Subhash Chandra

২২ হাজার কোটির ঋণ শোধ মাত্র ৬.৫ কোটিতে! বিরাট স্বস্তি পেলেন জি গ্রুপের কর্ণধার সুভাষ চন্দ্র

বিরাট ঋণের ফাঁদে পড়েও কোনও শাস্তি পেতে হবে না প্রাক্তন বিজেপি সাংসদকে।

সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: আগস্ট ২৭, ২০২৬, ১৬:৪১

options
link
২২ হাজার কোটির ঋণ শোধ মাত্র ৬.৫ কোটিতে! বিরাট স্বস্তি পেলেন জি গ্রুপের কর্ণধার সুভাষ চন্দ্র
জি গ্রুপের কর্ণধার সুভাষ চন্দ্র। ফাইল ছবি।

২২,০০৬ কোটি টাকার ঋণ। অথচ ওই বিপুল ঋণ মকুব হয়ে যাবে স্রেফ সাড়ে ৬ কোটি টাকা দিলেই। ঋণখেলাপি মামলায় বিরাট স্বস্তি পেলেন জি গ্রুপের কর্ণধার তথা প্রাক্তন বিজেপি সাংসদ সুভাষ চন্দ্র। তাঁর দেওয়া ঋণ মকুবের প্রস্তাব গ্রহণ করে নিল আদালত। ফলে তিনি ওই বিরাট ঋণের ফাঁদে পড়েও কোনও শাস্তি পেতে হবে না সুভাষ চন্দ্রকে।

Advertisement

একটা সময় তিনি ছিলেন দেশের একেবারে প্রথম সারির ব্যবসায়ী। এসেল গ্রুপের নানাবিধ ব্যবসায় কোটি কোটি টাকা ঢুকত তাঁর পকেটে। জি গ্রুপের মাধ্যমে দেশের মিডিয়া ব্যবসায় প্রথম সারিতে নাম লিখিয়েছেন। কিন্তু কালের চক্রে সব খুইয়েছেন সুভাষ চন্দ্র। প্রাক্তন বিজেপি সাংসদ এখন ঋণখেলাপি। তাঁর নামের পাশে সব মিলিয়ে ঋণ রয়েছে ২২ হাজার ৬ কোটি টাকা। এবং সেই ঋণ মেটাতে তিনি অপারগ। তবে ওই বিপুল ঋণ মেটাতে না পারলেও প্রাক্তন বিজেপি সাংসদকে খুব একটা সমস্যা পড়তে হচ্ছে না। বরং অতি সস্তায় সেই ঋণ মেটানোর ব্যবস্থা তাঁকে করে দিল ন্যাশনাল কোম্পানি ল’ ট্রাইব্যুনাল।

Advertisement

ন্যাশনাল কোম্পানি ল’ ট্রাইব্যুনালে বেশ কিছুদিন ধরেই সুভাষ চন্দ্রের রিপেমেন্ট প্ল্যান নিয়ে শুনানি চলছিল। সুভাষ চন্দ্র আদালতে জানিয়ে দিয়েছিলেন তিনি ওই বিপুল ঋণ শোধ করতে অপারগ। ব্যক্তিগত সম্পত্তি থেকে বড়জোর সাড়ে ৬ কোটি টাকা শোধ করার সামর্থ্য রয়েছে তাঁর। যা কিনা তাঁর মোট ঋণের ০.০৩ শতাংশ মাত্র। সুভাষ চন্দ্রর ওই প্রস্তাব নিয়ে ঋণদাতাদের মতামত গ্রহণ করা হয়েছিল। ৮০ শতাংশ ঋণদাতাই প্রস্তাব মেনে নিয়েছে। এলআইসি হাউসিং ফাইনান্স, এইচডিএফসি, অ্যাক্সিস, কানারা ব্যাঙ্কের মতো ঋণদাতারা এই প্রস্তাবের বিরোধিতা করেছিল। কিন্তু সংখ্যাগরিষ্ঠ ঋণদাতা এই প্রস্তাব মেনে নিয়েছে। তাঁদের বক্তব্য, এই প্রস্তাব না মানলে যে নামমাত্র অর্থ উদ্ধার হচ্ছে, সেটাও উদ্ধার হত না। তাই প্রস্তাব মানা ছাড়া উপায় ছিল না। শেষপর্যন্ত সংখ্যাগরিষ্ঠ ঋণদাতার প্রস্তাব মেনে ন্যাশনাল কোম্পানি ল’ ট্রাইব্যুনাল সুভাষ চন্দ্রের প্রস্তাব মেনে নিয়েছে।

Advertisement

ওই প্রস্তাব অনুযায়ী, মোট ৬ কোটি ২৫ লক্ষ টাকা সব ঋণদাতার মধ্যে ভাগ করে দেওয়া হবে। সুভাষ চন্দ্র ওইচুক্তিতে ৯৯.৯৭ শতাংশ টাকাই ছাড় পাচ্ছেন। উদাহরণ হিসাবে বলা যায়, এলআইসি হাউসিংয়ের কাছে তাঁর ঋণ ছিল ১৩২২ কোটি টাকা। সেই ঋণের মধ্যে মাত্র ৩৯ লক্ষ টাকা ফেরত পাবে এলআইসি। ন্যাশনাল কোম্পানি ল’ ট্রাইব্যুনাল জানিয়ে দিয়েছে, যে সব সংস্থা ওই প্রস্তাব মানতে রাজি হয়নি, সেসব সংস্থাকেও এই সিদ্ধান্ত মানতে হবে।

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Share this article on

The article link is copied.