললেন ‘প্রযুক্তিই হাতিয়ার’