Tamil Nadu

এক সাক্ষ্যেই ৯ পুলিশকর্মীর ফাঁসি! তামিলনাড়ুর বাবা-ছেলের মৃত্যুতে চর্চায় মহিলা কনস্টেবল

'আমার সন্তান ও চাকরির গ্যারান্টি দিতে পারেন?' বিচারককে প্রশ্ন করেছিলেন ওই কনস্টেবল। এরপরই তিনি বিস্তারিত বিবরণ দেন ওই বাবা ও ছেলের উপরে হওয়া নির্যাতনের।

সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: এপ্রিল ৮, ২০২৬, ১৬:৪৮

options
link
এক সাক্ষ্যেই ৯ পুলিশকর্মীর ফাঁসি! তামিলনাড়ুর বাবা-ছেলের মৃত্যুতে চর্চায় মহিলা কনস্টেবল
দুই অসহায় মানুষ তাঁদের মৃত্যুর পরে ন্যায় পেলেন রেবতীর সৌজন্যেই।

পুলিশ হেফাজতে মৃত্যু হয়েছিল বাবা-ছেলের। এই ঘটনায় ফাঁসির সাজা দেওয়া হয়েছে ৯ পুলিশকর্মীকে। তামিলনাড়ুর মাদুরাই জেলার আদালতের এই রায় ঘিরে দেশজুড়ে চর্চা। একটি মামলায় ৯ জনের ফাঁসি, তার উপর তাঁরা সকলেই পুলিশকর্মী। ‘রক্ষকই ভক্ষক’ প্রবাদটি মনে করিয়ে দিচ্ছে এই ঘটনা। আর এই মামলার রায়দানের নেপথ্যে রয়েছেন হেড কনস্টেবল রেবতী। এই মহিলার সাক্ষ্যের জন্যই নিহতরা ন্যায়বিচার পেলেন বলেই মনে করা হচ্ছে।

Advertisement

বছর ছয়েক আগে দেশজুড়ে বিতর্ক ছড়িয়েছিল ওই দু’জনের মৃত্যুকে ঘিরে। অভিযোগ ছিল, তাঁরা নির্ধারিত সময়ের পরও দোকান খুলে রেখেছিলেন। এরপরই তাঁদের নিয়ে যাওয়া হয় স্থানীয় সাথানকুলম থানায়। সেখান থেকে তাঁদের জেল হেফাজতে পাঠানো হয়। আর এরপরই মৃত্যু হয় দুই অভিযুক্তর। তাঁদের আত্মীয়স্বজনের অভিযোগ ছিল, থানায় রাতভর অত্যাচার চলেছিল বাবা ও ছেলের উপরে। উল্লেখ করা হয়, ধৃতদের পায়ুছিদ্র থেকে রক্তক্ষরণ হচ্ছিল। এবং শারীরিক নির্যাতনের অন্য চিহ্নও মিলেছে। পরে তদন্তভার সিআইডির হাত থেকে সিবিআইয়ের হাতে চলে যায়। আর তাদের পেশ করা চার্জশিটে ১০ জন পুলিশকর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়। যার মধ্যে ছিলেন এক ইন্সপেক্টর, দুই সাব-ইন্সপেক্টর। সকলের বিরুদ্ধেই খুনের অভিযোগ আনা হয়। অবশেষে আদালত ৯ জনকে ফাঁসির নির্দেশ দিল।

Advertisement

আর এই শুনানি চলাকালীন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে ওই মহিলা কনস্টেবলের বয়ান। তিনি বলেছিলেন, ”স্যার, আমি সব বলব আপনাকে। প্রতিটি বিস্তারিত বিবরণ। সত্যিটা লুকিয়ে রাখা হচ্ছে। কিন্তু আমি দু’টো ছোট্ট মেয়ের মা। আপনি কি আমার সন্তান ও চাকরির গ্যারান্টি দিতে পারেন?” এরপরই তিনি বিস্তারিত বিবরণ দেন ওই বাবা ও ছেলের উপরে হওয়া নির্যাতনের। কীভাবে ওই দু’জনের অকথ্য উপর অত্যাচার হয়েছিল তার প্রায় প্রতি মুহূর্তের বর্ণনা দিয়েছিলেন তিনি। জানিয়েছিলেন, শেষপর্যন্ত ওই দু’জনকে বিচারবিভাগীয় হেফাজতে পাঠানো হয়। সেখানেই মৃত্যু হয়েছিল তাঁদের। এছাড়া থানার টেবিলে ও লাঠিতে রক্তের দাগের কথা উল্লেখ করার পাশাপাশি তিনি দাবি করেন, থানার সিসিটিভিও এমন ভাবে সেট করা ছিল, যেখানে একদিনের ফুটেজ পরদিনই মুছে যায়! এই সাক্ষ্যদানই মামলার মোড় ঘুরিয়ে দেয়। দুই অসহায় মানুষ তাঁদের মৃত্যুর পরে ন্যায় পেলেন রেবতীর সৌজন্যেই। এই মামলায় তাই তিনিই ‘হিরো’।

Advertisement

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Share this article on

The article link is copied.