Pune

বিলাসবহুল কেল্লায় প্রি-ওয়েডিং শুটে ‘খুন’ যুবক, ধাক্কা মেরে খাদে ফেললেন হবু স্ত্রী ও প্রেমিক!

নিহত কেতন মহাবালেশ্বরের একটি বিলাসবহুল রিসর্ট বুক করেন সিয়ার জন্মদিন উদযাপনে। বিয়ের জন্য জয়পুরের একটি প্রাসাদ ভাড়া নেওয়া হয়েছিল। সেই ছেলেকে হত্যার বিষয়টি মানতে পারছেন না কেতনের পরিবারের লোকেরা।

Advertisement ad
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: জুন ২৩, ২০২৬, ১৭:৩০

options
link
বিলাসবহুল কেল্লায় প্রি-ওয়েডিং শুটে ‘খুন’ যুবক, ধাক্কা মেরে খাদে ফেললেন হবু স্ত্রী ও প্রেমিক! zoom
নিহত কেতন বিশাল অগরওয়াল (বাঁ দিকে), অভিযুক্ত বাগদত্তা সিয়া।

বিয়ের একমাস আগে হবু বউ এবং তাঁর বন্ধুদের সঙ্গে পুণের লোহাগড় কেল্লায় বেড়াতে গিয়েছিলেন ২৪ বছরের কেতন বিশাল অগরওয়াল। বিবাহপূর্ব ছবি তোলারও কথা ছিল যুগলের। যদিও উঁচু দুর্গ থেকে ৩৫০ ফুট খাড়াই উপত্যকায় পড়ে মৃত্যু হয় তাঁর। প্রাথমিকভাবে মনে করা হচ্ছিল দুর্ঘটনা। যদিও চাঞ্চল্যকর মোড় নেয় তদন্ত। পুলিশের দাবি, বাগদত্তা তরুণী এবং তাঁর প্রেমিকের ধাক্কায় উপত্যকায় পড়ে যান কেতন। পরিকল্পনা করেই তাঁকে খুন করা হয়েছে।  

পুলিশ জানতে পেরেছে, বিয়ের ঠিক একমাস আগে বাগদত্তা তরুণীর জন্মদিন উদযাপন করতেই কেল্লায় গিয়েছিলেন সকলে মিলে। কেতন জানতেন না হবু বধূ সিয়া গোয়েলের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক রয়েছে চেতন চৌধুরী নামের এক যুবকের। পরিবার কেতনের সঙ্গে বিয়ে ঠিক করলেও তলে তলে তাঁকে খুনের পরিকল্পনা করেছিলেন সিয়া ও চেতন। পুলিশের দাবি, প্রেমিক যুগল এর আগেও তাঁদের পরিকল্পনা বাস্তবায়নের চেষ্টা করেছিলেন। গত ১৪ই জুনও তাঁরা কেতনকে লোহাগড়ে নিয়ে গিয়েছিলেন। হঠাৎই সাপের আক্রমণের ভয় দেখিয়ে তাঁকে উপত্যকায় ফেলে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়। যদিও সেবার পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হয়নি। অন্যদিকে কেতন ষড়যন্ত্রের আঁচ পাননি।

এরপর ১৯ জুন লোহাগড়ে আরও একটি ট্রেকিং অভিযানের পরিকল্পনা করেন সিয়া। সেই মতোই সকলে মিলে উঁচু পাহাড়ের উপরের কেল্লায় যান। মওকা বুঝে একটি নির্জন জায়াগায় কেতন আগরওয়ালকে পিছন থেকে ধাক্কা মারেন সিয়া ও চেতন। এর ফলেই ৩৫০ ফুট নিচে পড়ে মৃত্যু হয় চেতনের। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাটি কোনওভাবেই দুর্ঘটনা ছিল না, বরং এটি একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড।

কেতন আগরওয়ালের পরিবারের এক সদস্য জানিয়েছেন, বিয়ের আগে বালি যাওয়ার কথা ছিল যুগলের। বেড়ানোর সমস্ত আয়োজন সম্পন্ন হয়েছিল। বাড়ি থেকে রওনাও হয়েছিলেন তাঁরা। কিন্তু যাত্রাপথে সিয়া জানান, পাসপোর্ট হারিয়ে ফেলেছেন। এর ফলেই সেই ভ্রমণ বাতিল করতে হয়। পরিবারের ওই সদস্য আরও জানান, কেতন মহাবালেশ্বরের একটি বিলাসবহুল রিসর্ট বুক করেন সিয়ার জন্মদিন উদযাপনের জন্য। বিয়ের জন্য জয়পুরের একটি প্রাসাদ ভাড়া নেওয়া হয়েছিল। সেই ছেলেকে হত্যার বিষয়টি মানতে পারছেন না কেতনের পরিবারের লোকেরা।

পুলিশ জানিয়েছে, আটক করে জিজ্ঞাসাবাদের সময় সিয়া তথ্য গোপন করছেন, বিষয়টি স্পষ্ট হতেই তদন্ত অন্য দিকে মোড় নেয়। তদন্তকারীরা এরপর তাঁর মোবাইল ফোনের রেকর্ড, সোশাল মিডিয়া পোস্ট এবং অন্যান্য ডিজিটাল প্রমাণ খতিয়ে দেখেন। এই মুহূর্তে হত্যাকাণ্ডের আরও কিছু প্রমাণ সংগ্রহ করে বিষয়টিতে নিশ্চিত হতে চাইছে পুলিশ।

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন