ধর্ষিতার সন্তানকে জীবন্ত কবর

'মায়ের শরীরটাকে জোর করে ভোগ করেছিল কয়েকটা পিশাচ৷ এমন সন্তান পৃথিবীর আলো দেখলে তো ডুবে মরতে হবে পরিবারকে৷'

সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: জানুয়ারি ১৫, ২০১৭, ০৮:৫২

options
link
ধর্ষিতার সন্তানকে জীবন্ত কবর

সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: আঁতুড়ঘরের বাইরে কান খাড়া করে অপেক্ষা করছিল একটা জটলা৷ বর্ষবরণের রাত৷ কিন্তু, কোথাও তেমন আলো জ্বলছে না৷ কান পাতলে শোনা যায় শুধু গোঙানির শব্দ৷ হঠাত্‍ সেটাও থেমে গেল৷ কানে এল একটা মিহি গলার চিৎকার৷ সদ্যোজাতের কান্না৷ অমনই নড়েচড়ে উঠল ভিড়টা৷ ঘরের ভিতরে ঢুকল একজন৷ প্রায় সঙ্গে সঙ্গেই বেরিয়েও এল৷ হাতে কাপড়ে মোড়া একটি শিশু৷ হাত পা নাড়ছে৷ চেঁচাচ্ছে৷ ভিড় থেকে আরেকজন এগিয়ে এসে মুখের ভিতর কাপড় গুঁজে দিল শিশুটির৷ পাশেই মাঠ, সেখানে মাটি কুপিয়ে গর্ত খুঁড়ে অপেক্ষা করছিল একজন৷ জটলাটা সেখানে এল৷ শিশুটিকে গর্তে শুইয়ে চাপা দিল মাটি৷ তারপর সন্তর্পণে ফিরে এল ঘরে…৷

Advertisement

(লেকটাউনে ধর্ষিতা নাবালিকা ভিক্ষুক)

ঘটনা মধ্যপ্রদেশের৷ ঘটনাক্রম কাল্পনিক৷ তবে পুলিশের ধারণা, এভাবেই ১৩ বছরের এক আদিবাসী মায়ের সন্তানকে আঁতুড়ঘর থেকে ছিনিয়ে নিয়ে জীবন্ত কবর দিয়েছে মেয়েটির পরিজনরা৷ পারিবারিক ‘সম্মান রক্ষার্থে’৷ যুক্তি অকাট্য – “বাপের ঠিক নেই৷ মায়ের শরীরটাকে জোর করে ভোগ করেছিল কয়েকটা পিশাচ৷ এমন সন্তান পৃথিবীর আলো দেখলে তো ডুবে মরতে হবে পরিবারকে৷ তাই যা হয়েছে ভালর জন্যই হয়েছে৷ বড় হলে এর জন্য বাবা-মাকে ধন্যবাদ দেবে মেয়ে৷” কুর্কীর্তি ফাঁস হওয়ার পর হাবেভাবে এমনটাই বুঝিয়েছে পরিবার৷ কৃতকর্মের জন্য লজ্জা নেই তাদের৷ কেনই বা হবে? লজ্জা ঢাকতেই তো এমন কাজ৷

Advertisement

শেষ পর্যন্ত অবশ্য এত গোপনীয়তা মাঠে মারা গিয়েছে৷ শুক্রবার মধ্যপ্রদেশের খান্ডালগ-আমুর গ্রাম থেকে ওই সদ্যোজাতের দেহ খুঁজে পেয়েছে পুলিশ৷ প্রকাশ্যে এসেছে গোটা ঘটনাটিও৷ আর তারপরেই সামনে এসেছে একের পর এক প্রশ্ন৷ ঘটনার নিন্দায় মুখর হয়েছে শিক্ষিত সমাজ৷
প্রশ্ন তুলেছে কেন সমাজের দোহাই দিয়ে এই নির্মম হত্যা? এভাবে সদ্যোজাতকে জীবন্ত কবর না দিয়ে কেন গর্ভপাত করানো হয়নি ১৩ বছরের আদিবাসী কিশোরীর? নির্দিষ্ট সময়সীমা (২০ সপ্তাহ)-র মধ্যে গর্ভপাত আইনসিদ্ধ৷ ১৩ বছরের কিশোরী যে পরিস্থিতির সাপেক্ষে মা হয়েছে, তাতে আগেই গর্ভপাত করানো যেত৷ তবু কিশোরীর পরিবার সেই চেষ্টা করেনি৷

Advertisement

(মডেলিংয়ের মোহে ভোপালে ধর্ষিতা বাঙালি বধূ)

কেউ কেউ প্রশ্ন তুলেছে, ধর্ষণকারীরা কি এব্যাপারে চাপ সৃষ্টি করেছিল পরিবারটির উপর? আদিবাসী ওই কিশোরী মধ্যপ্রদেশের আলিরাজপুর জেলার একটি আবাসিক স্কুলে থেকে পড়াশোনা করত৷ পুলিশ জেনেছে শিশুটিকে কবর দেওয়ার ঘটনায় জড়িত ছিল কিশোরীর স্কুলের কিছু কর্মীও৷ স্বাভাবিক বিষয়টি নিয়ে সন্দেহ জেগেছে৷ প্রশ্ন উঠেছে, তবে কি স্কুলের ক্যাম্পাসেই ধর্ষণ করা হয়েছে ওই কিশোরীকে৷ বিষয়টি নিয়ে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ৷ ধর্ষণের কোনও রিপোর্ট দায়ের করা হয়েছিল কি না তা-ও খতিয়ে দেখা হচ্ছে৷ পুলিশ জানিয়েছে, সদ্যোজতের মৃতদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে৷ ঘটনার জন্য কারা দায়ী তা জানতে ডিএনএ পরীক্ষাও করা হবে৷

(চিত্র প্রতীকী)

(বেশি সুখ দিয়েছে কে? পুলিশের প্রশ্ন ধর্ষিতাকে)

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Share this article on

The article link is copied.